মহাকাশে ধোসা! আসলে গ্রহ, নাসার ছবি নিয়ে হইচই

রঙে-রূপে যতই ধোসার সমগোত্রীয় হোক না কেন, আসলে এ জিনিস পৃথিবীর মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন ভাঁজে ভাঁজে ধোসা। চ্যাপ্টা, খাস্তা, পরোটার মতো বড়সড়। না চিজ বা নারকেলের চাটনি দিয়ে এ ধোসা খাওয়া যাবে না। সে ছবি দেখে লোভ যতই হোক না কেন!

    রঙে-রূপে যতই ধোসার সমগোত্রীয় হোক না কেন, আসলে এ জিনিস পৃথিবীর মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মোদ্দা কথা, এই ছবি কোনও খাবারেরই নয়। আমাদের সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ থুরি গুরুগ্রহ বৃহস্পতির। চমকে গেলেও এটা সত্যি। নাসার ক্যাসিনি স্পেসক্রাফ্ট থেকে ন্যারো-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরায় তোলা বৃহস্পতির ছবি দেখে লোকজনের ধোসার কথাই মাথায় এসেছে। এ ছবি ঘিরে তাই রীতিমতো হইচই চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

    ছবিটা আজকের নয়। সেই ২০০০ সালে নাসার ক্যাসিনি স্পেস রিসার্চ মিশনের একটি প্রজেক্টে বৃহস্পতির এই ছবি তোলা হয়। নাসার ক্যাসিনি মিশন শুরু হয় সেই ১৯৯৭ সালে। চলে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। এই স্পেস রিসার্চ মিশনে নাসা একা নয়, তাদের সঙ্গে ছিল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA)ইটালিয়ান স্পেস এজেন্সি (ASI) ।  ফ্ল্যাগশিপ-ক্লাস রোবোটিক স্পেসক্রাফ্টের প্রোব ছিল নাসার তৈরি, আর ল্যান্ডার ইএসএ-র তৈরি। শনি গ্রহের কক্ষপথে উঁকিঝুঁকি দিতেই ক্যাসিনিকে সাজিয়ে গুছিয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেই বৃহস্পতিবার এমন ছবি তুলে গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠিয়ে দেয়। সেই ২০০০ সালের ছবি নিয়েই এখন মাতামাতি চলছে।

    টুইটারাইটরা বেশ উত্তেজিত। এমন সাদা আর লালচে খয়েরি রঙা গ্রহের এক পিঠ যেন খাস্তা করে ভাজা ধোসা। অনেকে বলেছেন, দেখেই মনে হচ্ছে মাখন বা চিজ মাখিয়ে, ভাজি দিয়ে সম্বর বা নারকেলের চাটনিতে মাখামাখি করে খেয়ে ফেলা গেলে কত না ভাল হত! কয়েকজনের কল্পনা তো আবার আরও সপ্তমে চড়েছে। তাওয়ায় ধোসা ভাজার ভিডিও দিয়ে খাওয়ার ইচ্ছেটাকে আরও একটু উস্কে দিয়েছেন।

    আরও পড়ুন: রহস্যময় মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পৃথিবীর কাছেই, নিউট্রন তারার সঙ্গে যুদ্ধ বেধেছে ব্ল্যাকহোলের, খোঁজ দিলেন ভারতীয় গবেষকরা

    সে যাই হোক, ধোসা যে নয় গ্রহ এটা জানার পরেও উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি। কেউ কেউ আবার বিশ্বাসও করতে পারেননি গ্রহের ছবি এমনও হতে পারে। আসলে লাল গ্রহ মঙ্গল নিয়ে কৌতুহল যতটা, বৃহস্পতি সেখানে কিছুটা আড়ালে। অথচ মহাকাশ বিজ্ঞানে এই বৃহস্পতি গ্রহ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা, চিন্তাভাবনার শেষ নেই। মঙ্গলে জল আছে কিনা সে নিয়ে যেমন রহস্য রয়েছে, তেমনি বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে জলের অস্তিত্ব নিয়েও চর্চার শেষ নেই। নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’ সেই কবে থেকে বৃহস্পতির সংসারে নজর রেখে বসে আছে।

    ২০১১ এবং ২০১৬– এই দু’বছর জুনোকে বৃহস্পতির পাড়ায় পাঠিয়েছিল নাসা। দু’বারই সে খবর এনেছিল গুরুগ্রহের বায়ুমণ্ডলে অন্তত ০.২৫ শতাংশ জল রয়েছে, যা কিনা প্রত্যাশার চেয়ে খানিক বেশিই। জুনোর হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল বৃহস্পতির গ্রহণও। জুনোই খবর দিয়েছিল, গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে তুমুল ঝড় বয়ে চলেছে বৃহস্পতির পিঠে সুবিশাল একটা এলাকা জুড়ে। এমন প্রলয়ঙ্কর, এত দীর্ঘমেয়াদী ঝড় এখনও পর্যন্ত এই সৌরমণ্ডলের আর কোনও গ্রহে দেখা যায়নি। মহাকাশবিজ্ঞানীরা এই ঝড়ের নাম দিয়েছেন ‘গ্রেট রেড স্পট’।  বৃহস্পতির মেরু থেকে ২২ ডিগ্রি দক্ষিণে এই এলাকা দেখতে দগদগে লাল ক্ষতের মতো। আয়তনে প্রায় ১০ হাজার বর্গ মাইল বা ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ওই ধোসার মতো বৃহস্পতির ছবিতে সেই ‘গ্রেট রেড স্পট’-এর ছবিও আছে। যদিও তাকে তাওয়ায় ভাজা কোনও অংশ বলে ভেবে ফেলেছেন নেটিজেনরা। বৃহস্পতি দেখতে যত শান্তশিষ্ট, ভেতরে ততটা নয়। সব সময়েই এক প্রলয় ঝড় চলে গ্রহের বুকে। তবে সে নিয়ে এখন মাথাব্যথা নেই, আপাতত ধোসার ভাবনা নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More