মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

হঠাৎ বিক্ষোভ ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে, কোয়েসকে ‘পরামর্শ’ বিক্ষোভকারীদের, স্বতঃস্ফূর্ত কি? উঠছে প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে দল। আর সেই ক্লাবেই কিনা সমর্থক বিক্ষোভ?

শান্তির ইস্টবেঙ্গলে যেন হঠাৎ অশান্তির আঁচ। ক্লাব তাঁবুতে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা চলবে না। অবিলম্বে ক্লাবের মাঠে প্র্যাকটিস ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্লাবের মাঠের পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।”

প্রসঙ্গত, ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজ ক্লাবের মাঠে অনুশীলন করান না। যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডই এখন ইস্টবেঙ্গলের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। সেখানে মিডিয়া-সহ সমর্থকদের ঢোকার ক্ষেত্রেও নানান বিধি আছে। কিন্তু এ দিন বিক্ষোভকারীদের স্লোগান শুনে অনেকেই বলছেন, ‘এ তো স্ববিরোধিতায় ভরা।’

কেন?

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্লাবের মাঠে অনুশীলন ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের এ-ও দাবি, মাঠের পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নতি করতে হবে। যদি মাঠের পরিকাঠামোই না থাকে, তাহলে অনুশীলন হবে কী করে? যে দল চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে রয়েছে সেখানে এমন বিক্ষোভের কী যুক্তি তা অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না।

শুধু তো তাই নয়, বিনিয়োগকারী সংস্থা কোয়েস কর্তাদেরও পরামর্শ দেন বিক্ষোভকারীরা। কী পরামর্শ? এক সমর্থকের কথায়, ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে টিম পরিচালনা করুক কোয়েস। আর এখানেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে।

কয়েকদিন আগেই আলভিটো ডি কুনহাকে চিঠি দিয়ে কোয়েস কর্তৃপক্ষ পষ্টাপষ্টি বলে দিয়েছিল, ফুটবল সংক্রান্ত কোনও ব্যাপারে তাঁকে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না। কোয়েসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি হওয়ার পর একটি টেকনিক্যাল কমিটি তৈরি হয়েছিল। ছ’জনের সেই টেকনিক্যাল কমিটিতে কোয়েসের পক্ষ থেকে তিন জন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনজন ছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে ছিলেন কর্তা দেবব্রত সরকার, রাজা গুহ এবং আলভিটো ডি কুনহা। তার পরে পরেই এই বিক্ষোভ নিয়ে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি এটা ‘করানো বিক্ষোভ’?

নিয়মিত মাঠে যাওয়া এক সমর্থকের কথায়, “যাঁরা এ দিন ক্লাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাঁরা ইস্টবেঙ্গলের এগারোটা খেলোয়াড়ের নাম বলতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে।” তিনি আরও বলে, “প্র্যাকটিস দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ না আই লিগ জেতাটা?” যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনও কর্তাই কিছু বলেননি।

স্পনসর না থাকলে কী হয় তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মোহনবাগান। তাই পড়শি ক্লাবের থেকে শিক্ষা নিয়েই লাল-হলুদ সমর্থকদের একটা বড় অংশ কোয়েসকে চোখের মণির মতো রক্ষা করতে চান। যদিও কোয়েস আগে না ক্লাব আগে, এ বিতর্কও তুলছেন অনেকে।

ক্লাবের এক সদস্যের কথায়, “কোয়েস খানিকটা নিজের মতো করেই চলতে চাইছে। ক্লাবের কথা কানেই তুলছে না। কোচকে ক্লাবে আসতে বললে আসেন না। যে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার ফাংশানিং প্রায় বন্ধ। এ ভাবে কি সম্পর্ক ঠিক থাকে!”

ইদানিং দেখা যায় কোয়েস কর্তা সঞ্জিত সেনের ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়ধ্বনি তোলেন সমর্থকদের একটা অংশ। ভুবনেশ্বরে অ্যারোজ ম্যাচের পরেও। তা দেখা গিয়েছিল। এ বার অনেকেরই আশঙ্কা, তাহলে কি এবার এই সমর্থকদের পাল্টা বিক্ষোভ হবে তাঁবুর বাইরে?

Shares

Comments are closed.