সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

আদালতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারা হয়েছিল আক্কু যাদবকে, কেটে নেওয়া হয়েছিল পুরুষাঙ্গ! ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সেই স্মৃতি ফিরে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

হায়দরাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে খুন করার ঘটনা নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। খুব স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভে, রাগে, প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন সকলে। নেটিজেনদের মধ্যে একটা বড় অংশ থেকে দাবি উঠেছে, অপরাধীদের চরমতম শাস্তি চাই। এই শাস্তি কেমন হতে পারে, কতটা নৃশংস হতে পারে, সে বিষয়েও ব্যক্তিগত মত রাখছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার এমনও বলছেন, ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনায় বিচার করার দায়িত্ব আইনের নয়, জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক।

এই সমস্ত নানা আলোচনার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার উঠে আসছে একটা নাম। আক্কু যাদব। আজ থেকে দেড় দশক আগে, ধর্ষণের অভিযোগে যাকে গণহত্যা করা হয়েছিল ভরা আদালত চত্বরে। খুন করেছিলেন ২০০ জন মহিলা। খুনের পরে তাঁরা বলেছিলেন, “আমাদের সকলকে গ্রেফতার করা হোক।”

কিন্তু কে এই আক্কু যাদব, কী ছিল তার অপরাধ?

নাগপুরের কাছে কস্তুরবাই নগর এলাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত, ধনী ও প্রভাবশালী এক পরিবারের ছেলে ছিল এই আক্কু যাদব। কিশোর বয়স পেরোনোর পরেই এলাকারই এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিল ধর্ষিতা বালিকার পরিবার। কিন্তু অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তখন কেউই বোঝেননি, সেটা ছিল কেবল শুরু। এক বার পার পেয়ে যাওয়ার পরে, বারবার একই অপরাধ করতে শুরু করে আক্কু। গায়ের জোরে, ভয় দেখিয়ে একের পর এক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এক সময়ে এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে আক্কু। আশপাশের বহু মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অনেকেই ভয় পেয়ে চুপ করে গেলেও, পুলিশে যান অনেকেই। কিন্তু মজার কথা হল, দাপুটে এবং প্রভাবশালী হওয়ার কারণে, গ্রেফতার হলেও আইনের শাস্তির হাত থেকে বারবারই রেহাই পেয়ে যেতো ধর্ষক আক্কু। আর বারবার রেহাই পেয়েই তার দুঃসাহস মাত্রা ছাড়িয়েছিল। প্রায় এক দশক ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন মহিলাকে নিয়মিত ধর্ষণ করেছিল সে। বারবার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও, বিচার মেলেনি কখনওই। উল্টে বারবারই মিলেছিল আক্কুর নিঃশর্ত জামিন।

বিক্রি হয়ে গেছিল প্রশাসন

কস্তুরবাই নগর এলাকায় যেখানে আক্কু যাদবের বাড়ি ছিল, তার কাছেই ছিল একটি বড় বস্তি। এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের পরিবারগুলির বাস সে বস্তিতে। সেখানকার দরিদ্র পরিবারগুলির মহিলারাই ছিলেন আক্কুর শিকার। বস্তির মহিলাদের ধর্ষণ করা যেন নিয়মে পরিণত করে ফেলেছিল আক্কু। নিয়ম মেনে গ্রেফতারও হতো, ফের নিয়ম মেনেই যেন মিলত জামিন। অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশ নিয়মিত টাকা পেত আক্কুর থেকে। পেত নেশার সামগ্রীও। তাই এমন ভাবেই চার্জশিট তৈরি হতো, যাতে খুব সহজেই তথ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে মুক্তি পেয়ে যেত আক্কু।

পুলিশ একা নয়, আইনজীবীদেরও রীতিমতো কিনে নিয়েছিল আক্কু যাদব। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্কুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হলে, অভিযোগকারিণী তথা ধর্ষিতাদের যৌনকর্মী হিসেবে দেখাতেন আইনজীবীরা। এক বার ২২ বছরের এক তরুণী অভিযোগ আনলে, তাকে আক্কুর প্রেমিকা হিসেবে দাবি করে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। ফের মুক্তি পায় আক্কু। অনেক সময় বস্তির মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে দূরে কোথাও গিয়ে নির্যাতন চালাত আক্কু। সাঙ্গোপাঙ্গো জুটিয়ে চালাত গণধর্ষণ।

ক্ষোভের বারুদে প্রতিশোধের আগুন

৩০ বছরের আক্কুর উপরে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছিল গোটা এলাকার। কয়েকশো পরিবারের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল আক্কু নামটিই। ধর্ষণ ও নির্যাতন যেন রীতিমতো ‘প্যাশন’ হয়ে উঠেছিল তার জীবনে। চরম বেপরোয়া মানসিকতা নিয়ে দিব্যি কেটে যাচ্ছিল তার জীবন। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে বা বাবার সামনে কন্যাকে ধর্ষণ করার একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছিল সে। কিন্তু বিচার অধরাই। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলছিল।

