করোনা মানুষের কোষে ঢুকছে কী করে! বিশ্বাসঘাতক প্রোটিনকে খুঁজে বের করলেন বিজ্ঞানীরা

ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এই নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ‘সায়েন্স’ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনের অন্যতম প্রধান হোস্ট ফ্যাক্টর এই প্রোটিন।

১,৬২৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের শরীরে কোন পথে ঢোকে করোনা তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা। অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম বা ACE-2 রিসেপটর প্রোটিনের কথা আগেই বলেছিলেন গবেষকরা। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের দেহকোষে আরও একটি প্রোটিন রয়েছে যার সঙ্গে যুক্ত হয়েই কোষের ভেতরে চটপট ঢুকে যেতে পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন। এই প্রোটিন করোনার আধার হিসেবে কাজ করে।

ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এই নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ‘সায়েন্স’ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনের অন্যতম প্রধান হোস্ট ফ্যাক্টর এই প্রোটিন। হোস্ট ফ্যাক্টর মানে হল ভাইরাস যখন মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে, তখন মানুষের দেহকোষের প্রোটিনের মধ্যে থেকেই তার আধার খুঁজে নেয়। এই আধারকে আঁকড়ে ধরেই কোষের ভেতরে নিজেদের আস্তানা তৈরি করে ভাইরাস। গবেষকরা বলছেন, এই প্রোটিনের নাম নিউরোপিলিন-১ (Neuropilin-1)। করোনা যে শরীরের নানা অঙ্গের কোষে ছড়িয়ে পড়ছে তার কারণও হল এই প্রোটিন।


কীভাবে নিউরোপিলিন-১ প্রোটিনকে আশ্রয় করে কোষে ঢুকছে করোনা?

নিউরোপিলিন-১ হল ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন। এনআরপি১ জিন দিয়ে তৈরি। দেহকোষের পর্দায় থাকে এই প্রোটিন। এর কাজ হল রিসেপটর বা ধারকের। স্নায়ুর মাধ্যমে আসা বার্তা কোষে পৌঁছে দেওয়া, কোষের সুরক্ষা, মাইগ্রেশন সবই করে এই প্রোটিন।

কীভাবে কোষে ঢুকছে ভাইরাস? দেখুন ভিডিও

স্কুল অব বায়োকেমিস্ট্রির গবেষক পিটার কুলেন, স্কুল অব সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার মেডিসিনের গবেষক ডক্টর ইয়োহেই ইয়ামউচ এই গবেষণার প্রসঙ্গে বলেছেন, মানুষের দেহকোষে এই রিসেপটর রক্ষীর কাজ করে। তাই এই প্রোটিনকে আগে কব্জা করে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন (S) এমনভাবে এই রিসেপটরকে বশ করে ফেলে যে সুরক্ষার কথা না ভেবেই নিউরোপিলিন-১ স্পাইকের সঙ্গে জুড়ে যায়। ভাইরাসের প্রোটিন ও মানুষের দেহকোষের প্রোটিন একসঙ্গে মিলে যায়। যার ফলে ভাইরাস সহজেই কোষে ঢোকার রাস্তা পেয়ে যায়। একবার কোষের ভেতরে ঢপকতে পারলেই বিভাজিত হয়ে অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে। এইসব প্রতিলিপি তখন নানা অঙ্গের কোষে ছড়িয়ে পড়ে।

Top 10: October 21 – COVID Reference

জার্মানির মিউনিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, এই নিউরোপিলিন-১ প্রোটিন কোষে ভাইরাসের এন্ট্রি শুধু নয়, তার বিভাজনেও সাহায্য করে। আর এই খোঁজকে কাজে লাগিয়েই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভভ। রিসেপটর নিউরোপিলিন-১ প্রোটিনের কার্যকারিতা যদি কমিয়ে দেওয়া যায় বা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দিয়ে যদি দেহকোষের প্রোটিন ও ভাইরাল প্রোটিনের সংযুক্তি আটকে দেওয়া যায়, তাহলেই কোষের ভেতরে সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না। এটাই হবে করোনাকে ঘায়েল করার অন্যতম বড় অস্ত্র।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More