বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

ডিজেল গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণের ধুলো ঝাঁঝরা করছে শহরের ফুসফুস! আয়ু হারাচ্ছে হাজার হাজার শৈশব

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগে দিল্লির দূষণের আধিক্য নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। ধোঁয়ার চাদরে মুড়ে গেছিল রাজধানী। শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে উঠেছিল শহরবাসীর। বন্ধ রাখতে হয়েছিল স্কুল-কলেজ। কাশি, চোখজ্বালা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে সমস্ত বয়সের মানুষের ভিড় জমেছিল হাসপাতালে। সে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি খানিকটা হলেও আয়ত্তে এসেছে সম্প্রতি। আর তার পরেই চোখ পড়েছে দেশের অন্য শহরগুলির দিকে। দেশের সমস্ত বড় শহরের দূষণই কমবেশি মাত্রা ছাড়ালেও, রীতিমতো আতঙ্ক বাড়িয়েছে আমাদের কলকাতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতা শহরের আকাশ ঢেকে রেখেছে ধোঁয়া আর ধূলিকনাই। কার্যত মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়েছে দূষণ। শহরের যে প্রান্তে গাছপালা এখনও বেশি, পথঘাট তুলনামূলক ফাঁকা, সেই সল্টলেকের আকাশও দূষণমুক্ত নয়। সম্প্রতি শহরে শ্বাসকষ্টের সমস্যার যে বাড়বাড়ন্ত, তার তথ্য দেখলে চোখ কপালে উঠবে যে কারও। প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়।

ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের (হু) রিপোর্টেও মিলেছে বিপজ্জনক তথ্য। তারা বলছে, শেষ তিন বছরে এ শহরে ডিজেল ইঞ্জিনের গাড়ি বেড়েছে ৬৮% বেড়েছে। দেশের মধ্যে এই শহরের দূষণের ‘গ্রোথ রেট’ শীর্ষে পৌঁছেছে।

ডিজেল ইঞ্জিনের বাড়বাড়ন্তের দোসর হয়েছে মেট্রো-সহ অজস্র নির্মাণ কাজ। সূক্ষ্ম ধূলিকণার সংখ্যা বাড়ছে ক্রমাগত। শহরের বাতাস অল্প ঠান্ডা হতেই সেই ধুলোর স্তর নেমে আসছে নীচে। জমাটবাঁধা ধোঁয়াশার চাদর তৈরি হচ্ছে আমাদের আশপাশে। সেই কারণেই যেন প্রতি নিঃশ্বাসে রীতিমতো কালশিটে পড়ছে ফুসফুস জুড়ে।

বিশেষজ্ঞ পালমনোলজিস্ট ডক্টর রাজা ধর এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, “এ শহরে দূষণের কারণে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। শেষ তিন বছরে এই শীতের আগে দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীরই শ্বাসকষ্টের কোনও অতীত নেই। কলকাতা যেন ক্রমেই শ্বাসকষ্টের শহর হয়ে উঠছে।”

বস্তুত, কোনও দিন শ্বাসকষ্টের কোনও সমস্যা নেই, এরকম মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে বাড়ছে। কারণ কেবলই দূষণের মাত্রাছাড়া পরিমাণ। সবচেয়ে ক্ষতি হচ্ছে ছোটদের। সুস্থসবল শিশুদের ফুসফুস খুব সহজেই ক্ষতির কবলে পড়ছে। ছোটদের মধ্যে অ্যাস্থমা বেড়ে গিয়েছে, যে অ্যাস্থমা কোনও বংশ-ইতিহাস বা অসুস্থতা ছাড়াই শিশুশরীরে জায়গা করে নিচ্ছে। সতর্ক না হলে এই গোটা প্রজন্মটারই বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

শ্বাসকষ্ট-জনিত রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনির্বাণ বিশ্বাসের কথায়, “শুধু শ্বাসকষ্টের কারণেই মোট জনসখ্যার একটা বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বয়স্কদের ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে যে কোনও সময়ে।”

ঠিক কী কী রোগ নিয়ে আসছে এই দূষণ? চিকিৎসকেরা বলছেন, সরাসরি শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সংক্রমণ বাদ দিয়েও নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, আলঝাইমার্স, ত্বকের অসুখ, চোখের সমস্যা, এমনকী ক্যানসারেরও কারণ হয়ে উঠছে বায়ুদূষণ।

শুধু শহর কলকাতা নয়, হাওড়া জেলার অবস্থাও খুব বিপজ্জনক বলেই দাবি করছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট। আর এই দু’জায়গাতেই বিপদ আরও বেড়েছে বাতাস একটু ঠান্ডা হতে শুরু করতেই। কারণ উপরের বাতাস ঠান্ডা হলে তা ভারী হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছে নেমে আসে। যেখানে আমরা আছি, নিশ্বাস-প্রশ্বাস নিই, সেখানেই এসে পৌঁছচ্ছে ধূলিকণা-আচ্ছন্ন বাতাস। ফলে খুব সহজেই ধোঁয়া আর সূক্ষ্ম ধূলিকণা ঢুকছে ফুসফুসে।

Share.

Comments are closed.