২০০৪ সালের মাঝামাঝি। আক্কুর বিরুদ্ধে জমে ওঠা এই ক্ষোভের আগুনকেই কাজে লাগান ঊষা নারায়ণে নামে বছর পঁচিশের ওই তরুণী। তিনি পেশায় ছিলেন এক সমাজকর্মী। নাগপুরের কস্তুরবাই নগরের ওই বস্তিতে মহিলাদের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে জানতে পারেন, আক্কু যাদবের কথা। এত দিন ধরে এক জন দুষ্কৃতী এভাবে নৃশংস অপরাধ করে দিনের আলোয় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানতে পারার পরে স্থির থাকতে পারেননি তিনি। বস্তির মহিলাদের সাহস জোগান প্রতিবাদের, প্রতিশোধের। তাঁদের একজোট করেন আক্কুর বিরুদ্ধে।

আদালতে বেপরোয়া জমায়েত, আঁচলে লুকনো ছুরি-লঙ্কাগুঁড়ো

৬ অগস্ট প্রায় ৫০০ মহিলা একসঙ্গে চড়াও হয় আক্কুর বাড়িতে। কিন্তু আক্কু এসব টের পেয়ে গেছিল আগেই। তাই বিপদ বুঝে, ওই মহিলারা বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিরাপত্তা চেয়ে নেয় সে। অভিযোগ, এ বিষয়েও তাকে পরামর্শ দিয়েছিল পুলিশই। কারণ ওই মহিলাদের হাতে পড়লে হয়তো সে দিনই প্রাণ যেত তার। তাই পুলিশি হেফাজতের মোড়কে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল তাকে। সকলের চোখে ধুলো দিয়ে রুজু করা হয়েছিল ধর্ষণের মামলাও। মনে করা হয়েছিল, মামলা করে সকলকে শান্ত করা যাবে। এবং অন্যান্য বারের মতোই আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাবে আক্কু।

১৩ আগস্ট নাগপুর জেলা আদালতে আক্কুর শুনানি ছিল। এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন নির্যাতিতা মহিলারা। তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, আর যাই হোক, আইনি পথে সাজা মিলবে না আক্কুর। যা করার তাঁদেরই করতে হবে। তাঁদের সাহস জুগিয়েছিলেন ঊষা। তাই পরিকল্পনা মতোই শুনানির দিনে আদালত চত্বরে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন শ’দুয়েক মহিলা। সকলেই কোনও না কোনও সময়ে ধর্ষিত হয়েছিলেন আক্কুর কাছে। ওই দিন তাঁরা প্রত্যেকে নিজের সঙ্গে লুকিয়ে নিয়ে এসেছিলেন রান্নাঘরের ছুরি এবং শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, যাই হয়ে যাক না কেন, আদালত থেকে মুক্ত হয়ে আক্কুকে তাঁরা বাড়ি ফিরতে দেবেন না। রুখে দেবেন আক্কুর ছাড়া পাওয়া। তার জেরে যদি তাঁদের জেলে যেতে হয়, তাও তাঁরা যাবেন।

হয় তুই থাকবি নয় আমি, ঝাঁপিয়ে পড়ে সকলে

শোনা যায়, শুনানির জন্য আদালতে ঢোকার সময়েও এতটুকু লজ্জিত বা অনুতপ্ত ছিল না আক্কু। কারণ সে নিশ্চিত ছিল, আইনজীবী ও পুলিশের কারসাজিতে আবারও পার পেয়ে যাবে সে। তেমনটাই হয়তো হতো আবারও, কিন্তু কাল করল আক্কুর ঔদ্ধত্য। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, আদালতে ঢোকার মুখেই নির্যাতনের শিকার হওয়া যে মহিলারা জমায়েত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জনকে লক্ষ করে অশ্লীল গালি দেয় আক্কু। হুমকি দেয়, তাকে দেখে নেবে। এই সময়ে পুলিশের ভূমিকাও ছিল নিন্দনীয়। আদালতের মধ্যে এক অভিযুক্ত ধর্ষক কোনও মহিলাকে হুমকি দিচ্ছে দেখেও কিছুই করেনি পুলিশ, উল্টে তারা হাসছিল বলে অভিযোগ।

তখনই ঘটে যায় বিপর্যয়। এত দিনের জমা বারুদে যেন দেশলাই জ্বলে ওঠে। ওই মহিলা চিৎকার করে বলে ওঠেন, “আমরা দু’জনে একসঙ্গে এই পৃথিবীতে থাকতে পারব না। হয় তুই থাকবি না হয় আমি থাকব।”– এ কথা বলেই জুতো খুলে আক্কুকে মারতে শুরু করেন ওই মহিলা। এর পরেই চার পাশ থেকে আক্কুর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন অসংখ্য মহিলা। প্রায় ২০০ জনের এই স্বতঃস্ফূর্ত আক্রমণ সামাল দেওয়ার মতো পুলিশি ব্যবস্থা আদালতে ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা, কারও কোনও আন্দাজ ছিল না এমনটা যে হতে পারে!

