অভিজিতের গর্বিত মা, বললেন ‘ও যা করতে চেয়েছে, তাতেই আমার সায় ছিল’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রস্তুত ছিলেন না নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশির ঘরে পৌঁছে যাওয়া বৃদ্ধা দুপুরের পর সংবাদমাধ্যম দেখেই জানতে পারেন তাঁর ছেলে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন । সঙ্গে পুত্রবধূ এস্থার ডাফলোও। তারপর এক ঘণ্টাও কাটেনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ভিড় জমে যায় অভিজিৎবাবুর বালিগঞ্জের বাড়িতে। কোনওরকমে তৈরি হয়েই সোফায় বসে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিলেন নোবেলজয়ীর মা। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ছেলেকে হাতে ধরে সব কিছু শিখিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্বাস করেননি কোনও কালেই। বললেন, “ও যা করেছে, যা করতে চেয়েছে, যে পথে এগোতে চেয়েছে, তাতেই আমার সায় ছিল।”

    আরও পড়ুন- বাঙালির গর্ব নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনুন ১০ তথ্যে

    অভিজিৎবাবুর জন্ম মহারাষ্ট্রের ধুলেতে। ১৯৬১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। নির্মলাদেবীও মারাঠা মুলুকের ভূমিকন্যা। ঝরঝরে বাংলা বলতে পারলেও এখনও একটা টান আছে। বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন অর্থনীতির অধ্যাপক। নির্মলাদেবী জানালেন, “আমরা আগে থাকতাম মহানির্বাণ রোডে। পাশেই একটা বস্তি ছিল। ওখানে বস্তির ছেলেদের সঙ্গে খেলতে যেত অভিজিৎ। রাস্তাতেও খেলত। আমরা আটকাতাম না। তখন থেকেই তাদের দারিদ্র্য নিয়ে ওর একটা কৌতূহল ছিল।”

    আরও পড়ুন- দারিদ্র্য দূরীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান দিয়েই অর্থনীতিতে নোবেল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

    ছেলে নোবেল পেয়েছেন। মায়ের তো গর্ব হবেই। নির্মলাদেবী বললেন, “আমাকে অনেকেই বহুবছর ধরে বলেন, ও ভাল কাজ করছে। আজ ও তার যোগ্য সম্মান পেল।” বছরে তিন-চার বারের বেশি দেখা হয় না মা-ছেলের। মাঝে মাঝে এ শহরে আসার সুযোগ হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা গবেষকের। এ দিন নির্মলাদেবী বলেন, “ও তো প্রথমে ঠিকই করতে পারছিল না কী নিয়ে পড়বে। শুরুতে ভেবেছিল ফিজিক্স পড়বে। তারপর নিজেই বলল পড়বে না। ভর্তি হল স্ট্যাটিটিক্স নিয়ে। কিছু দিন ক্লাস করার পর বলল, বিটি রোডে যেতে আসতেই অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। তারপর অর্থনীতি নিয়ে ভর্তি হল প্রেসিডেন্সিতে।” সেখান থেকে স্নাতক হওয়ার পর অভিজিৎবাবুর পড়াশোনা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর হার্ভার্ড।

    আরও পড়ুন- নোবেল জিতেই অভিজিৎ বললেন, ভারতের অর্থনীতির মন্দগতি উদ্বেগজনক

    পুত্রবধূ এস্থারের কথাও এ দিন জানান নির্মলাদেবী। বলেন, “অনেক দিন এস্থার এসে কলকাতায় ছিল। এই বাড়ি থেকেই বিয়ে হয়েছিল ওদের।” নির্মলাদেবী আরও বলেন, “ভারতের নতুন ট্যাক্স পলিসি নিয়ে আমার একটা কৌতূহল আছে। কোথাও বুঝতে অসুবিধে হলে ওকেই জিজ্ঞেস করি। ও আমায় বুঝিয়ে দেয়।” মায়ের চোখে ছেলের ইউএসপি টা ঠিক কী? মায়ের জবাব, “অভিজিৎ সহজ ভাষায় কথা বলে। যাতে সবাই বুঝতে পারে। লেখেও সেই ভাষায়। এটা ওর বড় গুণ।”

    আরও পড়ুন: নোবেলজয়ী এস্থার ডাফলো হতে চেয়েছিলেন ইতিহাসবিদ, প্রেমের হাত ধরে বদলে যায় লক্ষ্য

    নোটবন্দির সময় অভিজিৎবাবু তীব্র সমালোচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের। স্পষ্ট বলেছিলেন, এই পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে। মা জানালেন, “এই যে ব্যবস্থা চলছে, তাতে ওর মোটেই সায় নেই। তবে ওর কথা ওই ভালো বলতে পারবে।”

    আরও পড়ুন- বাঙালির হাতে ফের নোবেল! অর্থনীতিতে অমর্ত্যর পরে অভিজিৎ

    নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের অন্যতম প্রিয় ছাত্র অভিজিৎবাবু। ছাত্রের লেখা ‘পুওর ইকোনমিকস: আ র‍্যাডিক্যাল রিথিংকিং অফ দ্য ওয়ে টু ফাইট গ্লোবাল পভার্টি’ পড়ে অধ্যাপক সেন বলেছিলেন, “দুর্দান্ত বিশ্লেষণ। একেবারে গভীরে গিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।” ১৯৯৮-এর পর ২০১৯। একুশ বছর পর নোবেল পেলেন কোনও বাঙালি। মাস্টারমশাই অমর্ত্য সেনের পর ছাত্র অভিজিৎ বিনায়ক। সেই অর্থনীতিতেই।

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More