মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের টাকার যোগান দেয় দিল্লির পাক দূতাবাস! শিকড়ের খোঁজ দিল এনআইএ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি ফুলেফেঁপে উঠছে পাকিস্তানের টাকায়, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) জানিয়েছে, নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা, সীমান্তে বাণিজ্যে লাগাম টেনেও উপত্যকায় অসন্তোষের বীজ বুনেই চলেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে ভরিয়ে তুলছে জঙ্গিদের। আর তার জন্য যে বিপুল টাকার প্রয়োজন তার সিংহভাগ আসছে নয়াদিল্লির পাক দূতাবাসের মাধ্যমে। যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপত্যকার কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে এনআইএ।

উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে পাক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ বহু দিনের। অভিযোগ ওঠে, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ হুরিয়ত নেতাদের কাছে টাকা পাঠান। আর সেই টাকাই নাকি ব্যবহার করেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। এনআইএ বিভিন্ন সময়ে কখনও দিল্লি, কাশ্মীর বা কখনও হরিয়ানায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। তাতে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে উপত্যকায় অশান্তিতে পরোক্ষ মদত দেওয়ার যথেষ্ট প্রমাণও মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে বাণিজ্য এবং হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা তো আসেই, তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আর্থিক সংস্থানের অন্যতম উৎস দিল্লির পাক দূতাবাস। কী ভাবে নানা হাত ঘুরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির হাতে টাকা পৌঁছে যায় তার হদিশও পেয়েছে এনআইএ।

পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পরেই জম্মু কাশ্মীরের ডজনখানেক বিচ্ছিন্নতবাদী নেতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছিল কেন্দ্র। গ্রেফতারও করা হয়েছিল একাধিক নেতাকে। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের নেতৃত্বাধীন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট ( জেকেএলএফ )-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। অগস্টে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীরের লিবারেশন ফ্রন্টেরই পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার উপর থেকে সরকারি নিরাপত্তা তুলে নেয় রাজ্য প্রশাসন। ওই পাঁচ নেতা হলেন, মিরওয়াইজ উমর ফারুখ, শাবির শাহ, হাশিম কুরেশি, বিলাল লোন ও আবদুল ঘানি ভাট।

এনআইএ জানিয়েছে, দিল্লির পাক দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আছে এবং সেখান থেকে টাকা পৌঁছয় হুরিয়ত কনফারেন্স নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) প্রধান ইয়াসিন মালিক, জম্মু-কাশ্মীর ডেমোক্র্যাটিক ফ্রিডম পার্টির শাবির শাহ, দুখতারান-এ-মিল্লাতের আন্দ্রবি, অল অল পার্টিজ হুরিয়ত কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক আলম এবং ব্যবসায়ী জহুর আহমেদ ওয়াটালির কাছে। এই নেতাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনআইএ।

তদন্তকারীদের দাবি, একটা সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি। তাদের প্রত্যক্ষ ভাবে মদত দেয় পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েই কাশ্মীরের গ্রামে গ্রামে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। এই বাহিনীর কাজ, কাশ্মীরের দরিদ্র মেধাবী কলেজ পড়ুয়াদের জঙ্গি দলে টেনে আনা, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া, কোনও জঙ্গি মারা গেলে তার শেষকৃত্যে শোকমিছিল বার করে দেশদ্রোহী স্লোগান তোলা। জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিক ও ডেমোক্র্যাটিক ফ্রিডম পার্টির শাবির শাহের ব্যক্তিগত ইমেল অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, পাক দূতাবাসের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দেশদ্রোহী কার্যকলাপের নানা বার্তা ইমেল মারফত আদানপ্রদান হয় এদের মধ্যে।

এনআইএ-র মুখপাত্র অলোক মিত্তল বলেছেন, অন্তত ৪০০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ৮৫টি নথি উদ্ধার হয়েছে সেগুলি বিচ্ছিনতাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে পাকাপোক্ত প্রমাণ দেয়।

Comments are closed.