বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বঙ্গে বিদায় নিচ্ছে না বর্ষা, আজও দিনভর ঝোড়ো ইনিংস খেলতে তৈরি বৃষ্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালিকে স্বস্তি দিয়ে পুজোর চারটে দিন চুপচাপই ছিল বর্ষা। দশমীর বিসর্জনের পরেই ফের তেড়েফুঁড়ে উঠে দাপটের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছে সে। নাগাড়ে বৃষ্টিতে একাদশীর ভোররাত থেকেই  জল থইথই অবস্থা কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গের। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও আকাশের মুখ ভার। মেঘের আড়ালে লুকিয়েছে রোদ। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, উত্তরবঙ্গ থেকে ওড়িশা পর্যন্ত একটা লম্বা নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার দৌলতে এখনই বাংলাকে গুডবাই জানাচ্ছে না বর্ষা। বরং আজও দিনভর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জেলায় জেলায়।

শেষ বেলার বর্ষা ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। উত্তরের কলেজ স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গাঁধী রোড, ধর্মতলা, স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিস্তীর্ণ অংশে জল জমে যানজট তৈরি হয়। নাকাল হতে হয় পথচারীদের। দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের একাংশ, আলিপুর বডিগার্ড লাইন্স, চারুচন্দ্র প্লেস (ইস্ট), ভবানীপুরের জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড সংলগ্ন কিছু এলাকা এবং দক্ষিণ শহরতলির মোমিনপুর ও জোকা এলাকাতেও জল জমে যায়।

বর্ষার বিদায়লগ্ন এখনও নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি আবহবিদরা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাংশ থেকে বর্ষা বিদায় নিচ্ছে ধীরে ধীরে। বাংলাতে এখনও তার দাপট রয়েছে। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে গতকালও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে উপকূলের জেলাগুলিতেও।

আবহবিদরা জানিয়েছেন, ওড়িশা থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ বলয়। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরেই মূলত এর অবস্থান। এর জেরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত। এ ছাড়া ওড়িশা ও সংলগ্ন এলাকা এবং উত্তরবঙ্গে জোড়া ঘূর্ণাবর্তে জেরে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। আর এই সবের জেরেই একাদশীর সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতা ও তার সন্নিহিত এলাকায়। বৃষ্টির দাপট দেখা যাবে শুক্রবার পর্যন্ত। সপ্তাহ শেষে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা আছে। তবে ভারী বৃষ্টি না হলেও বিক্ষিপ্ত ও মাঝারি বৃষ্টির ইনিংস চলতে পারে আরও কয়েকদিন।

Comments are closed.