কেটে নেওয়া হয় পুরুষাঙ্গ

মহিলারা সঙ্গে করে আনা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন আক্কু যাদবকে। এর পরে ক্ষতবিক্ষত আক্কুর ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় লঙ্কার গুঁড়ো। শুধু তাই নয়, কেটে নেওয়া হয় তার পুরুষাঙ্গ। মাত্র ১৫ মিনিট সময়ের মধ্যেই সব শেষ। রক্তে ভেসে যায় আদালত চত্বর। চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রীতিমতো। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলেছিল, আক্কুর শরীরে প্রায় ১০০টি গভীর ক্ষতর চিহ্ন ছিল।

এখানেই শেষ নয়। এই ঘটনা চলাকালীন আদালত চত্বরে যত মহিলা উপস্থিত ছিলেন, সকলেই নিজেকে আক্কুর খুনে অভিযুক্ত বলে দাবি করেন। দাবি করেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হোক। প্রথমে পাঁচ জনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু এর পরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। শেষমেশ তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে আক্কু যাদব খুনের সব দায় নিজে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তরুণী সমাজকর্মী উষা নারায়ণে। তাঁর সঙ্গে আরও ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৬ জন মহিলা ছিলেন।

অপরাধী নয়, অপরাধের শিকার

খুনে অভিযুক্তদের পক্ষে দাঁড়ানো উকিলরা সওয়াল করেছিলেন, প্রতিটি অভিযুক্ত এখানে ‘অপরাধী’ নয়, বরং তাঁরা ‘অপরাধের শিকার’। শেষমেশ উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আট বছর জেল খাটার পরে মুক্তি পান ঊষাও। মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি জানিয়েছিলেন, আক্কু যাদব হত্যাকাণ্ড একেবারেই পরিকল্পিত খুন ছিল না। তাকে এভাবে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে আদালত চত্বরে জমায়েত করা হয়নি। জমায়েত করা হয়েছিল তীব্র রাগ ও ঘৃণা থেকে। ক্ষোভ থেকে। প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন মহিলারা। সেই ক্ষোভকেই উস্কে দেয় আক্কুর ব্যবহার। ঊষার কথায়, “সম্মিলিত ও পুঞ্জীভূত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল নাগপুর আদালতে।”

বাংলায় তখন ধনঞ্জয়ের ফাঁসি-পর্ব

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে চর্চা চলে বিশ্বজুড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও শিরোনাম হয়ে উঠেছিল নাগপুরের মহিলাদের এই কীর্তি। তবে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ফোকাস তখন ছিল এই গোত্রেরই আরও বড় একটি ঘটনা। একই সময়ে, ২০০৪ সালের ১৪ অগস্ট কলকাতায় ফাঁসি হয় ধর্ষণের আসামি ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের। হেতাল পারেখ হত্যা মামলায় সাজা পেয়েছিল ধনঞ্জয়।

নাগপুর আদালত চত্বরের এই ঘটনায় দেশজুড়ে বহু মতামত, বিতর্ক জন্ম নিয়েছিল। সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ জানিয়েছিল, আইন যদি অপরাধীকে শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এভাবেই আইন হাতে তুলে নিতে হয় মানুষকে। অনেকেই আবার মত রেখেছিলেন, যাই হয়ে যাক না কেন, ধর্ষণের পাল্টা গণহত্যা কখনওই কাম্য নয়। কারণ, এভাবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটানোর ঘটনাকে যদি স্বাগত জানানো হয়, তাহলে ২০০ ধর্ষিতার জায়গায় আরও বহু অভিযোগকারী জড়ো হতে সময় লাগবে না। গোটা সমাজে জমে থাকা হাজারো অসঙ্গতির বিচার কেবল গণপিটুনি দিয়েই হবে।

সমাধান অধরাই

মত-পাল্টা মত, ঠিক বা ভুল– এ সব নিয়ে তর্ক এখনও শেষ হয়নি। অনেকেই মনে করেন, ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া মানে কিছু সম্ভাব্য ধর্ষণকে রুখে দেওয়া। অনেকে আবার মনে করেন, ধর্ষণ করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা যারা ঘটাতে পারে, তাদের জন্য কেবল ফাঁসি যথেষ্ট নয়। এসবের বিপরীতে অনেকেই আবার বলেন, সাজা দিয়ে ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে তা ধর্ষণ রুখে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। কোনও মতই ফেলা যায় না। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া তো সব রকমের মত রাখার জন্যই মুক্ত মঞ্চের মতো ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সেখানে বিতর্কই সার, সে বিতর্কে আক্কু যাদবের স্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়াই সার।

এই পরিস্থিতির পাকাপাকি সমাধান কী, এখনও জানে না কেউ।

Comments are closed.