মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

রোবটের শরীরে মানুষের মতো চামড়া! ছুঁলেই চমকে উঠবে, জড়িয়ে ধরলে লজ্জা পাবে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  রোবট না মানুষ! নাকি ধাতব শরীরটা মানুষের মতোই অনুভূতিতে ভরিয়ে দিতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। এ রোবটের শরীরে থাকবে মানুষের মতোই চামড়া। তাতে ব্যথা-বেদনা-ভালবাসা সব অনুভূতিই থাকবে ষোলো আনা। এ রোবটকে জড়িয়ে ধরলে লজ্জা পেয়ে ভালবাসা জানাবে। হাত মেলালে আপনার মনও পড়তে পারবে। ঠাণ্ডা-গরম, হাসি-কান্না আদ্যোপান্ত মানুষের মতোই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের অনুভুতি থাকবে। বিশ্বের প্রথম এমন মানবিক রোবট তৈরি করতে চলেছেন মিউনিখ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবোটিক্স তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, এমন কৃত্রিম চামড়া (Artificial Skin) তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা যার মধ্যে থাকবে মানুষের ত্বকের মতোই সেন্সর। ছোট ছোট কৃত্রিম কোষ দিয়ে তৈরি হয়েছে সেই বিশেষ চামড়া। অনুভূতি আদানপ্রদানের জন্য তার মধ্যে থাকবে কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্র। কোষের মাধ্যমে বার্তা চলে যাবে মস্তিষ্কে। হোক না ধাতব শরীর বা যান্ত্রিক মস্তিষ্ক, এই কৃত্রিম চামড়াই হাসি-কান্না-ভালবাসার ঢেউ খেলিয়ে দেবে যান্ত্রিক মানবদের মধ্যে।

অধ্যাপক গর্ডন চেঙের সঙ্গে তার প্রিয় রোবট এইচ-১

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের বেশ কয়েকটি নামীদামি শিল্প প্রতিষ্ঠান মানুষের পাশাপাশি রোবট কর্মী নিয়োগের উপর বেশি জোর দিয়েছে। তার কারণ কম সময় বেশি উৎপাদন এবং নির্ভুল-নিখুঁত কাজ। মানুষ যা চারদিনে করবে, রোবট করবে কয়েক ঘণ্টায়। বিশ্বজুড়ে যন্ত্রমানবদের নিয়ে একটি পরিসংখ্যান বলেছিল ১০ হাজার কর্মীর কাজ দ্রুত ও নির্ভুল করতে পারে মাত্র ৮৫টি উন্নত প্রযুক্তির রোবট। বিজ্ঞানীরা বলছেন ২০২১ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের উৎপাদনই বাড়বে ১৪ শতাংশ।


কৃত্রিম চামড়া রোবটকে মানবিক করবে

টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখের গবেষক গর্ডন চেং রোবটের এমন কৃত্রিম চামড়া তৈরির ব্যাপারে বহু বছর ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের মতো অনুভূতি পেতে হলে ধাতব স্কিন নয় বরং সেন্সর-যুক্ত কোষ দরকার। অনেক সময় দেখা গেছে, একই সংস্থায় পাশাপাশি রোবট ও মানুষের সহাবস্থান সুখকর হয়নি। সামান্য ভুলে আঘাত করে বসেছে রোবট। তাকে দিয়ে কাজ করাতে গিয়ে জখম হয়েছেন অনেক কর্মী। তাছাড়া প্রোগ্রামিংয়ের সামান্য ভুলে কাজের ক্ষতি হয়েছে। অধ্যাপক গর্ডন বলেছেন রোবট তৈরির পরে তার উপর নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চলে। মানুষের সংস্পর্শে সে কতটা নিরাপদ, বাস্তবে তার প্রয়োগ কেমন হচ্ছে, সব বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত পেলে তবেই মানুষের সমাজে সেই রোবট ব্যবহারের ছাড়পত্র মেলে।

তবে এই রোবট হবে অনেক আলাদা। কারণ তার কৃত্রিম চামড়াই জানান দেবে মানুষ তার জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। ইটালিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির রোবোটিক্স বিশেষজ্ঞ চিয়ারা বার্তোলোজি বলেছেন,  “কৃত্রিম চামড়া বসানো রোবটদের অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন বল প্রয়োগের ক্ষমতা সবই হবে মানুষের মতো। ফলে গবেষণাগার হোক বা কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান, মানুষ কর্মীর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে তার আর কোনও সমস্যাই হবে না।”

সেন্সর বসানো কৃত্রিম চামড়া তৈরির পথে বিজ্ঞানীরা

১৩ হাজার সেন্সর থাকবে রোবটের শরীরে, হাসি-মজা-প্রেম-ভালবাসা সবই টের পাবে

একজন মানুষের শরীরে প্রায় ৫০ লক্ষ স্কিন রিসেপটর থাকে যা বার্তা পৌঁছে দেয় মস্তিষ্কে। যার কারণেই আমরা স্পর্শ বুঝতে পারি, তাপমাত্রার বদল থেকে আমাদের চারপাশে ঘটে চলা ঘটনা অনুভব করতে পারি। ঠিক তেমনই ভাবেই তৈরি হয়েছে রোবটের কৃত্রিম চামড়া। গর্ডন চেং বলেছেন প্রথম এমন মানবিক রোবট তৈরি হয়েছে যার নাম এইচ-১। এর চামড়ায় ১৩ হাজার সেন্সর রয়েছে। কাঁধ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে সেসব সেন্সর। এদের কাজ স্পর্শের ফারাক বুঝিয়ে দেওয়া, তাপমাত্রা, চাপ, বল, কাছে-দূরের অনুভূতি থেকে মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মতো কাজ করা। এই রোবট বুঝবে সে মানুষের শরীর স্পর্শ করছে না কোনও জড়বস্তুর। সেভাবে তার অভিব্যক্তিতেও বদল হবে।

গর্ডন বলেছেন, ছোট ছোট আরও সেন্সর তৈরির কাজ চলছে যা পুরোপুরি মানুষের অনুভূতি দেবে রোবটকে। জড়িয়ে ধরলে সে লজ্জা পাবে, ভালবাসা, সুখ-দুঃখ বুঝবে।

ইমপেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের অধ্যাপক এটিয়েনে বারডেটের কথায়, এমন মানবিক রোবট ভবিষ্যতে কতটা নিরাপদ হবে সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে তার অনুভূতি একটা সীমিত পর্যায় অবধি বেঁধে রাখারই চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তা ছাড়া এমন রোবটের দামও পড়বে অনেক। তাই আগামী দিনে উৎপাদন বাড়াতে ছোট ছোট সেন্সর নিয়ে কাজ করার কথাও ভাবছেন বিজ্ঞানীরা।

এর আগে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ওয়্যারলেস এবং ব্যাটারি ছাড়াই কৃত্রিম চামড়া বানিয়েছিলেন। তবে গর্ডন চেঙের বানানো চামড়া আরও বেশি উন্নত। এটিকে কম্পিউটার চালায় না। আগে থেকেই শেখানো পড়ানো থাকে সেন্সরকে। বিশেষ মুহূর্তেই জেগে ওঠে সেন্সর। বার্তা পাঠায় কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্রকে, ঠিক মানুষেরই মতো। এই চামড়ার প্রতিটি কোষই সক্রিয়। সূক্ষ্ম ঘটনাতেও সাড়া দেয়। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে বলেই জানিয়েছেন গর্ডন।

আরও পড়ুন:

১৮ হাজার বছর বয়স এই কুকুরছানার! উদ্ধার হয়েছে সাইবেরিয়ায়

Share.

Comments are closed.