সোমবার, অক্টোবর ১৪

সোনাগাছিতে এবার অন্য পুজো, সবার জন্য ভাবনা লাল রঙের কলকাতায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাজনে আগুন। চেন্নাইয়ের জলসঙ্কট, দেশজুড়ে প্লাস্টিকের বিপদ। গাছ কাটা চলছেই। এমন সব সঙ্কটে নিয়ে চিন্তিত লাল রঙের কলকাতা।

একটা সময় পর্যন্ত পুজোর দিনগুলো মন খারাপ থাকত সোনাগাছির। অন্য পুজোয় স্বচ্ছন্দ্যে যাওয়া যায় না আবার নিজেদের একটা পুজো নেই। একদিন ইচ্ছে হয় নিজেদের দুর্গাপুজো হোক। শুরু হলেও সে পুজো বারবার বাধার মুখে পড়ে। শুরুটা ২০১৩ সালে। সেবার খুব ছোট করে পুজো শুরু হয়। ২০১৫ সালে পুজো হয় এলাকার একটি মন্দির চত্বরে। ইচ্ছে ছিল, প্রকাশ্যে রাস্তার উপরেই পুজোটা হোক। কিন্তু বাধা আসে প্রশাসনের থেকে। আইন আদালতে জটিল হয় লাল পাড়ার দুর্গা পুজো। ২০১৭ অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশমতো এবার মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটের মণ্ডপেই নারীশক্তির আরাধনা করছেন যৌনকর্মীরা।

সেই পুজোয় এই প্রথম বার থিমের ছোঁয়া। ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাও, পৃথিবী বাঁচাও’— এই থিমেই এ বছর সেজে উঠেছে পুজোমণ্ডপ। শহর জুড়ে থিম পুজোর রমরমায় এবার নতুন ঠিকানা মসজিদ বাড়ি স্ট্রিট।

গত বছরে আহিরীটোলার একটি পুজো কমিটি যৌনকর্মীদের জীবনকে থিম করেছিল।। তাঁদের জীবনযুদ্ধের নানা কথা ও কাহিনি ফুটে উঠেছিল মণ্ডপে। তবে সে সব নয়, অন্য থিমের মধ্যেই নিজেদের আরাধনা চাইছে সোনাগাছির দুর্গারা। ভাবনাও এক যৌনকর্মীর সন্তানের। রতন দলুইয়ের আঁকা পোস্টার ও পেন্টিংয়ে মণ্ডপ ও তার আশপাশ সেজে উঠেছে। বাজেট কম। তবে উৎসাহই বড় সম্বল।

সোনাগাছির বাসিন্দা বাকি ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়েই পোস্টার আঁকার কাজ করেছেন রতন। এছাড়াও সচেতনতামূলক নানা কাজ করছেন তাঁরা। পুজো মণ্ডপে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা শিবির থেকে পরিবেশ নিয়ে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা সবই রয়েছে। সেই সঙ্গে শঙ্খ বাজানো, হাঁড়ি ফাটানো প্রতিযোগিতাও আছে। আর পাঁচটা পাড়ার মতো এখানে অষ্টমী আর নবমীতে থাকছে জমিয়ে খিচুড়ি খাওয়া। সোনাগাছি থেকে এবার কলকাতার সব যৌনপল্লীতে যাবে বিশেষ ভোগ। সঙ্গে দশমীতে সিঁদুর খেলার নিমন্ত্রণ।

Comments are closed.