চাঁদে ৪জি নেটওয়ার্ক হলে সঙ্কট বাড়বে! নোকিয়ার সঙ্গে নাসার চুক্তিতে তীব্র আপত্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের

পৃথিবীতে শুধু নয়, পৃথিবীর আত্মজা চাঁদের বুকেও নেটওয়ার্ক পরিষেবা তৈরি করতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে নাসা। চাঁদের মাটিতে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে ফোনও ব্যবহার করা যাবে। মহাকাশে রীতিমতো ওয়্যারলেস ব্রন্ডব্যান্ড কানেকশন তৈরি হবে।

১,৬৯৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝটিতি সফরে চাঁদে গিয়ে শুধু নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে আনা নয়। চাঁদের মাটিতে মহাকাশবিজ্ঞানীদের দু’দণ্ড বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা আস্তানা বানানোর পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চাঁদের বুকে যদি মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি হয় তাহলে তো নেটওয়ার্কও দরকার। সে জন্যই চাঁদের পিঠে ৪জি পরিষেবা ছড়িয়ে দিতে নোকিয়াকে বরাত দিয়েছে নাসা। আর এখানেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

 

নোকিয়াকে কী বরাত দিয়েছে নাসা

পৃথিবীতে শুধু নয়, পৃথিবীর আত্মজা চাঁদের বুকেও নেটওয়ার্ক পরিষেবা তৈরি করতে নোকিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে নাসা। চাঁদের মাটিতে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে ফোনও ব্যবহার করা যাবে। মহাকাশে রীতিমতো ওয়্যারলেস ব্রন্ডব্যান্ড কানেকশন তৈরি হবে। চাঁদের পিঠে বসেই ভয়েস কল বা ভিডিও কল করতে পারবেন নভশ্চররা। ৪জি থেকে পরবর্তীতে ৫জি-তে উত্তরণের পথও পরিষ্কার হবে। মহাকাশে টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তিতে বিপ্লব আসবে। ২০২২ সালের মধ্যেই চাঁদের সঙ্গে পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ তৈরি করতে তাই উঠেপড়ে লেগেছে এই মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা। তাদের লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে লুনার রোভার পাঠিয়ে এই নেটওয়ার্কের পাকাপাকি বন্দোবস্ত করা। এই রোভার চাঁদের পিঠে নেটওয়ার্ক কানেকশন তৈরি করবে। পৃথিবীতে বসে রিমোর্ট দিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করাও যাবে। নাসার পরবর্তী চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস’ মিশনে এই নেটওয়ার্ক পরিষেবাকে পুরোদস্তুর কাজে লাগাতে পারবেন নভশ্চররা।

You Might Get Better Signal On The Moon: The Moon To Get 4G Network

চাঁদে ৪জি নেটওয়ার্ক বসলে তছনছ হবে রেডিও যোগাযোগ

পৃথিবীতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে এত ঝক্কি, এবার চাঁদেও শান্তি নেই। আধুনিক প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক পরিষেবা সভ্যতার গতিকে যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি এর অনেক খারাপ দিকও আছে। বিশ্বজুড়েই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের মোবাইল নেটওয়ার্ক বসলে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। মহাজাগতিক বস্তু বা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের হদিশ পেতে এতদিন যে রেডিও তরঙ্গ মাপতেন বিজ্ঞানীরা, তার দফারফা করে দেবে ওই নেটওয়ার্ক পরিষেবা। চাঁদের সঙ্গে পৃথিবীর যে সংযোগ তৈরি হয়েছিল এতদিন, তাতে ব্যাঘাত হবে।

সেটা কীভাবে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশে কী ঘটনা ঘটছে তা জানার সবচেয়ে ভাল উপায় হল রেডিও টেলিস্কোপ। কোনও মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজখবর নিতে হলে এই ধরনের দূরবীক্ষণ যন্ত্রই ব্যবহার করা হয়। আসলে, আলোক রশ্মি প্রতিফলিত করে সবসময় মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজ মেলে না। কারণ, মহাকাশে নানারকম মহাজাগতিক রশ্মি, ধুলো, মেঘের বাধা থাকে। সেগুলো পেরিয়ে বহুদূরের কোনও নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা গ্রহের খোঁজ পেতে হলে রেডিও তরঙ্গকেই কাজে লাগাতে হয়। রেডিও টেলিস্কোপ বা বেতার দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

