বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

মমতার ‘বাংলা’ প্রস্তাবে এখনও সায় দেয়নি কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার চাইলেও পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাবে এখনও সায় দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এ ব্যাপারে বিশেষ অগ্রগতি যে হয়নি তা বুধবার রাজ্যসভায় তা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে হয়। তা এখনও হয়নি।

যদিও তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দিন সকালে রাজ্য রাজনীতিতে এক প্রস্ত ঝড় ওঠে। এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তথা মোদী সরকার। তা নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেন। আবার তাঁদের মধ্যেও বিভাজন দেখা যায়। কেউ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার পক্ষে সওয়াল করেন, কেউ বলেন আইন অমান্য আন্দোলনের মতোই একটা মুভমেন্ট শুরু করা হোক। বলা হোক, আমরা এখন থেকে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’-ই বলব। কেউ আবার বলেন, রাজ্যের নাম হওয়া উচিত বঙ্গ।

অথচ বাস্তবটা একেবারে ছিল অন্যরকম। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব যে কেন্দ্র খারিজ করেছে তা একবারও বলেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে তাঁর কথা থেকে বোঝা গিয়েছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্র দীর্ঘসূত্রিতা করছে। তার পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকাও অসম্ভব নয়। কারণ, রাজ্য বিজেপি নেতারাই বাংলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ওই প্রশ্নটি করেছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন ছিল-“এটা কি ঠিক যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়েছে? যদি তাই হয়, তা হলে তা সবিস্তারে জানান। যদি না হয়, তা হলেই বা তার কারণ কী?”

ওই প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, “না স্যার”। অর্থাৎ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও অনুমোদন দেয়নি। সাংসদের দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে তিনি লিখেছেন, “প্রশ্নই ওঠে না”। মানে, কেন্দ্রীয় সরকার যখন অনুমোদন দেয়নি তখন সবিস্তারে জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। এর পরেই কার্যকারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জবাবে লিখেছেন, “কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে গেলে সবদিক বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে হয়”।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে উদ্যোগী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে এ ব্যাপারে বিধানসভায় একটি বিল পাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলা করা হোক, ইংরেজিতে বলা হবে বেঙ্গল। কিন্তু তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, নাম একটাই হবে। বাংলা হোক বা ইংরেজি। সেই মোতাবেক বিধানসভায় বিল পাশ করে প্রস্তাব পাঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই পরামর্শের পর ফের বিধানসভায় প্রস্তাব আনা হয়। বলা হয়, রাজ্যের নাম পাল্টে ‘বাংলা’ করা হোক। প্রস্তাবটি গত বছর বিধানসভায় পাশ হওয়ার তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনাথও বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।

কেন্দ্রে মোদীর দ্বিতীয় ইনিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পদে মমতা-র রাজনৈতিক বন্ধু রাজনাথ আর নেই। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। যাঁর সঙ্গে দিদির রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তা ছাড়া রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গই রাখার ব্যাপারে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের পৃথক যুক্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে অতীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে ডেপুটেশনও দিয়েছিলেন তাঁরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাঙালিকে আবেগকে ছুঁতে চেয়েছিলেন দিদি। তার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। বিজেপি-ও পাল্টা রাজনীতিই করছে।

প্রশ্ন হল, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে অর্থাৎ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে কি কোনও আন্দোলন তৈরি হয়েছে? সেই আবেগ কি আছড়ে পড়ছে রাস্তায়? কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই যে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে কি রাজ্যের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, বা তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে?
বাস্তব হল, সাদা চোখে তা এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি।

Comments are closed.