২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৭, ভয়াবহ অবস্থা সিন্ধু, পঞ্জাব প্রদেশে

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৭৭। মোট আক্রান্ত ৪,০৬২। ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে পাকিস্তানে। সংক্রামিতের সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। পাক স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৭৭। মোট আক্রান্ত ৪,০৬২। ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।

    ভয়াবহ অবস্থা পাকিস্তানের পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে। দু’দিন আগে অবধি পঞ্জাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল হাজার। বুধবার ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের রিপোর্ট বলছে, পঞ্জাবে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশেই করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিন্ধু প্রদেশ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮৬।  খাইবার-পাখতুনখোয়াতে দু’দিন আগেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি, এদিনের হিসেবে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০০, বালুচিস্তানে ২০২, গিলগিট-বালটিস্তানে ২১১, ইসলামাবাদে ৮৩ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ১৯ জন।

    সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, সংক্রমণ যেমন বাড়ছে তেমনি সুস্থও হয়ে উঠেছেন ৪২৯ জন। এখনও অবধি মোট ৩৯,১৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অনেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    সিন্ধু প্রদেশের সরকারি মুখপাত্র মুরতাজা ওয়াহাব বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি সঙ্কটজনক। মানুষ সচেতন না হলে এবং মেলামেশা বন্ধ না করলে সংক্রমণ মহামারীর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তাঁর কথায়, পাকিস্তানে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি। তারপর ২৯ দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় হাজার জনে। মাত্র সাত দিনেই সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ে দু’হাজার, পাঁচ দিনে তিন হাজার এবং আরও তিনদিনের মধ্যেই সংখ্যাটা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মুরতাজার দাবি, কী ভয়ঙ্কর দিন আসতে চলেছে, সেটা বুঝতেই পারছে না এখানকার লোকজন

    লাহোরের জেলেও ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। সূত্রের খবর, ৫০ জন আসামির শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেছেন, ড্রাগ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন পাক নাগরিককে ইতালি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গতমাসে তাদের লাহোরের জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। তাদের থেকেই জেলের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এখনও পর্যন্ত দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেনি পাক সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তরাঁ-সহ জনসমাগম হতে পারে এমন জায়গাগুলি সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও, কৃষি এবং নির্মাণক্ষেত্রে কাজ চলছে। পঞ্জাবেও কিছু দোকান খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর সরকার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছে না বলেও দাবি করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

    যদিও খুব শীঘ্র করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পাক সরকার। শনিবার পাক সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শেষে গোটা দেশে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ৫০ হাজার টপকে যেতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More