সোমবার, অক্টোবর ১৪

জন্মদিনে থানাতেই হবে পার্টি, কেক কাটবেন অফিসার থেকে কনস্টেবল, নিয়ম চালু করলেন জেলা পুলিশ সুপার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উৎসব-পার্বণ হোক বা ক্যালেন্ডারে দাগানো দিন, পুলিশদের ছুটি বলতে কিছু হয় না। কর্তব্যকর্মে ফাঁকি মানেই উর্দির অপমান, এটা মনেপ্রাণে মানেন সকলেই। বরং ছুটির দিনে কাজের চাপ আরও কয়েকগুণ চেপে বসে। আমজনতাকে নিরাপত্তা দিতে  অতন্ত্র প্রহরীর মতো কোমর বেঁধে নামতে হয় রাস্তায়। সেখানে জন্মদিনের আনন্দ নিছকই তুচ্ছ ব্যাপার। তবে এ বার থেকে আর নয়। অন্য ছুটি না মিলুক, জন্মদিনটা অন্তত থানাতেই হইহুল্লোড় করে কাটাক সকলে, এমনই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক যাদব। তাঁর ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত নিয়ম হয়ে দাঁড়াল মুজফফরনগরের সবকটা থানায়।

মুজফফরনগরের এসএসপির অর্ডার, জন্মদিন পালনে কোনও র‍্যাঙ্ক দেখা হবে না। অফিসার থেকে কনস্টেবল, জন্মদিন যাঁরই হোক, বাকিরা কেক এনে সেলিব্রেট করবে। থানার ভিতরটা সাজানো হবে সুন্দর করে। এক-আধ ঘণ্টার জন্য কাজে বিরতি দিতে হবে। কেক কাটা, খানাপিনা সবই চলবে। ‘হ্যাপি বার্থডে’ লেখা কার্ডও দেওয়া হবে। অর্থাৎ ছোটখাটো একটা সেলিব্রেশন হবে থানার অন্দরেই।

অভিষেক যাদব মুজফফরনগরের এসএসপির পদে রয়েছেন বেশ কয়েক বছর। তাঁর কথায়, “পুলিশদের জীবন বড় কঠিন। পরিবারের থেকে দূরে সব সময় কর্তব্য করে যেতে হয়। উৎসব বা ছুটির দিনেও রেহাই নেই। সকলেই চায় জন্মদিনটা পরিবার, আত্মীয়দের সঙ্গে কাটাতে। তাই এই উদ্যোগ আমি নিয়েছি। থানার ভিতরেই সেই আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা হবে সকলকে।”

এসএসপির নির্দেশিকার পরে প্রথম জন্মদিন পালন হয় ভোরা কালান থানার সাব-ইনস্পেকটর কিষাণ কুমারের। তিনি জানিয়েছেন, কেক কেটে, বেলুন ফুলিয়ে ছোটখাটো একটা পার্টিই দিয়েছিলেন ওই থানার পুলিশকর্মীরা। কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছিলেন সকলে। মনখারাপের অবকাশই মেলেনি।

দিনভর অন্ধকার জগতের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ চলে। অপরাধীদের ধরপাকড়ের মাঝেই কখন যে একটা বজ্রকঠিন মন তৈরি হয়ে যায় নিজেরাই টের পান না পুলিশ কর্মীরা। সেখানে সামাজিকতা, লোক-লৌকিকতা বড় তুচ্ছ হয়ে যায়। ব্যবহারও আপাত রুক্ষ হয়ে পড়ে। উৎসবের দিনে ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মীরও মনে হয় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। কিন্তু কর্তব্যের কাছে এই ইচ্ছেটা নিছকই ফিকে। মনের অভিব্যক্তি মনেই চাপা দিতে হয়।

এসএসপি জানিয়েছেন, এটাই কারণ এই জন্মদিন পালন করার। শুধু আনন্দ দেওয়া নয়, বরং থানায় প্রতিটি পুলিশ কর্মীর মধ্যে সম্পর্কের বাঁধন আরও দৃঢ় হবে। পদের উচ্চতার অহঙ্কার ঘুচবে। কাজে আরও বেশি করে মন বসবে।

“পার্টি তো আমার খুব পছন্দ,” বলেছেন শাহপুর থানার ইনস্পেকটর বিজয় পাল। তাঁর কথায়, “থানায় আমরা ৩০ জন কর্মী। তার মানে হিসেবে দাঁড়াচ্ছে মাসে দুটো করে জন্মদিনের পার্টি। আনন্দ, খাওয়াদাওয়া। ভাবা যায়!”

Comments are closed.