নতুন সূর্য পৃথিবীরই কাছে, তাকে ঘিরে পাক খাচ্ছে দুই দানব গ্রহ, বিরল ঘটনা বললেন বিজ্ঞানীরা

‘মাল্টিপল এক্সোপ্ল্যানেট সিস্টেম’ খুব কমই দেখা যায়। ইএসও-র ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ (VLT)-এ ধরা দিয়েছে পৃথিবীর সৌরমণ্ডলের মতোই আরও এক গ্রহ-নক্ষত্রের ভরা সংসার। তবে এখানে গ্রহের সংখ্যা দুই। তাদের অধিপতি একজনই। পৃথিবী থেকে ৩০০ আলোকবর্ষ দূরেই এই নতুন পরিবার রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সূর্যেরই মতো চেহারা। ভরও প্রায় এক। তেজেও কমতি নেই। শুধু বয়সটাই কম। এমন কমবয়সী সূর্যের চারপাশে আগুনে চেহারা নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে দুই বিশাল গ্রহ। ভরে ও আয়তনে তারা পৃথিবীর চেয়ে ঢের বড়। উত্তাপও বেশি। সাধারণত এমন নক্ষত্রের দোসর হয় একটিই গ্রহ, কিন্তু এখানে দুটি পেল্লায় গ্রহ একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে সূর্যের মতো ওই তারাকে। মহাকাশে গ্রহ-তারার এই নতুন সংসারে উঁকি দিল ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরি (ESO)

    ‘মাল্টিপল এক্সোপ্ল্যানেট সিস্টেম’ খুব কমই দেখা যায়। ইএসও-র ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ (VLT)-এ ধরা দিয়েছে পৃথিবীর সৌরমণ্ডলের মতোই আরও এক গ্রহ-নক্ষত্রের ভরা সংসার। তবে এখানে গ্রহের সংখ্যা দুই। তাদের অধিপতি একজনই। পৃথিবী থেকে ৩০০ আলোকবর্ষ দূরেই এই নতুন পরিবার রয়েছে।

    সূর্যের মতো সেই তারার নাম TYC 8998-760-1। ভর প্রায় এক। তবে বয়স এক কোটি ৭০ লক্ষ বছরের কাছাকাছি। সূর্যের বয়স যেখানে ধরা হয় প্রায় ৪৬০ কোটি বছর। এমন নবীন সূর্যের তেজও কিছু কম নয়। তার টানেই অবিরাম পাক খেয়ে চলেছে দুই গ্রহ।

    নেদারল্যান্ডের লেইডেন ইউনিভার্সিটির মহাকাশবিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার অন্যতম মুখ্য বিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার বন বলেছেন, TYC 8998-760-1 নক্ষত্রকে ঘিরে যে দুই গ্রহ পাক খাচ্ছে তাদের ভর পৃথিবীর চেয়ে বেশি। বৃহস্পতির ভরের চেয়েও ১৪ গুণ বেশি। তাদের কক্ষপথ বৃহস্পতি ও শনির থেকেও ৩০ গুণ বড়। পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে যে দূরত্ব, এই দুই গ্রহ থেকে ওই নবীন সূর্যের দূরত্ব ১৬০ থেকে ৩২০ গুণ বেশি। এই দুই গ্রহেরই তাপ অনেক বেশি।

    আরও পড়ুন: রাক্ষুসে তারার টানে ছুটছে ব্রহ্মাণ্ডের উষ্ণতম গ্রহ, জ্বলেপুড়ে ছাই হচ্ছে, উবে যাচ্ছে, আবার ফিরছে ফিনিক্স পাখির মতো

    পৃথিবী থেকে তিন হাজার আলোকবর্ষ দূরে আরও এক পৃথিবীর খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেই পৃথিবীরও এক সূর্য আছে যার নাম কেপলার-১৬০( Kepler-160) । তাকে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীর মতো দেখতে কেওআই-৪৫৬.০৪ (KOI-456.04) । গটিনজেনের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চ ওই নতুন পৃথিবী ও সূর্যের খোঁজ দিয়েছে।

    নাসা আগেই জানিয়েছিল, গোটা নক্ষত্রপুঞ্জে সূর্যের মতো প্রতি পাঁচটা তারার অন্তত একটির চারপাশে ঘুরছে একটা করে পৃথিবীর মতো গ্রহ। যার আকার থেকে শুরু করে আবহাওয়া, অনেক কিছুই মিলে রয়েছে পৃথিবীর সঙ্গে। তার মধ্যে আবার বেশ কিছু গ্রহে নাকি বেশি শীতও পড়ে না, আবার তাপমাত্রার পারদও চড়ে না। মোটামুটি প্রাণ তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ। তাই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের খোঁজে মহাকাশবিজ্ঞানীদের অভিযান দীর্ঘ বছরের।

    ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের স্পেস টেলিস্কোপ দেখিয়েছে নতুন খুঁজে পাওয়া এই সৌরমণ্ডলের যে নেতা অর্থাৎ কেপলার-১৬০ নক্ষত্র সূর্যের মতো ইনফ্রারেড রশ্মির বিকিরণ করে ঠিকই, তবে অত আগুনে রূপ নেই। এই তারার পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ৫২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সূর্যের চেয়ে ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এর তেজও সূর্যের চেয়ে অনেকটাই কম। এই তারা  নিভু নিভু আঁচের। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে রেড ডোয়ার্ফ স্টার’ (Red Dwarf Stars) বা লাল বামন তারা। মহাকাশে এমন অনেক তারা আছে যেগুলি তুলনায় কম উজ্জ্বল। তাদের ‘লাল বামন’ বলা হয়। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা লাল বামনের পনেরো শতাংশের চারপাশে পৃথিবীর মতো গ্রহ ঘুরছে। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা তথ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন, ৫০ শতাংশ লাল বামনের চারপাশেই রয়েছে এমন গ্রহ।

    মাসের গোড়াতেই এমন দুই লাল বামনের খোঁজ দিয়েছিল  নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট ওয়াইড-ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার’ (NEOWISE) মহাকাশবিজ্ঞানীরা যাদের  ‘বাদামি ডোয়ার্ফ’ বলেছিলেন। ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরারে দেখা গিয়েছিল এদের রঙ টকটকে লালচে-বাদামি। যতই কাছে যাওয়া যাবে রঙ বদলে দেখাবে ম্যাজেন্টা বা লালচে-কমলা।  বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে এরা ভরে ৭৫ গুণ বেশি। বয়স কম করেও ১০০০ কোটি বছর। শরীর তৈরি হয়েছে  গ্যাস দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেদিন এই দুই বামনের জীবনবৃত্তান্ত বার করে ফেলা যাবে, সেইদিনই অন্যান্য ভিন গ্রহদের জন্মরহস্যও সামনে চলে আসবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More