বুধবার, মে ২২

#Breaking: সব শোধবোধ, সব্যসাচীই মেয়র, ‘বিনা নেমন্তন্নে ঢুকে পড়েছিলেন মুকুল রায়’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব উত্তেজনার অবসান। বিধাননগরের মেয়র পদে থাকছেন সব্যসাচী দত্তই। রবিবার দুপুরে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে বিধাননগরের কাউন্সিলরদের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথাই জানান তৃণমূল নেতৃত্ব। একপাশে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অন্য পাশে সুজিত বসু, মাঝে সব্যসাচীকে নিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দিলেন, “মুকুল রায়ের চাল বুঝতে পারেননি সব্যসাচী। কেউ যদি বিনা নেমন্তন্নে কারও বাড়িতে ঢুকে পড়ে তাহলে তো ভদ্রতার খাতিরে বের করে দিতে পারেন না।” সেই সঙ্গে কলকাতার মেয়র বলেন, “সব্যসাচী বুঝতে পারেননি বাইরে সংবাদমাধ্যামকে ডেকে এনে এমন কাণ্ড করছেন মুকুল রায়।”

শুক্রবার সন্ধে বেলা সব্যাসাচীর সল্টলেকের বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি, আলুরদম খেতে যাওয়ার পরই তৃণমূলের ভিতর তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডাকতে। দায়িত্ব দেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং ববি হাকিমকে। অনেকেই মনে করেছিলেন, বিধাননগরের মেয়র পদে আর সব্যসাচীকে রাখবেন না মমতা। রবিবার সকালে সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু সব শোধবোধ হয়ে গেল বৈঠকে।

এ দিন সব্যসাচী সে দিনের ঘটনা পরম্পরা বলতে গিয়ে বলেন, “আমার একটা বদ অভ্যেস হচ্ছে আমি সব ফোন ধরি। চেনা, অচেনা সব ফোন।  শুক্রবার সন্ধে সাড়ে সাতটায় আমার কাছে একটা ফোন আসে। আমি ধরে বলি হ্যালো। ও দিক থেকেও বলে হ্যালো। তারপর বলে আমি দাদা বলছি। আমি বুঝতে পারিনি। তখন বলে, আমি মুকুলদা বলছি। আমি বলি, বলো। তখন আমায় বলেন, আমি সল্টলেকে এসেছি। তোদের সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয় না। আমি তোর বাড়িতে যাচ্ছি। তুই কোথায়?” এরপর সব্যসাচী সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ওই সময়টা তাঁর খুব ধকল গিয়েছে। টানা আড়াই রাত্রি জাগা। প্রসঙ্গত মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণিদেবীর মৃত্যুর পর সেখানে যে ছ’জনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন সব্যসাচী। তাঁর কথায়, যখন মুকুল রায়ের ফোন এসেছিল তখন তিনি ঠাকুর নগর থেকে ফিরছিলেন।

বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাটের বিধায়ক বলেন, “আমার সঙ্গে মুকুলদার অনেক দিনের সম্পর্ক। আমার পরিবারের সঙ্গেও। আমার স্ত্রী ইন্দ্রানীকে বলেন, লুচি-আলুরদম খাব। তুই তো করিস। আজকে কর। যদি কেউ বাড়িতে গিয়ে বলেন লুচি আলুর দম খাব তাঁকে কি না করা যায়।” সেই সঙ্গে সব্যসাচী এ-ও বলেন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দলের অনেক নেতারই খুব ভাল সম্পর্ক। অনেকেই তাঁর বাড়িতে যান। বিধানবগরের মেয়রের কথায়, “বালু দা বাড়িতে গেলে আমার মিসেসের মাথায় গাঁট্টা মেরে বলেন, কী রে কেমন আছিস? ববিদা বৌমা বলেন। সুজিত যায়।” বোঝাতে চান, মুকুলের সঙ্গে সে দিনের সাক্ষাতে অন্য কোনও ব্যাপারই ছিল না।

এ দিনও সকাল বেলা রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন সব্যাসাচী। কিন্তু দিদির দেখা মেলেনি। সবযাসাচী বলেন, “সে দিন ভারতের খেলা ছিল। তাই খেলা, বিরাট কোহলি এ সব নিয়েই কথা হয়েছিল। আর লুচি আলুরদম খেতে খেতে নানুর, চমকাইতলা, কেহপুরের সময়কার গল্প হয়।”

এ দিন দলের তরফে ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দেন, “বিজেপি আমাদের ঘোষিত শত্রু। তাই ওই দলের কারও সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে না।” দলের প্রতি যে তাঁর আনুগত্য একই রকম রয়েছে, তা এ দিন সভার ভিতরে এবং সাংবাদিক বৈঠকে বারবার বলেন সব্যসাচী। শুক্রবার থেকে যে পারদ একেবারে উপর দিকে উঠে গিয়েছিল। ভোট ঘোষণার ঘণ্টাখানেক আগে তা এক্কেবারেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

Shares

Comments are closed.