চার বছর আগের খুন ও ডাকাতির ঘটনায় তিন জনকে ফাঁসির সাজা শোনাল শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: মা, বাবার সঙ্গে ছেলেকে খুন করা হয়েছিল নির্মম ভাবে। এর পর চলেছিল লুটপাঠ। চার বছর আগের সেই ঘটনায় অপরাধীদের খুঁজতে হিমশিম খেতে হয়েছিল দুঁদে পুলিশকর্তাদের। তার পরেও ছিল সাক্ষ্য প্রমাণ মেটানোর চেষ্টা। তবে ছাড় মেলেনি। মোট ২৮ জন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে খুনে অভিযুক্ত তিন জনকে দোষী সাব্যস্ত করে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত। শনিবার দুপুরে দোষীদের ফাঁসির সাজা শোনান বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ।

    পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের নাম, সহদেব বর্মন, দিপু সূত্রধর ও চিরঞ্জিৎ মণ্ডল।  সরকার পক্ষের আইনজীবী পীযুষ কান্তি ঘোষ বলেছেন, মোবাইল নেটওয়ার্কের সূত্র ধরেই এই খুনের কিনারা হয়েছে। এই খুনের ঘটনাকে আদালত বিরলতম খুনের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে। মোট ২৮ জন সাক্ষীকে পেশ করা হয়েছে আদালতে। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সেই নিরিখেই আজকের এই রায়। তবে অভিয়ুক্তদের আইনজীবী চন্দন দে-র কথায়, “সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিরলতম খুনের ঘটনা উল্লেখ করে এ দিন আদালত ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে। যদিও আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।”

    ঘটনা ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরের।ওই দিন ভোর রাতে শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ বর্ধনের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল সহদেব, দিপু ও চিরঞ্জিৎ। লুটপাঠের পরে প্রদীপ বর্ধন (৬১) , তাঁর স্ত্রী দিপ্তী (৫০) ও ছেলে প্রসেনজিৎ (২৪)-কে খুন করে এই তিনজন। ঘটনার তদন্তে নামে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, দোষীরা প্রথমে দোতলার ঘরে প্রদীপবাবুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁর মুখে রঙ ঢেলে দেয়। পরে একতলার ঘরে প্রদীপবাবুর স্ত্রী দিপ্তী দেবীকে গলায় প্লাস্টিক পেঁচিয়ে খুন করে। তাঁর মুখেও একই কায়দায় রঙ ঢেলে দেওয়া হয়। প্রসেনজিতকে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে হত্যা করে ওই তিন দুষ্কৃতী। নগদ টাকা, সোনা গয়নার পাশাপাশি তিনটি মোবাইল ফোনও তারা চুরি লুট করেছিল প্রদীপবাবুর বাড়ি থেকে।

    ডাকাতি ও খুনের ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের মেয়ে রেশমি সেন। পুলিশ জানায়, চুরি যাওয়া সেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ধরেই দোষীদের সন্ধান মেলে। প্রথমে ধরা পড়ে সহদেব। তাকে জেরা করেই একে একে গ্রেফতার হয় দীপু ও চিরঞ্জিৎ।  সহদেব ও দীপু শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া ব্লকের ফাঁসিফেওয়া মোড়ের বাসিন্দা। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা চিরঞ্জিৎ। প্রত্যেকেই কাঠমিস্ত্রী।

    দোষীদের ফাঁসির সাজা হওয়ায় খুশি প্রদীপবাবুর মেয়ে রেশমি। তিনি বলেছেন, “বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা ছিল। বিচারক যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা খুশি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More