লন্ডনে করোনা চিকিৎসায় ব্যথানাশক আইবিউপ্রোফেনের ট্রায়াল শুরু হল, নেতৃত্বে ভারতীয় গবেষক

লন্ডন গাই’স, সেন্ট থমাস হাসপাতাল ও কিংস কলেজে করোনা চিকিৎসায় আইবিউপ্রোফেনের ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আইবিউপ্রোফেন যে ব্র্যান্ডে বাজারে পাওয়া যায় সেই ব্র্যান্ডের ফর্মুলায় নয়, বরং কোভিড চিকিৎসার জন্য এই ওষুধের ফর্মুলায় প্রয়োজনীয় বদল করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা চিকিৎসায় ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইন কিলারের ভূমিকা কতটা সে নিয়ে বিজ্ঞানীমহলে দ্বিধা রয়েছে। ননস্টেরয়েডাল, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ আইবিউপ্রোফেন (Ibuprofen) ওষুধের ব্যবহার নিয়ে শুরুতে বিতর্ক হলেও, সম্প্রতি ব্রিটিশ ডাক্তাররা করোনা রোগীদের উপর এই ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, লন্ডনের তিনটি বড় হাসপাতালে আইবিউপ্রোফেনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

    লন্ডন গাই’স, সেন্ট থমাস হাসপাতাল ও কিংস কলেজে করোনা চিকিৎসায় আইবিউপ্রোফেনের ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আইবিউপ্রোফেন যে ব্র্যান্ডে বাজারে পাওয়া যায় সেই ব্র্যান্ডের ফর্মুলায় নয়, বরং কোভিড চিকিৎসার জন্য এই ওষুধের ফর্মুলায় প্রয়োজনীয় বদল করা হয়েছে।  নির্দিষ্ট ডোজে সেই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে করোনা রোগীদের। ২৩০ জন রোগীর উপরে কন্ট্রোলড ট্রায়াল হচ্ছে। ফলাফল এখনও সন্তোষজনক। তবে রোগীদের আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরেই ট্রায়ালের ফল সবিস্তারে সামনে আনা হবে।

    আরও পড়ুন: করোনা রোগীদের দেওয়া যাবে রেমডেসিভির, ভারতেও এই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোল

    লন্ডনের কিংস কলেজের ভারতীয় গবেষক মিতুল মেহতা রয়েছেন এই ওষুধের ট্রায়ালের তত্ত্বাবধানে। তিনি জানিয়েছেন, আইবিউপ্রোফেনের ফর্মুলায় এমন বদল আনা হয়েছে যে এই ওষুধ করোনা রোগীদের শ্বাসের সমস্যা কম করতে পারে। দেখা গেছে, সিভিয়ার অ্যাকিউট

    অধ্যাপক মিতুল মেহতা

    রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে ভোগা রোগীদের শ্বাসকষ্ট কমিয়েছে আইবিউপ্রোফেন।

    করোনা সংক্রমণ যখন মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে তখনই আইবিউপ্রোফেনের ব্যবহার শুরু করার কথা বলেছিল ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) ।  সেই মর্মে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই ওষুধ ব্যবহারের গাইডলাইনও দেওয়া হয়েছিল। তবে মৃদু সংক্রমণের লক্ষণুক্ত রোগীদের উপর এই ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশিকাই দেওয়া হয়েছিল। মার্চে সেই গাইডলাইন তুলে নেয় এনএইচএস। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি আইবিউপ্রোফেনের ব্যবহার সুরক্ষিত নয়, কোন ধরনে রোগীদের উপর প্রয়োগ করা যেতে পারে এই ওষুধ।

    গবেষক মিতুল মেহতা দাবি করেছেন, মৃদু উপসর্গের রোগীরা নন, বরং হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেই এই ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতি সঙ্কটাপন্ন রোগী যাদের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব কতটা হতে পারে সেটা এখনও জানা যায়নি।

    আইবিউপ্রোফেন ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ। ব্যথানাশক, প্রদাহজনিত রোগ সারাতে এই ওষুধের ব্যবহার হয়। জ্বর, গায়ে ব্যথা, তীব্র প্রদাহ কমাতে এই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন ডাক্তাররা। ঋতুস্রাবের সময় পেটের ব্যথা কমাতেও আইবিউপ্রোফেনের ব্যবহার চলে। তাছাড়া মাইগ্রেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসাতেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে এই ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে যেমন খাদ্যনালীতে ক্ষত, হার্টের রোগ, কিডনি ফেলিওর ইত্যাদি। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীদের এই ওষুধ দেওয়া যায় না। ব্রিটিশ ডাক্তাররা বলছেন, আইবিউপ্রোফেনের এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সাইড এফেক্ট কমাতেই তার ফর্মুলায় কিছু বদল করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরই সঠিক ডোজে ও নির্দিষ্ট সময়ের কোর্সে এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

    আরও পড়ুন:করোনা সারাতে প্রথম ওষুধের ট্রায়াল শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়, জাপানি ওষুধের ফর্মুলা বদলে অ্যাভিফ্যাভির বানাল পুতিনের দেশ

     

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনে করোনা চিকিৎসায় প্রায় ৭০ রকমের ওষুধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সলিডারিটি ট্রায়াল চলছে। তাদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে যে ওষুধগুলি তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ইবোলার ওষুধ রেমডেসিভির ও জাপানি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভির, যার ব্র্যান্ড নাম অ্যাভিগান।

    রেমডেসিভির ওষুধের ট্রায়াল গোটা বিশ্বজুড়েই চলছে। নির্মাতা সংস্থা মার্কিন বায়োটেকনোলজি ফার্ম গিলিয়েড সায়েন্সেসের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারতে করোনা রোগীদের উপরে এই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। ভারতে সিএসআইআরের তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ তৈরির কাজ শুরুও হয়েছে। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা বন্ধ করে দিতে পারে রেমডেসিভির, গবেষকদের দাবি এমনটাই।

    অন্য ওষুধ ফ্যাভিপিরাভির বা অ্যাভিগানের নির্মাতা সংস্থা জাপানের ফুজিফিল্ম টোয়ামা কেমিক্যাল। এই ওষুধ একসময় ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ কমাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। কোভিড সারাতেও এই ওষুধ ভাল কাজ করছে বলে দাবি করেছে জাপান। ফ্যাভিপিরাভিরেরই ফর্মুলায় বদল এনে রাশিয়া তৈরি করেছে অ্যাভিফ্যাভির। সে দেশে করোনা চিকিৎসায় প্রথম অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ অ্যাভিফ্যাভিরের ব্যবহার শুরু হচ্ছে। রাশিয়ার গবেষকরা বলছেন, ফ্যাভিপারিভিরের নয়া ভার্সন অ্যাভিফ্যাভির করোনাভাইরাসের জেনেটিক মিউটেশনটাকেই বন্ধ করে দেবে। জিনের গঠন বদলাতে না পারলে ভাইরাসের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। মানুষের শরীরে এই ড্রাগের কোনও অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More