সোমবার, অক্টোবর ১৪

‘সীমান্ত পেরিয়ে কাশ্মীরিদের সঙ্গে দেখা করতে যেও না, ভারত অন্য মানে করছে’ ইমরানের টুইটে ফের জল্পনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে শান্তির দূত বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে গলা তুলে বলেছেন ইসলামিক সন্ত্রাস বলতে কিছু হয় না, সামাজিক অবিচার উগ্রপন্থার জন্ম দেয়। সীমান্তে অনুপ্রেবেশের চেষ্টা প্রসঙ্গে ভারতের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। সেই পাক প্রধানমন্ত্রীই কাশ্মীরিদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ফের জল্পনা উস্কে দিলেন।

বিতর্ক শুরু হয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একটি টুইটকে ঘিরে। শনিবার টুইট করে ইমরান বলেন, “কাশ্মীরি ভাইদের দুর্দশা দেখে পাকিস্তানিদের মনের ক্ষোভ আমি বুঝতে পারি। জানি কাশ্মীরিদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তাঁরা কতটা উৎসুক। কিন্তু সীমান্ত পেরিও না। ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোলে ভারত তার অন্য ব্যাখ্যা করবে। ”

কূটনৈতিক মহলের দাবি, পাকিস্তানিদের সীমান্ত পার হতে মানা করে পরোক্ষে সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশের কথাই মেনে নিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত দিনকয়েক আগেই দাবি করেছিলেন, সীমান্তের ওপারে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ইজরায়েলি বোমা নিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তত ৫০০ জইশ জঙ্গি। তাদের প্রত্যক্ষ ভাবে মদত দিচ্ছে পাক সেনাবাহিনী।

গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপুঞ্জে বক্তৃতায় কার্যত পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন ইমরান। কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে সরব না হলে আরও একটা পুলওয়ামা কাণ্ড ঘটতে পারে বলে ভারতকে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এরই মধ্যে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিরোধিতায় গতকাল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি-বাইকে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের ডাকেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।

জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়ে ইমরান এখন নিজঘরেই বিরোধের মুখে। পাক প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে রেখে পাকিস্তানের শিল্পপতিদের সঙ্গে রুদ্ধ-দ্বার বৈঠক করেছেন পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের এমন পরিস্থিতিতে বেহাল অর্থনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

Comments are closed.