লকডাউনের আগে চার লক্ষেরও বেশি মানুষ চিন থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলেন, বলছে সমীক্ষা

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, উহান থেকেই সরাসরি বিমানে প্রায় ১৩০০ জন ঢুকেছিলেন আমেরিকায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসর সংক্রমণ যখন মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে তখনই লকডাউনের ব্যবস্থা নেয়নি মার্কিন সরকার, এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, চিন ভাইরাসের মহামারীর কথা সামনে আনার আগেই সে দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন চার লক্ষেরও বেশি মানুষ। উহান থেকেই সরাসরি বিমানে প্রায় ১৩০০ জন ঢুকেছিলেন আমেরিকায়।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, আমেরিকায় মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৬৩৭ জন। ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮,৪৫৪ জনের।

    নিউ ইয়র্ক টাইমের রিপোর্ট বলছে, চিনা নববর্ষের আগে প্রথম যখন মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের কথা চিন আন্তর্জাতিক মহলকে জানায়, ততদিনে চার লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ চিন থেকে আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক উড়ানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় অনেক পড়ে। চিন থেকে হুহু করে মানুষ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে এ কথা জেনেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। যার কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি শহরে চিন থেকে আসা পর্যটক বা চিন-ফেরত মার্কিন নাগরিকরা কোনও রকম স্ক্রিনিং ছাড়াই ঢুকে পড়েন।

    রিপোর্ট বলছে, থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হয় জানুয়ারির মাঝ থেকে। তবে শুধুমাত্র উহান-ফেরত লোকদের জন্যই ছিল এই স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। লস এঞ্জেলস, সান ফ্রান্সিসকো ও নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরেই কেবলমাত্র স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ততদিনে উহান থেকেই চার হাজারের উপর মানুষ লস এঞ্জেলস, নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, নেওয়ার্ক, ডেট্রয়েটে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। সামাজিক মেলামেশায় যেহেতু লাগাম টানা হয়নি, সেই কারণেই আমেরিকায় সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়ে পড়েছে।

    ভেরিফ্লাইট ও আমেরিকার দু’টি সংস্থা মাইরাডার ও ফ্লাইট-অ্যাওয়ারের সমীক্ষা বলছে, সরাসরি উহান থেকে উড়ানে ১৩০০ জন ঢুকেছেন আমেরিকায়। অন্যান্য দেশ ঘুরে আরও হাজারখানেক।

    ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সে’স ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিপোর্ট বলছে, গত মাসে চিন থেকে সরাসরি ৩ লক্ষ ৮১ হাজার মানুষ ঢুকেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁদের অনেকেই ছড়িয়ে রয়েছেন নিউ ইয়র্কেও।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সঠিক মৃত্যুর খবর চিন লুকিয়ে যাচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নিজেদের মান বাঁচাতে সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা লঘু করে দেখাচ্ছে বেজিং। সরকারি তথ্যে যে গলদ আছে সেটা আগেই জানিয়েছিল রেডিও ফ্রি এশিয়া (RFA)-র সমীক্ষা। বলা হয়েছিল, ফি দিন উহানের শ্মশানগুলিতে মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে। এক একদিন তো সাড়ে তিন হাজার থেকে সাত হাজার অবধি দেহ পুড়েছে। প্রশ্ন ওঠে, চিনের দাবি মতো সংক্রমণ যদি কমেই গিয়ে থাকে তাহলে এত মৃত্যু কোথা থেকে হচ্ছে। আরএফএ ও পরে ওয়াশিমটন পোস্টের রিপোর্টও দাবি করে, করোনার সংক্রমণে উহানেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪২ হাজার। সরকার যা বলেছে, তার ১৬ গুণ বেশি। উহানের সাধারণ মানুষও বলছেন, সরকারি তথ্যে বড় গাফিলতি রয়েছে। কারণ কবরস্থানগুলি উপচে পড়েছিল। মাত্র আড়াই হাজার মৃত্যুতে এমনটা হওয়ার কথা নয় মোটেই। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টও একই কথা বলছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More