মঙ্গলবার, মে ২১

মসজিদে জঙ্গিহানায় আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা, নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল বাংলাদেশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘড়িতে তখন স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ২টো। মধ্য ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের ভিতরে চলছিল সাপ্তাহিক নমাজ পর্ব। বহু মানুষের ভিড়। মসজিদ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে হ্যাগলে পার্ক। সেখান থেকে টিম বাসে চেপে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা হাজির হয়েছিলেন মসজিদে। কিন্তু মসজিদে ঢোকার আগেই গুলির শব্দ পান তাঁরা। অল্পের জন্য রক্ষা পান তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। এই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের তরফে জানানো হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, দেশে ফিরতে চান তাঁরা।

হ্যাগলে পার্ক ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশ বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের এই ঘটনার পর ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় খেলা চালিয়ে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সফর বাতিল করছে বাংলাদেশ। চলতি সিরিজে এটাই ছিল শেষ ম্যাচ৷ তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ ০-৩ হারের পর প্রথম দু’টি টেস্টেও নিউজিল্যান্ডের কাছে পর্যুদস্ত হয় বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ছাড়াও এই মুহূর্তে ক্রাইস্টচার্চে রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ অস্ট্রেলিয়া মহিলা ক্রিকেট দল৷ তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড৷

এই জঙ্গিহানার কথা মনে করলে এখনও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। টুইটে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন তাঁরা। বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল টুইট করেছেন, “সকলেই নমাজ পড়ার জন্য মসজিদে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঢোকার আগেই শুনতে পাই গুলির বিকট আওয়াজ।” বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম টুইট করেছেন, ‘‘আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে বেঁচে গেছি। এমন অভিজ্ঞতা যেন আর না হয়। প্রার্থনা করুন আমাদের জন্য”।

বাংলাদেশি ক্রিকেট দলের সঙ্গে টিম বাসে চেপে মসজিদে এসেছিলেন সে দেশের এক সাংবাদিক মাজাহার উদ্দিন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘গুলি চলতে দেখেই সতর্ক করা হয়েছিল ক্রিকেটারদের। তাঁরা গুলি থেকে বাঁচতে মাটিতে শুয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর তাঁরা ছুটে হ্যাগলে পার্কে ঢুকে পড়েন।’’

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, সব ক্রিকেটাররাই সুরক্ষিত রয়েছেন। ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা প্রাণে বাঁচলেও, তাঁরা খুবই আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই ট্রমা থেকে বেরোতে পারেননি। হোটেলের নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্রিকেটারদের বাইরে বার হতে নিষেধ করা হয়েছে। সুযোগ মতো তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

আরও পড়ুন

#Breaking: ফাইনালেই দেখা হতে পারে মেসি-রোনাল্ডোর

 

Shares

Comments are closed.