মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

দশমীতে রাফাল এল হাতে, ‘ঐতিহাসিক দিন’ বললেন রাজনাথ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে হল ‘শস্ত্র পুজো।’ তারপর আড়ম্বরের সঙ্গে প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে তুলে দিল ফ্রান্সের ‘দাসো অ্যাভিয়েশন।’ রাফাল ফাইটার জেটের ককপিটে হাত রেখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন, “ভারতের ঐতিহাসিক দিন।”

প্রতীক্ষার অবসান হল। অক্টোবরেই চুক্তিমাফিক প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। অবশেষে বিস্তর বিতর্ক পিছনে ফেলে ভারতের হাতে এল রাফাল যুদ্ধবিমান। নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট রাফালকে বেছে নেওয়ার পরে ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। মোট ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। ফ্রান্সের রাফাল নির্মাতা সংস্থা ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ জানিয়েছে, মোট ৫৯ হাজার কোটি টাকা দামের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম চারটি ভারতে পৌঁছবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মে মাসে।

প্রথম রাফাল হাতে পেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি খুব খুশি সঠিক সময়ে রাফাল আমাদের হাতে এল। এই যুদ্ধবিমান ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।” রাজনাথ আরও বলেন, “ফরাসি ভাষায় রাফাল কথার অর্থ হল বাতাসের ঝাপটা। আমি মনে করি ভারতীয় বায়ুসেনাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলতে রাফাল তার নামের সার্থকতা বজায় রাখবে।”

প্রসঙ্গত আজ ভারতের বায়ুসেনার ৮৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ সিং ভাদোরিয়া বলেন, রাফাল এবং এস-৪০০ মিসাইল ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণের ক্ষমতাকে এক ধাক্কায় অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে। বস্তুত, বায়ুসেনা প্রধানের নামেই প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমানের টেল নম্বর রাখা হয়েছে ‘আরবি ০১’। রাফাল বিমান কেনার সময় ফরাসি সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দলের সদস্য ছিলেন ভাদুড়িয়া। বিমান বাহিনীর প্রথম অফিসার হিসাবে রাফাল চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

আরও পড়ুন: কিসের এত আস্ফালন? ভারতের সুখোই-৩০ ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তান, ক্ষমতাও তাদের নেই! প্রমাণ করে দিল বায়ুসেনা

সামরিক পরিভাষায় রাফালকে ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ বলা হয়। কিন্তু যে ফরাসি সংস্থা রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরি করে, সেই ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ রাফালকে ‘ওমনিরোল’ এয়ারক্র্যাফ্ট বলতেই বেশি পছন্দ করে। ফ্রান্সের তৈরি এই রাফাল যুদ্ধবিমান প্রতিপক্ষের উপর আঘাত হানতে পারে সুনিপুণ দক্ষতায়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাস ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকী পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের। ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে, রাফালকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘মেটিওর’ এবং ‘স্কাল্প’, এই দু’টি মিসাইল যোগ হবে রাফালে। লক্ষ্যসীমার বাইরে নিপুণ আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ‘মেটিওর’। লো-অবর্জাভর ক্রুজ মিসাইল স্ক্যাল্প (ফ্রান্সে এর নাম স্ক্যাল্প ইজি) ব্যবহার করে ব্রিটিশ ও ফরাসি বায়ুসেনা। ৫৬০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল রাফালকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে বলে জানিয়েছে  এমবিডিএ।

এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যে সব যুদ্ধবিমান সবচেয়ে শক্তিধর বলে বিবেচিত, তাদের মধ্যে অন্যতম রাফাল। এই যুদ্ধবিমান হাতে আসার পরে ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা এক লাফে অনেকখানি বেড়ে যাবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

Comments are closed.