রবিবার, আগস্ট ১৮

সামান্য খোলা জরুরি বিভাগের দরজা, কিন্তু মিলছে কি পরিষেবা? হয়রানির অভিযোগ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরু করে খোলা ইমার্জেন্সি বিভাগের লোহার গেট। তার ভিতর দিয়েই একে একে রোগীদের ঢোকাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। কিন্তু ভিতরেও পরিষেবা মিলছে কি? বিকেল গড়াতেও অবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন হলো না কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি পরিষেবা মিলছে দাবি করা হলেও রোগীদের অভিযোগ, ডাক্তারদের সংখ্যা যেমন হাতে গোনা, তেমনই ভিতরে নেই চিকিৎসার ব্যবস্থাও। গেট আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গুটি কয়েক ডাক্তার। অন্যদিকে, হাতপাতাল চত্বরে চলছে ধর্না-অবস্থান।

মঙ্গলবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার-নিগ্রহের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি। শহর থেকে জেলা প্রায় সমস্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ করে অবস্থান শুরু করেছেন ডাক্তাররা। জুনিয়র, ইন্টার্নদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররাও। কিছু হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলা রয়েছে এমন দাবি করলেও সেই সংখ্যা হাতে গোনা, অথবা বাস্তবে দেখা গেছে দরজা বন্ধই রয়েছে ইমার্জেন্সি বিভাগের।

সামান্য খোলা কলকাতা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি বিভাগের লোহার গেট

বুধবার সকালেই দেখা গেছে পিজি-র ইমার্জেন্সি বিভাগের বাইরে চাদর বিছিয়ে অপেক্ষা করছেন রোগীরা। আন্দোলনকারী ডাক্তাররা জরুরি বিভাগের দরজা খুলে রাখার দাবি করলেও বাস্তবে দেখা গেছে দরজার বাইরে ‘শাটডাউন’-এর বড় পোস্টার ঝুলছে। প্রায় একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেও। হাসপাতাল চত্বরের বাইরে ডাক্তারদের অনুগ্রহের অপেক্ষা করছেন রোগীরা। কোথাও রাস্তায় বসে, কোথাও হাসপাতাল চত্বরেরই বেঞ্চে শুয়ে চলছে প্রতীক্ষা।

আরও পড়ুন: উত্তপ্ত বর্ধমান মেডিক্যালে সংঘর্ষে জখম এক জুনিয়ার ডাক্তার, আহত দুই পুলিশকর্মীও

কলকাতা মেডিক্যালে আন্দোলনকারী ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রোগীদের কথা ভেবেই জরুরি পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। আপৎকালীন অবস্থার জন্য বরং গেট খুলে রাখাই হয়েছে। শুধু বন্ধ রয়েছে আউটডোর পরিষেবা। অথচ রোগীদের অভিযোগ, গতকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন অনেকেই, কিন্তু চিকিৎসার নামগন্ধ নেই। অন্যদিকে, জরুরি বিভাগ শুধুমাত্র নামেই খোলা, পরিষেবার কণামাত্র জুটছে না সেখানে। জরুরি অবস্থা বলতে ডাক্তাররা ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন সেটাও স্পষ্ট নয় অনেকের কাছে। নাভিশ্বাস না ওঠা পর্যন্ত কি কোনও ভাবেই চিকিৎসা মিলবে না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

জরুরি বিভাগের বাইরেই চলছে প্রতীক্ষা

শহর থেকে জেলা বিক্ষোভ ও উত্তেজনার চূড়ান্ত আবহের মধ্যেই মানবিক চেহারাও দেখা গেছে কোনও কোনও হাসপাতালে। এক দিনের মরণাপন্ন শিশুর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছে বিসি রায় হাসপাতাল। অন্যদিকে, ওডিপি বন্ধ থাকলেও রাস্তায় বসে রোগী দেখতে দেখা গেছে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালের ডাক্তারদের।

অন্যদিকে, বিকেল অবধি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে বর্ধমান মেডিক্যালে। পরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ রোগীদের পরিবারের সঙ্গে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় আন্দোলনকারী ডাক্তারদের। রোগীর পরিজনদের ছোড়া পাথরের ঘায়ে এক জুনিয়র ডাক্তার জখম হন বলে অভিযোগ। জুনিয়র ডাক্তারদের পাল্টা মারে চিকিৎসার জন্য আসা বেশ কয়েকজন রোগীর পরিজনও জখম হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ডাক্তারদের মারে দুই পুলিশকর্মীও জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:

টিউমার ফেটে রক্তে মাখামাখি এক দিনের শিশু, শরীরে চোট নিয়ে ফুটপাথে কাতরাচ্ছে রোগী

Comments are closed.