News - All Four Types of ALMA Antennas at AOS - ALMA

ভিনগ্রহে প্রাণ রয়েছে কিনা তা জানতেও এই রেডিও টেলিস্কোপের প্রয়োগই করা হয়। ২০০৭ সালে প্রথম রেডিও বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছিল মহাকাশে। মনে করা হয়েছিল ভিনগ্রহীদের থেকেই সেই আলোর বার্তা এসেছিল। কিন্তু সেকেন্ডের মধ্যেই সেই আলো উধাও হয়েছিল। বিজ্ঞানের ভাষায়, ভিনগ্রহীদের ওই আলোকে বলে ফাস্ট রেডিও বার্স্ট (এফআরবি)।  খুব শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ এই রেডিও বার্স্ট ধরতে পারে। ২০১৬ সালেও এমন রিপিটিং রেডিও বার্স্টের হদিশ মিলেছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। বহুদূরের গ্যালাক্সি থেকে কি বার্তা ভেসে আসছে তা ধরার জন্য রেডিও যোগাযোগই সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু এর মাঝে যদি মোবাইল নেটওয়ার্কের তরঙ্গ ঢুকে পড়ে তাহলে গোটা সিস্টেমটাই বিগড়ে যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগান বলেছেন, এই রেডিও যোগাযোগ খুবই স্পর্শকাতর। জোডরেল ব্যাঙ্ক অবজারভেটরিতে যে শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ আছে তা শুধুমাত্র চাঁদ কেন মঙ্গলেও ফোনের সিগন্যাল ধরতে পারে। তাহলে আর আলাদা করে চাঁদে নেটওয়ার্ক পরিষেবা বসানোর দরকার কী দরকার আছে!  সাগান বলেছেন, নাসার উচির রেডিও যোগাযোগে আরও জোর দেওয়া। তার বদলে বাণিজ্যিকভাবে ৪জি নেটওয়ার্ক বসিয়ে মহাকাশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপত্তি ডেকে আনার কোনও মানেই হয় না।

New use for telecommunications networks: Helping scientists peer into deep space | EurekAlert! Science News

আর্টেমিস মিশনের জন্যই যত হুড়োহুড়ি!

২০২৪ সালেই চাঁদের মাটিতে মানুষ নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করছে নাসা। আর্টেমিস মিশন নিয়ে বৃহত্তর পরিকল্পনা চলছে। চাঁদের কক্ষপথে এই প্রথম ‘লুনার স্পেস স্টেশন’ বানানো হবে। এই প্রকল্পের নাম  ‘গেটওয়ে টু মুন’ বা ‘আর্টেমিস’। পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষজ বলের মায়া কাটিয়ে মহাকাশযানকে চাঁদে পাঠানোর ঝক্কি অনেক। কাজেই লুনার স্পেস স্টেশন হলে সেখানে বসেই গবেষণা চালানো যাবে। আবার যান বানিয়ে যখন তখন পাঠিয়ে দেওয়া যাবে মহাকাশে। নাসা জানিয়েছে, এই লুনার স্পেস স্টেশন হবে সৌরমণ্ডলের বিভিন্ন গ্রহে যাওয়ার জন্য নাসার একমাত্র ‘ট্রান্সপোর্টেশন হাব’। চাঁদের অভিকর্ষ বলের টান পৃথিবীর তুলনায় বেশ হাল্কা, তাই মহাকাশযানের জ্বালানি সাশ্রয়ও হবে অনেকটাই। এইজন্য অবশ্য লঞ্চপ্যাড বানাতে হবে চাঁদের বুকে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে পৃথিবী থেকে বার বার মালপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝক্কি অনেক। তাই আগে চাঁদের কক্ষপথে জমিয়ে বসতে হবে মার্কিন গবেষণা সংস্থাকে। তার জন্যই এই লুনার স্পেস স্টেশন। তাছাড়া চাঁদের পিঠে বা লুনার সারফেসে বাঙ্কার তৈরি করার পরিকল্পনাও অনেকদিনের। শুধু তাই নয় চাঁদের মাটিতে বসে জ্বালানি তৈরি, জলের অনু ভেঙে হাইড্রজেন ও অক্সিজেন তৈরি করে রকেটের জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনাও আছে নাসার। এইসব কাজের জন্য চাঁদের পিঠে থাকার একটা বন্দোবস্তও করতে হবে। তাই নেটওয়ার্ক পরিষেবা হলে চাঁদ ও পৃথিবীর যোগাযোগটা আরও জোরালো হবে। সেই কারণেই ২০২২ সালের মধ্যে নোকিয়াকে ৪জি নেটওয়ার্ক বসানোর কাজ সেরে ফেলতে বলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More