বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

দিদির থেকেই সৌজন্য শিখেছি, উনি তো মোদীকে পাঞ্জাবি-মিষ্টি পাঠান! বিস্ফোরক সব্যসাচী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে অপসারণের যখন প্রায় সমস্ত প্রস্তুতিই নিয়ে ফেলেছে তৃণমূল, তখন রবিবার অনেক রাতে ফের আন্দোলিত হয়ে গেল বাংলার রাজনীতি। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে মমতার প্রধান অভিযোগ, তিনি মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাঁকে বাড়িতে ডেকে লুচি-আলুর দম খাওয়ান!

মমতার সেই কথাকেই তাঁর বিরুদ্ধে কুশলে অস্ত্র করতে চাইলেন সব্যসাচী। এ দিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সল্টলেকের বিএফ ব্লকে সব্যসাচীর সুইমিং ক্লাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান মুকুল রায়। তার পর তাঁকে পাশে নিয়েই সব্যসাচী বলেন, “এই সৌজন্যের রাজনীতি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই শিখেছি। আমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মিষ্টি পাঠান, পাঞ্জাবি পাঠান। সুতরাং কে কী বলল তার জন্য আমার সৌজন্যের রাজনীতিতে বদল আনব না।”

এ দিন বিকেলে তৃণমূল ভবনে বিধাননগরের কাউন্সিলরদের বৈঠক ডেকে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সর্বসম্মত প্রস্তাব নেওয়া হয়। বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, সব্যসাচী দল বিরোধী কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, সল্টলেক পুরসভার কাজ আপাতত ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়ই করবেন।

এ দিন দলের সেই সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেন সব্যসাচী। তিনি বলেন, “আমি আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, পুর আইন অনুযায়ী এরকম ভাবে মেয়রকে সরানো যায় না। সুতরাং আমার যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালন করে যাব।”

দেখুন ভিডিও।

প্রসঙ্গত, কাল মেয়র পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গেও সব্যসাচী এ দিন বলেন, এ ধরনের বৈঠকের আইনত কোনও গুরুত্ব নেই। কে কার ঘরে কজন কাউন্সিলর নিয়ে মিটিং করলেন, তাতে কিছু আসে যায় না।

বিধাননগর বিধানসভার বিধায়ক তথা দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুরও এ দিন নাম না করে সমালোচনা করেন সব্যসাচী। তিনি বলেন, আমার বিধানসভা কেন্দ্রে দলকে জিতিয়েছি। কিন্তু বারাসত লোকসভা কেন্দ্রে যিনি নিজেকে দলের কাণ্ডারী বলে দাবি করছিলেন, তাঁর বিধানসভায় তো তিনি হেরেছেন। তাঁর ওয়ার্ডে শুধু নয়, তাঁর পার্টেও তৃণমূল হেরেছে।

এখানেই থামেননি সব্যসাচী। দল যাতে শোকজ করতে না পারে তার বন্দোবস্তও করে রাখেন। এ দিন সুইমিং পুল ক্লাবে মুকুল-সব্যসাচী নৈশভোজ করেন। সে প্রসঙ্গে সব্যসাচী বলেন, “ক্লাবে কে আসবে কে না আসবে আমি তো বলতে পারি না। সেটা ক্লাবের সদস্যদের উপর নির্ভর করে।”

Comments are closed.