মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

অস্ট্রেলিয়া দেখিয়ে দিল বিশ্বকাপের জন্য এখনও তৈরি নন বিরাটরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রেকর্ড অক্ষত থাকল কোটলায়। ২৩ বছর ধরে কোহলির ঘরের মাঠে ২৫০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতেনি কোনও দল। পারলেন না বিরাটরাও। ৩৫ রানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সিরিজ খোয়াতে হলো ভারতকে। আর সিরিজ হারের সঙ্গেই উঠে গেল একটা প্রশ্ন। বিরাটের এই দল বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি তৈরি তো?

বিশ্বকাপের আগে আর কোনও ম্যাচ পাবে না ভারত। মাঝে অবশ্য আইপিএল খেলবেন কোহলিরা। কিন্তু আইপিএল-এর পারফরম্যান্স তো আর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হতে পারে না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পুরো সিরিজ পর্যালোচনা করলে হারের পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ উঠে আসছে। ব্যাটিং, বোলিং সব বিভাগেই দুর্বলতা চোখে পড়ল।

প্রথমে আসা যাক ওপেনিং জুটিতে। রোহিত-ধাওয়ানের ওপেনিং জুটি কোনও ম্যাচে সুপারহিট, তো কোনও ম্যাচে সুপার ফ্লপ। কোটলায় যেমন রোহিত রান পেলেন, কিন্তু ধাওয়ান পেলেন না। পুরো সিরিজে একমাত্র মোহালিতে দেখা গিয়েছে দুজনকেই রান পেতে। বিশ্বকাপে এই ফর্ম চললে কিন্তু সমস্যা হবে। তৃতীয় ওপেনার হিসেবে লোকেশ রাহুলকে ভাবা হলেও তাঁর অবস্থাও তথৈবচ। কেবলমাত্র বিরাট কোহলি ধারাবাহিক খেলছেন। কিন্তু একা কোহলির উপর ভরসা করলে তো চলবে না। কারণ তিনিও কোনও ম্যাচে ফ্লপ করবেন। যেমনটা হলো কোটলাতে। আর গত কয়েক বছরের ভারতের জয়ের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে, যখনই টপ থ্রির মধ্যে অন্তত দুজন ভালো রান করেছেন, ভারত জিতেছে।

এবার আসা যাক মিডল অর্ডার। ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপের চার নম্বর জায়গার জন্য ব্যাটসম্যান এখনও ঠিক হলো না। কখনও রায়ুডু, কখনও দীনেশ কার্তিক, কখনও ঋষভ পন্থ, আবার কখনও বিজয় শঙ্করকেও খেলানো হয়েছে চার নম্বরে। এই সিরিজে কার্তিককে সুযোগ না দিয়ে নির্বাচকরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে তাঁকে চার নম্বর হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রায়ুডুকে পরপর খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শেষ ১০ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে শেষ দুই ম্যাচে তাঁকেও রাখা হয়নি দলে। ঋষভ পন্থ এখনও টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের মোড থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রতি ম্যাচে নেমেই যে মারা যায় না, সেটা তাঁর বোঝা উচিত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে খেলতে দেখা গেল না তাঁকে। বিজয় শঙ্কর যখনই সুযোগ পেয়েছেন, রান করেছেন, কিন্তু তিনি যে চার নম্বরে নিশ্চিত, সেটা বলা যাবে না।

এই সিরিজে ভারত সবথেকে বেশি ভুগলো অল রাউন্ডারের অভাবে। বিজয় শঙ্কর ব্যাটটা যত ভালো করেন, বলটা নয়। অন্যদিকে জাদেজা আবার বল ও ফিল্ডিংয়ে নির্ভরতা দিলেও ব্যাট হাতে রান পাননি। হার্দিক পান্ড্য চোটের জন্য খেলতেই পারলেন না। বিশ্বকাপের আগে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠা খুব দরকার। কারণ এই অল রাউন্ডারের অভাবে চাপ পড়েছে ভারতের বোলিং লাইন আপেও।

বোলারদের মধ্যে বুমরাহ, শামি, ভুবনেশ্বর তিনজনেই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব ও যজুবেন্দ্র চাহাল নিরাশ করেছেন। বিশেষ করে চাহাল। বারেবারে দলের বাইরে থাকার অভাবটা টের পাওয়া যাচ্ছে। সেই কুল-চা জুটির বিধ্বংসী রূপ এই সিরিজে দেখা গেল না। ভারতের সিরিজ হারের অন্যতম প্রধান কারণ বোলিং ব্যর্থতা।

সব শেষে বলতে হবে ম্যানেজমেন্টের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নীরিক্ষাকে। যে জায়গায় খামতি রয়েছে, সেটা নিয়ে পরীক্ষা চলতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সেট বোলিংকে যেভাবে বারেবারে বদলানো হলো, তার প্রভাব পড়ল বোলারদের উপরেও। একটা নির্দিষ্ট আক্রমণ ঠিক করে তাঁদেরকেই আরও ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে হয়তো ভালো হতো।

হাতে আর বেশি সময় নেই। আইপিএল-এর পারফরম্যান্স দেখে কিছু বিচার করা যায় না। তার থেকে ভারতীয় বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট ও টিমের উচিত, একসঙ্গে বসে কোথায় কোথায় খামতি সেটা বুঝে সেই অনুযায়ী কাজ করা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, একটা সেট দল তৈরি করে নেওয়া। কারণ বিশ্বকাপে কিন্তু এরকম পারফরম্যান্স করলে ভারতের বিশ্বকাপ জিততে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।

Shares

Comments are closed.