করোনা লড়াইয়ে জিত, জীবনের লড়াইয়ে হেরে গেলেন লুধিয়ানার এসিপি, প্লাজমা থেরাপির আগেই মৃত্যু

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লুধিয়ানাকে ভাইরাস মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন। করোনা মোকাবিলায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জনসাধারণের পাশে। কিন্তু লড়াইটা শেষ অবধি দেখে যেতে পারলেন না লুধিয়ানার এসিপি অনীল কোহলি। সংক্রামিত রোগীদের নিয়ে দিবারাত্র হাসপাতাল-নার্সিংহোমের চৌকাঠ পার হতে হতেই ভাইরাস কখন চুপিসাড়ে হানা দিয়েছিল তাঁর শরীরেও, টের পাননি পুলিশ কর্তা। উপসর্গ ধরা পড়ে অনেক পরে। ততদিনে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা শরীরে।

লুধিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, এসিপিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ডাক্তাররা। এসপিএস অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শেষের ক’টা দিন শ্বাসের সমস্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। পুলিশ কর্তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে প্লাজমা থেরাপিরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডাক্তাররা।

এসিপির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা অ্যাপোলো হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন, প্লাজমা থেরাপির জন্য মেডিক্যাল টিম তৈরি হয়। ৫২ বছরের পুলিশ অফিসারের অন্য কোনও শারীরিক ব্যধি তেমন ছিল না। প্লাজমা দাতারও খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু থেরাপি শুরুর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মোহালি ডেপুটি কমিশনার গিরিশ দয়ালান বলেছেন, করোনার সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা এক ব্যক্তিকেই দাতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এসিপি অনীল কোহলির শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। প্লাজমা থেরাপি শুরু হলে হয়ত বেঁচে যেতেন তিনি। কিন্তু তার আগেই সব শেষ।

পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি জানিয়েছেন, এসিপির স্ত্রী স্টেশন হাউস অফিসার। তাঁর মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের গাড়ির চালক কনস্টেবলের শরীরেও কোভিড-১৯ পজিটিভ। দু’জনকেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এসিপির পরিবারের আর কোনও সদস্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

১৯৯০ সালে পঞ্জাব পুলিশে যোগ দেন অনীল কোহলি। বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন অভিযানে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। করোনার সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরে লুধিয়ানায় লকডাউন চালু করার কথা তিনিই প্রথম বলেন। নানা জায়গায় জমায়েত ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২০ জন পুলিশকর্মীকে নিয়ে বানিয়েছিলেন ‘কোভিড কম্যান্ডো’। রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে সংক্রামিত রোগীদের খোঁজ করে র‍্যাপিড টেস্টের ব্যবস্থা করা ছিল এই টিমের কাজ। তাছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্তে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, লকডাউনের নিয়ম রক্ষা, তাঁর কাঁধে ছিল অনেক দায়িত্ব।

এসিপি অনীল কোহলির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং। বলেছেন, “রাজ্যের দুই করোনা-যোদ্ধাকে হারালাম। গতকাল গুরমেল সিং কানুনগোর মৃত্যু হয়েছে সংক্রমণে, আর আজ এসিপি অনীল কোহলির। করোনা মোকাবিলায় এই দুই অফিসারের ভূমিকা প্রশংসনীয়।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More