বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

শাকিবের চওড়া ব্যাটেই অঘটনের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ!

অর্পণ গুপ্ত

উইনিং স্ট্রোকটা মারার পরে সমস্ত বাংলাদেশ সমর্থক উত্তাল হয়ে উঠলেও অসম্ভব শান্ত ভাবে উইকেট দুটো তুলে সামান্য হাসলেন ম্যাচের নায়ক শাকিব আল হাসান। ডাগআউটে একবার ধরা হল ক্যাপ্টেন মাশরাফি মোর্তাজার মুখ। খুব শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। যেন ভীষণ চেনা চিত্রনাট্য দেখে বেরোচ্ছেন। অসম্ভব আত্মবিশ্বাস কোথাও টেনে ধরেছে উন্মাদনার রাশ। বাংলাদেশের এ বারের বিশ্বকাপের সাফল্যের ইউএসপি কিন্ত এই আত্মবিশ্বাসটাই।

কোথা থেকে এল এই আত্মবিশ্বাস? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এ বছর যে দল পাঠিয়েছেন বিশ্বকাপে, তা অন্তত আমার মতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা। এর মূলত দুটো কারণ।

প্রথমত, শাকিব-তামিম-মুশফিকুর আর মাশরাফি এই চারজন খেলোয়াড় প্রায় এক যুগ ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রিকেট খেলছেন। ২০০৭ বা ২০১১ বিশ্বকাপে ভালো শুরু করেও বাংলাদেশ যে হারিয়ে গিয়েছিল, তার এক এবং অদ্বিতীয় কারণ ছিল দলে অভিজ্ঞতার অভাব। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজে শট খেলে আউট হবার প্রবণতা। কিন্তু এই চারজন এখন যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং ক্রিকেটের সীমিত ওভারের সর্বোচ্চ স্তরে খেলার যে পাল্‌স তা এঁদের কাছে ভীষণভাবে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতা থেকেই আসছে আত্মবিশ্বাস ! এবং এই আত্মবিশ্বাসটাই ছড়িয়ে পড়ছে দলের তরুন তুর্কিদের মধ্যে।

দ্বিতীয়ত, একসাথে অনেক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূলস্রোতে চলে আসা। সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ, লিটন দাস এবং কাটার স্পেশালিস্ট মুস্তাফিজুর রহমান- এঁরা প্রত্যেকেই একক নৈপুন্যের জায়গা থেকে অত্যন্ত প্রতিভাবান।

শাকিব আল হাসান নিয়ে কয়েকটা কথা বলতেই হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা প্রশ্নাতীতভাবে শাকিব। ২০১০ সালের পর থেকেই আইপিএল-এ খেলার সুবাদে শাকিব খুব কাছ থেকে দেখেছেন বিশ্বক্রিকেটের মহারথীদের এবং অদ্ভুতভাবে সেই সমস্ত তারকাদের পিছনে ফেলে একটু একটু করে যে দলেই খেলেছেন সেখানেই নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছেন। আইসিসি-র বিচারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডারের খেতাবের সম্মানও গেছে শাকিবের দখলে। এই বিশ্বকাপের আগে যখন তিন নম্বরে কে ব্যাট করবেন তা নিয়ে প্রবল সমস্যা, তখন যোগ্য কাঁধেই গেল দায়িত্ব। ঠাণ্ডা মাথার শাকিব যে তিন নম্বরে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তার প্রমাণ এই বিশ্বকাপ। আপাতত এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান স্কোরারের তকমাও এই বাঁ হাতি অলরাউন্ডারের পকেটে।

বাকি চারটি ম্যাচ। রয়েছে অস্ট্রেলিয়া আর ভারতের মতো দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের সামনের লড়াইটা কঠিন প্রথম চারে যাওয়ার। কিন্তু অসম্ভব নয় একেবারেই। আফগান এবং পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাকি দু ম্যাচের একটিতে অভিজ্ঞতায় ভর করে কোনও অঘটন ঘটিয়ে দিলেও কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। অন্তত এ বারের বাংলাদেশ দল কিন্তু অঘটনকেই স্বাভাবিক করার খেলায় নেমেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ যে এসে গেছে তা বলার অবকাশ রাখে না…

Comments are closed.