পাঁচ গ্রহাণু তেড়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, কমছে দূরত্ব, বাড়ছে গতি, একটির পরিধি ১৭৩ ফুট

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা নিয়ার আর্থ অবজেক্ট (NEO)-দের গতিবিধির দিকে সতর্ক নজর রেখে বসে আছে নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ সেন্টার (CNEOS)। এই পাঁচ গ্রহাণুর কোনওটা পেল্লায়, কোনওটা মাঝারি আবার কোনওটা তুলনায় ছোট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসম্ভব দ্রুত তাদের গতি। সেকেন্ডে সেকেন্ডে গতি বাড়ছে। ঘাতক গ্রহাণু কিনা জানা নেই, তবে পৃথিবীর সঙ্গে হালকা টক্কর হতেই পারে। আবার পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে মুখ ঘুরিয়ে তারা বিদায় নিতে পারে মহাশূন্যে। শঙ্কা আর সম্ভাবনা দুই আছে। পৃথিবীর এই করোনা কালে আচমকাই আরও পাঁচ আগন্তুককে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে নাসা।

    পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা নিয়ার আর্থ অবজেক্ট (NEO)-দের গতিবিধির দিকে সতর্ক নজর রেখে বসে আছে নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ সেন্টার (CNEOS)। এই পাঁচ গ্রহাণুর কোনওটা পেল্লায়, কোনওটা মাঝারি আবার কোনওটা তুলনায় ছোট। তবে ওই পঞ্চ পাণ্ডবের সকলেই প্রায় একই সঙ্গে ছুটে আসছে পৃথিবীর দিকে। কেউ একটু আগে পৌঁছবে, কেউ একটু পরে।

    এই পাঁচ গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েডের নামকরণও হয়েছে। ১০৮ ফুট পরিধির ২০২০ কেকে৭ গ্রহাণুটি ইস্টার্ন টাইম ৪টে ৪৩ মিনিট নাগাদ পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে। পরেরটি আকারে ১১৫ ফুট। নাম ২০২০ কেডি৪। সন্ধে অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ছিল ২৫ লক্ষ মাইলের মতো। এর গতি আবার ঘণ্টায় ১২ হাজার মাইল। রাতের মধ্যেই এই গ্রহাণু পৃথিবীকে পেরিয়ে যাবে কিনা বা পৃথিবীর কত কাছে চলে আসবে সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

    তিন নম্বর গ্রহাণু আকারে অনেকটাই বড়। পরিধিতে প্রায় ১৪৪ ফুট। এর নাম ২০২০ কেএফ। এই গ্রহাণুর গতিও বেশি, ঘণ্টায় ২৪ হাজার মাইল। এরও গতিমুখ পৃথিবীর দিকেই। ২০২০ কেজে১ গ্রহাণুর পরিধি ১০৫ ফুট হলেও এর গতি নেহাত কম নয়। ঘণ্টায় ১১ হাজার মাইল। আর যে গ্রহাণুকে নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মাথাব্যথা তার নাম ২০২০ কেই৪। এই গ্রহাণু আকারে পেল্লায়। পরিধি প্রায় ১৭১ ফুট। নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট সেন্টার জানাচ্ছে, ঘণ্টায় ২৪ মাইল বেগে ধেয়ে আসা এই গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘাতের সম্ভাবনা আছে। তবে টক্কর সামান্যই হবে আর পৃথিবীরও কোনও ক্ষতি হবে না। তবে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে এই আগন্তুক জোরজার অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলেপুড়ে যাবে। মহাকাশেই বিকট বিস্ফোরণ হবে।

    পৃথিবীর দিকে গ্রহাণুদের নজর বহুদিনের। সেই ২০১৬ সালেই বিশাল চেহারার এক গ্রহাণু যার নাম বেন্নু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিল। তবে এই গ্রহাণু এখনও অনেক দূরে। পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে তার বিস্তর দেরি। সেই ২১৩৫ সাল নাগাদ পৃথিবী আর চাঁদের মাঝামাঝি চলে আসবে এই বেন্নু। পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে তার সময় লাগবে দেড়শো কি পৌনে দুশো বছর। নাসা এই গ্রহাণুর গতিবিধি বুঝে একে আটকানোর ফন্টি এঁটেছে। বেন্নুতে পৌঁছে এই গ্রহাণুর হালহকিকত দেখার জন্য তার মহাকাশযান ‘ওসিরিস-রেক্স’ কে পাঠিয়েছে। এই মহাকাশযান বেন্নুতে পৌঁছে তার কার্বন ভরা পিঠ থেকে নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে আনবে। গ্রহাণুতে জলের অস্তিত্ব আছে কিনা খুঁজে দেখবে।

    এপ্রিলেই আরও এক গ্রহাণু তেড়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে। তবে পৃথিবীর সঙ্গে কোনও সংঘাতে যায়নি। চুপচাপ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছে। এই গ্রহাণুর নাম ছিল (৫২৭৬৮)১৯৯৮ ওআর২ (1998 OR2)। পাথুরে বিশাল মাপের এই গ্রহাণুর পরিধি ২ কিলোমিটার। গতি ঘণ্টায় ১৯,৪৬১ মাইল। যদিও ১৯৯৮ সালেই এই গ্রহাণুকে মহাশূন্যে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিল নাসা। তখনই নাকি এর ভাবগতিক সন্দেহজনক ছিল। পৃথিবীর দিকেই কেন জানি তার একটা দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল। যদিও পৃথিবীর কাছাকাছি এসে সেই টান কাটিয়ে গ্রহাণু পাড়ি দিয়েছে অন্যত্র। এই গ্রহাণুকে নিয়ে বেশ চর্চাও হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্ধকারে গ্রহাণুর যে ছবি অ্যারেসিবো অবজারভেটরি সামনে এনেছিল, সেটা দেখে মনে হচ্ছিল গ্রহাণু মুখে মাস্ক পরে আছে। করোনা জর্জরিত পৃথিবীর দিকে গ্রহাণুও মাস্ক পরে ছুটে আসছে এমন মিমও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল সাইটগুলিতে।

    জুনেই আরও দুটি গ্রহাণুর পৃথিবীর কাছাকাছি আসার কথা। একটির নাম ২০০২ এনএন৪, যেটি পৃথিবীর সামনাসামনি আসবে ৬ জুন। এর পরিধিও বিরাট প্রায়৫৭০ মিটার। গতিবেগ ৪০,১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ৮ জুন পৃথিবীর কক্ষের কাছ এসে পড়তে পারে গ্রহাণু ২০১৩এক্সএ২২। এর পরিধি ১৬০ মিটার এবং গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৫০ কিলোমিটার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More