ইলিশ, জামদানি, দই, সন্দেশ অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী? প্রশ্ন মমতার  

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরা বর্ষা। কখনও ইলিশ উঠছে, কখনও আবার আকাল। মৎস্যপ্রিয় বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে ইলিশ অবশ্যই অন্যতম একটি আকর্ষণ। আক্ষেপ, আবেগ সবই রয়েছে রুপোলি শস্য ঘিরে। এ বার জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ ইস্যুতে বিজেপি’র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে ইলিশকেই হাতিয়ার করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

    এমনিতেই দিঘা বা কোলাঘাটে যতই ইলিশ উঠুক পদ্মার ইলিশের নাম শুনলেই বাঙালির জিভে জল চলে আসে। এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “ইলিশ মাছ কি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী?” শনিবার মেয়ো রোডে বিজেপি’র যুব মোর্চার সভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, “আমরা বাঙালি বিরোধী নই। আমরা মমতা আর অনুপ্রবেশকারীদের বিরোধী।” রাহুল সিনহা সহ গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা শরণার্থীদের পক্ষে কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে।

    শুধু ইলিশ নয়। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন জামদানি শাড়ি, সন্দেশ, দই, মিষ্টি এগুলি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী?

    এমনিতেই শুরু থেকে বিজেপি-কে বাঙালি এবং বাংলা বিরোধী বলে তোপ দেগেছে রাজ্যের শাসক দল। এ বার বাঙালি আবেগের সঙ্গে জড়িত জিনিসগুলির কথা সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, “আমার মা-বাবার জন্মের সার্টিফিকেট চাইলে আমি দিতে পারব না। মায়ের জন্মদিনই জানি না। বুঝতে হবে কীভাবে হেনস্থা হচ্ছে! অনেক সংগঠন আছে তারা নিজেদের মতো করে এই মানুষগুলির পাশে দাঁড়াতে চায় আমরাও দাঁড়াচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এত বাংলা বিরোধী কেন বিজেপি? বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? বাংলা ভাষা এশিয়াতে দ্বিতীয় এবং সারা পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আমরা ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু সব ভাষাতেই তো কথা বলি। কোথাও তো সমস্যা হয় না। এরা কি বাংলার মেধাকে ভয় পাচ্ছে? দেশভাগের পর অনেক উদ্বাস্তু মানুষ এখানে এসেছিলেন। অনেক লড়াই, আন্দোলন হয়েছে। এক কাপড়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। আবারও তাঁদের উদ্বাস্তু করে দিতে হবে?” বিজেপি উগ্রপন্থা নিয়ে দেশে ঘৃণার রাজনীতি করছে বলেও তোপ দাগেন মমতা।

    এনআরসি ইস্যুতে প্রথম দিন থেকেই রণংদেহী মমতা। দিল্লি গিয়ে দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গেও। পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন বাংলায় এসব করতে গেলে “রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ হবে।” প্রসঙ্গত একুশের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। জনস্রোতে ভেসে যাওয়া ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে ৪২-এ ৪২ করার ডাক দিয়েছেন। আর তৃণমূলের শীর্ষ নেতা থেকে পাড়ার কর্মী সকলেই বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। এনআরসি ইস্যুতে তাই বাঙালি সেন্টিমেন্টই তৃণমূলের ইউএসপি বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এ বার তাতে যুক্ত হলো বাঙালি জাতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইলিশ, জামদানি, দই, মিষ্টি, সন্দেশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More