শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

মোহনবাগান মাঠে ব্যারেটো, সেই পুরনো উন্মাদনা ‘সবুজ তোতা’কে ঘিরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর আগে শেষ ম্যাচে তাঁকে নিয়ে যে আবেগ দেখেছিল কলকাতা সেই আবেগে একটুও ভাটা পড়েনি। মোহনবাগান তাঁবুতে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে যখন তিনি বেরালেন তাঁকে দেখে সে কী উচ্ছ্বাস। টানেল দিয়ে মাঠের মধ্যে ঢোকার সময় তাঁর উপর পুষ্পবৃষ্টি হল। দু’দিকে দাঁড়িয়ে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। মুখে একটাই নাম, ‘ব্যা-রে-টো, ব্যা-রে-টো।’ সাত বছর পরেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন হোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটো মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে শুধুমাত্র একটা নাম নয়, তার থেকে বেশি আবেগ, ভালবাসা ও ভরসার মেলবন্ধন।

এখনও যেন সেই আগের মতোই আছেন ব্যারেটো। খেলা ছেড়ে দিলেও শরীরে একফোঁটা মেদ জমেনি। ফুটবল ছাড়লেও ফুটবল তাঁকে ছাড়েনি। বর্তমানে রিলায়েন্সের ইয়ুথ লেভেলে কোচিং করান ব্যারেটো। পাকাপাকিভাবে আস্তানা মুম্বইয়ে। বি লাইসেন্সও পেয়ে গিয়েছেন। এ বার লিক্ষ্য এ লাইন্সেন্স পাওয়ার। সেই জন্যই কিছুদিন মোহনবাগানের সহকারী কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে ব্যারেটোকে। নিজের পুরনো ক্লাবে কোচিং করিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিতে চান তিনি। সোমবার থেকে সপ্তাহখানেক তাই কিবু ভিকুনার সঙ্গেই দেখা যাবে তাঁকে।

ব্যারেটোর মোহনবাগানে সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার খবর শুনে আনন্দিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। তাঁদের প্রিয় ফুটবলার ঘরের মাঠে ফিরছেন, এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে। তাই ব্যারেটো শহরে পা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে সমর্থকরা। সোমবার সকাল সকাল মোহনবাগান মাঠে হাজির হয়েছিলেন কয়েকশ সমর্থক। প্রিয় ফুটবলারকে দেখার জন্য। ব্যারেটোও নিরাশ করলেন না তাঁদের। সেলফির আবদার মেটালেন। যতক্ষণ মাঠে থাকলেন সবুজ তোতা, ততক্ষণ গ্যালারিতে বসে প্র্যাকটিস দেখলেন সবাই। তাঁকে পাকাপাকি বাগান কোচিং টিমে থেকে যাওয়ার আবদারও করলেন অনেকে।

নিজের পুরনো ক্লাবে ফিরতে পেরে আনন্দিত ব্যারেটোও। যে ক্লাবে জীবনের সেরা ফুটবল তিনি খেলেছেন, এত ট্রফি দিয়েছেন, সেই ক্লাবের সমর্থকরা যে সেই আগের মতোই তাঁকে ভালবাসেন সেটা দেখে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। স্বস্তিতে সমর্থকরাও। হোক না এক সপ্তাহ, তাতেই নিজের জাত চেনাতে পারেন ব্যারেটো। তাঁর স্পর্শে হয়তো নতুন রূপে বাগানকে দেখা যাবে আই লিগে।

Comments are closed.