শুক্রবার, মে ২৪

হাইপ্রোফাইল কেরিয়ারে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা? সম্পত্তির প্রতি লোভ? রোহিতের স্ত্রী অপূর্বাকে নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা নারায়ণ দত্ত তিওয়ারির থেকে পিতৃপরিচয় আদায়ের জন্য একসময় আদালতে ছ’বছর আইনি যুদ্ধ চালিয়েছিলেন রোহিত শেখর তিওয়ারি। প্রভাবশালী বাবাকেও ছেড়ে কথা বলেননি। কিন্তু সংসার আর সম্পর্কের মারপ্যাঁচই শেষে দুুর্বিষহ করে তুলেছিল তাঁর জীবন, এমনটাই জানিয়েছেন রোহিতের মা উজ্জ্বলা। তার একমাত্র ও প্রধান কারণ রোহিতের স্ত্রী অপূর্বা শুক্ল। হাইপ্রোফাইল খুনের তালিকায় ইতিমধ্যেই ঢুকে পড়েছে রোহিতের নাম এবং জলঘোলাও হচ্ছে বিস্তর। মূল অভিযুক্ত অপূর্বাকে গ্রেফতার করার পরেও তাঁকে নিয়ে কৌতুহল মিটছে না। মদ্যপ স্বামীর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়াই কি খুনের কারণ, নাকি হাইপ্রোফাইল কেরিয়ারের অপূর্বার অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষাই ছিল এর জন্য দায়ী, প্রশ্ন উঠছে বিস্তর।

রোহিতের সঙ্গে অপূর্বার আলাপ ২০১৭ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমে। রোহিতের মা উজ্জ্বলা জানিয়েছেন, এক বছর মেলামেশার পর হঠাৎই নাকি অপূর্বার সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানা কথা বলেছিলেন রোহিত। তাঁকে বিয়েই করতে চাননি তিনি। পরে আবার নিজের মত বদলান। উজ্জ্বলার কথায়, ” গত বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক ছিল না দু’জনের। ২ এপ্রিল রোহিত আমাকে এসে বলে যে তাঁদের ঝামেলা মিটেছে, এ বার বিয়ে করতে চান।”

রোহিতের মায়ের দাবি, বিয়ের আগে এক প্রেমিক ছিল অপূর্বার। রোহিতের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ার পরেও সেই প্রেমিকের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ রাখতেন তিনি। সেটাই হয়তো জানতে পেরেছিলেন রোহিত। উজ্জ্বলার দাবি, তাঁদের সম্পত্তির দিকেও নজর ছিল অপূর্বার। দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনির তিন তলা বাংলো হাতানোর অভিপ্রায়ও নাকি ছিল তাঁর। সেই লোভের কারণেই ফের একবার রোহিতের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়েন তিনি।

ইনদওরের মেয়ে অপূর্বার বাবা পিকে শুক্ল জবলপুর হাইকোর্টের ইনদওর বেঞ্চের অভিজ্ঞ আইনজীবী। অপূর্বাও পেশায় আইনজীবী ছিলেন। ২০১৫  সালে ইনদওরেই প্র্যাকটিস শুরু করেন। ২০১৬-তে চলে আসেন সুপ্রিম কোর্টে। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের যুব শাখার সভাপতিও হয়েছিলেন অপূর্বা। গত বছর ১১ মে সাতপাকে বাঁধা পড়েন রোহিত-অপূর্বা। রোহিতের বাবা এন ডি তিওয়ারি তখন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য হাসপাতালে শয্যাশায়ী।

উজ্জলা শর্মার কথায়, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই অশান্তি শুরু হয় রোহিত-অপূর্বার মধ্যে। একই বাড়িতে আলাদা থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এমনকি মাঝে বেশ কয়েকবার বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গও উঠেছিল।  রোহিতের ভাই সিদ্ধার্ধর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কানাঘুষোও শোনা যাচ্ছিল। উজ্জ্বলা জানিয়েছেন, প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন রোহিত। মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

গত ১৬ এপ্রিল নিজের ঘরে তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হৃদরোগই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে পরিবারের তরফে জানানো হলেও পরে তদন্তে জানা যায় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে রোহিতকে খুন করেন তাঁর স্ত্রী অপূর্বাই। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়ার পর অপূর্বা স্বীকার করেছেন, তিনিই খুন করেছেন রোহিতকে। কারণ, তাঁর ‘দাম্পত্য দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন রোহিত’। এও জানিয়েছেন, খুনের দেড় ঘণ্টার মধ্যেই যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তিনি মুছে ফেলেছিলেন।

পুলিশকে অপূর্বা জানিয়েছেন, প্রায়ই মদ খেয়ে বাড়ি ফিরতেন রোহিত। তাঁদের মধ্যে আর কোনও সম্পর্কই টিকে ছিল না। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১ টায় বাড়ি ফিরে রাতের খাওয়া সারেন রোহিত। ডিফেন্স কলোনির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ধরা পড়েছে মদ খেয়ে টলতে টলতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন তিনি। অপূর্বা জানিয়েছেন, ডিনারের পরেও একপ্রস্থ মদ্যপান করেছিলেন রোহিত। তার পর খেয়েছিলেন ঘুমের ওষুধ, যা নাকি রোজই তিনি খেতেন।

অপূর্বা পুলিশকে বলেছেন, “রোহিত আমার সব স্বপ্নকে তছনছ করে দিয়েছিল। রোজই আমাদের ঝগড়া হতো। সে দিনও মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে ও আমার সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তখনই আমি ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। মুখে বালিশ চেপে ধরি। নেশার ঘোরে থাকায় আমাকে রুখতে পারেনি রোহিত। এর পর সব প্রমাণ আমি মিটিয়ে দিই।”

Shares

Comments are closed.