সোমবার, আগস্ট ১৯

মানুষের আশীর্বাদ না পেলে, মন্ত্রীর পদে থাকার দরকার কী? পার্থকে ঠুকলেন সব্যসাচী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশনের মঞ্চে পৌঁছে গেলেন বিধাননগরের সদ্যপ্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। দীর্ঘ জল্পনার শেষে বৃহস্পতিবারই নিজের পদত্যাগের ঘোষণা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজারহাট-নিউটাউন-এর বিধায়ক সব্যসাচী। তার পরেই, শিক্ষকদের অনশনের ষষ্ঠ দিনে, তিনি পৌঁছে যান বিকাশ ভবনের সামনে, আন্দোলনকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে।

গত কয়েক দিন ধরেই সর্বভারতীয় মাপকাঠিতে ন্যায্য ও প্রাপ্য বেতন কাঠামোর দাবিতে পথে নেমেছেন সারা রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকেরা। মৌখিক ও লিখিত ভাবে একাধিক বার আবেদন করার পরে কাজ না হওয়ায়, অনশন শুরু করেছেন তাঁরা। তাঁদেরই নৈতিক সমর্থন জানাতে পৌঁছে গেলেন সব্যসাচী দত্ত।

অনশন মঞ্চ থেকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রীরা সকলে ঠান্ডা ঘরে, শিক্ষকেরা রাস্তায় কেন! তাঁর অভিযোগ, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পানীয় জলের সরবরাহ। ব্যবস্থা নেই শৌচালয়েরও। সব্যসাচী দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের মানবিকতার অধিকার লঙ্ঘন করছে রাজ্য। তাঁর কথায়, “আন্দোলনকারীদের দাবি ন্যায্য না অন্যায্য সেটা পরে বিচার করার বিষয়। প্রাথমিক ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু কেন থাকবে না আন্দোলনকারীদের জন্য! এত মানুষ আছেন, এত মহিলা আছে, শৌচালয়টুকু থাকবে না!”

সব্যসাচী আরও বলেন, এই সরকার মানুষের পাশে থাকবে বলেই এসেছিল। থাকতে না পারলে সে জবাব দেবে মানুষই। তাঁর অভিযোগ, “এখানে শাসনের নামে শোষণ হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাবতে কষ্ট হয়, এই দলের জন্য এত ঘাম দিয়েছি।” আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি জানান, এত দিন ধরে এই অবস্থান, অনশন চলছে। কিন্তু না এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী, আর না এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী আসবেনই বা কী করে, তাঁর এসি ঘরে বোধ হয় ধুলো পড়ে গেছে। সব্যসাচী আরও বলেন “জল না পেয়ে যদি আপনারা মারা যান, সেটাই বোধ হয় ওঁদের লক্ষ্য। তবু মনে রাখুন, এক জন যোদ্ধা মরার আগে মরে না।”

কী বলছেন তিনি, দেখুন।

এর আগেও বিদ্যুৎ ভবন অভিযান করে বিদ্যুৎকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন সব্যসাচী। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র দাবিতে বিরোধীদের চাপে এমনিতেই এখন অস্বস্তিতে আছে তৃণমূল। তার উপরে দলেরই বিধায়ক সেই দাবি তোলায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। এ দিন ফের সেই পথেই হাঁটলেন সব্যসাচী।

গত কালই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, “ওদের দাবি অন্যায্য, বসে থাকলে বসে থাক।” সব্যসাচী দত্ত এই প্রসঙ্গে বলেন, “উনি শিক্ষামন্ত্রী, এ ভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। মন্ত্রী যদি মানুষের আশীর্বাদ না পান, তবে মন্ত্রীর পদে তাঁর থাকার চেয়ে না থাকা ভাল।”

আরও পড়ুন…

Breaking: বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সব্যসাচীর, এবার কোন পথে?

Comments are closed.