সুনীল-সোনমের প্রেম কাহিনী: স্ট্রাইকার জামাইকে পড়তে হয়েছিল ডিফেন্ডার শ্বশুরের কড়া ট্যাকলের মুখে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর হতে চলল চার হাত এক হয়েছে। ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী এবং প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্যের মেয়ে সোনম ভট্টাচার্য এখন চুটিয়ে সংসার করছেন। কিন্তু কেমন ছিল সুনীল-সোনমের প্রেম-কাহিনী? সবটাই কি মসৃণ পথে এগিয়েছিল?

    একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সুনীল জানিয়েছেন, মোটেই নয়। তাঁকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ১৩ বছর প্রেম করার পর বিয়ে হয়েছে সুনীল-সোনমের। কিন্তু গোটা পর্বটা যেন টানটান থ্রিলার।

    সুনীল তখন মোহনবাগানে খেলতে এসেছেন। ১৮ বছর বয়স। কোচের নাম সুব্রত ভট্টাচার্য। সুনীল ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কোচই তাঁর মেয়েকে আমার কথা বলেছিলেন। তখন সোনমের মাত্র ১৫বছর বয়স। ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয় বলেন, “হঠাৎ একদিন কোচের ফোন থেকে আমার ফোনে এসএমএস এলো। তাতে লেখা, ‘হাই, আমি সোনম।” তারপর নিজেই পরিচয় দিয়ে সোনম জানান, তিনি সুব্রত ভট্টাচার্যের মেয়ে। দু’চারদিন এসএমএস চালাচালির পর ক্লাস টেনে পড়া সোনম দেখা করতে চায় বাবার ছাত্রের সঙ্গে।

    সুনীল বলেছেন, “যেদিন দেখা হয় ওর সঙ্গে আমি তো অবাক হয়ে গেছিলাম। দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আমি ওকে সোজাসুজি বলে দিই, তুমি একদম বাচ্চা মেয়ে। এসব একদম নয়। যাও পড়াশোনা করো!” তারপর আমরা নিজেদের মধ্যে এসএমএস-এ কথা বলতাম। কিন্তু এরপরই একদা ময়দান কাঁপানো সুব্রতর কড়া ট্যাকলের মুখে পড়তে হয় সুনীলকে।

    ভারতীয় দলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের মালিক সুনীল জানিয়েছেন, “কোচ এই এসএমএস চালাচালির কথা জেনে যান। ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার মধ্যেই সোনম আমায় একদিন অন্য একটি নম্বর থেকে লুকিয়ে ফোন করে। আমি ওকে বলি, এটা চলতে থাকলে কোচ আমার কেরিয়ার শেষ করে দেবেন। ও বিষয়টা বুঝতে পেরেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।”

    কয়েক মাস চুপ থাকার পর আবার শুরু হয় যোগাযোগ। কথায় বলে, ভালবাসা সত্যি হলে কোনও বাধাই বাধা হয় না। তাই যেন হয়েছিল সুনীল- সোনমের। ছেত্রী জানিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা লুকিয়ে দেখা করতেন। সিনেমা হলে গিয়ে দু’জনে আধঘণ্টা সময়ের ব্যবধান রেখে টিকিট কাটতেন। যাতে কোনও ঝক্কি না পোহাতে হয়! মেপে পা ফেলতে হতো। তারপর সুনীলের কেরিয়ার এগিয়েছে, পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে প্রেম-পর্বও। সুনীল বলেছেন, “যখন আমি প্রতিষ্ঠা পাইনি, টাকা-পয়সা ছিল না, তখনও সোনম ছিল আমার সঙ্গে।” তারপর আর খুব একটা অসুবিধে হয়নি সুনীল-সোনমের। কয়েকবছর আগে নিজেই কলকাতায় এসে একদা কোচকে বলেছিলেন, “আপনার মেয়েকে ভালবাসি। ওকে বিয়ে করব।” সুব্রতও আর আটকাননি। একদা ছাত্রকে মেনে নিয়েছেন জামাই হিসেবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More