করোনার জেরে বাতিল ডার্বি, ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ সব টুর্নামেন্ট, জানিয়ে দিল ফেডারেশন

শুক্রবার নবান্নে ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে বৈঠকে এই মুহূর্তে ডার্বি বন্ধ রাখার ব্যাপারে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে মমতার সেই পরামর্শেই সিলমোহর দিল ফেডারেশন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেটা মনে করা হয়েছিল সেটাই অবশেষে সত্যি হল। শেষ পর্যন্ত রবিবারের ইস্ট-মোহন ডার্বি বাতিল করারই সিদ্ধান্ত নিল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন ( এআইএফএফ )। শুধু ডার্বি বাতিল করা নয়, আইলিগ ও দেশের সব ফুটবল টুর্নামেন্ট আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ফেডারেশন।

    বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে রাজ্যের সব ক্রীড়া সংগঠনগুলিকে অ্যাডভাইজরি পাঠানো হয়, “এই পরিস্থিতিতে হু-এর নির্দেশ অনুযায়ী যেন সব খেলা বন্ধ রাখা হয়। আর যদি একান্তই খেলা করতে হয়, তাহলে যেন দর্শকশূন্য মাঠে সেই খেলা করানো হয়।” মোহনবাগান কর্তা দেবাশিস দত্ত সাংবাধিক সম্মেলন করে একথা জানান। তারপরেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি ডার্বি হবে না? না হলেও ফাঁকা মাঠে হবে?

    শুক্রবার ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার তথা নিতুর সঙ্গে ব্যাপক বিতর্ক বাঁধে মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসুর। সৃঞ্জয় বসু বলেন, আইএসএল ফাইনাল হচ্ছে ফাঁকা মাঠে। তাহলে বড় ম্যাচ দর্শকশূন্য হতেই পারে। পাল্টা নিতু সরকার বলেন, গত ডার্বি পিছিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ বলেছিল নিরাপত্তা দিতে পারবে না। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছিল, ১৫ হাজার দর্শক নিয়ে ডার্বি করতে। মোহনবাগান রাজি হয়নি। তাহলে এবারও একমাস পিছিয়ে দেওয়া হোক।

    এর বিতণ্ডার মাঝেই মমতা এইআইএফএফ-এর প্রতিনিধি সুব্রত দত্তকে বলতে বলেন। তিনি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কড়া সুরে বলেন, এ ভাবে হয় না। আপনারা আবেগটা বুঝুন। এরপর সুব্রত দত্তকে খানিকটা ধমকের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভাইরাস ছড়ালে কিন্তু দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।”

    পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে সুব্রত দত্ত বৈঠকে বসেই ফোন করেন প্রফুল্ল পটেলকে। তাঁকে না পেয়ে সচিব কুশল দাসকে ফোন করেন তিনি। কুশল দাস সংসদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানান সুব্রত। মমতাকে তিনি বলেন, “দিদি কুশল দাস যাচ্ছেন। উনি প্রফুল্ল পটেলকে আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।”

    শুক্রবার রাতেই খবর আসে, ডার্বি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই নিতে চলেছে ফেডারেশন। যদিও সেই ব্যাপারে সরকারিভাবে তখনও কিছু জানানো হয়নি। তারমধ্যেই শনিবার দুপুরে ডার্বির আগের সাংবাদিক সম্মেলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইস্টবেঙ্গল। অবশেষে শনিবার বিকেলের দিকে ফেডারেশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ডার্বি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত আইলিগ-সহ দেশের সব ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এআইএফএফ। ৩০ মার্চ বৈঠক করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More