একুশে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট সম্ভাবনায় ইতি, অধীরকে সভাপতি করে বুঝিয়ে দিলেন কি সনিয়া

তবে কি একুশের ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোটে আগ্রহী সনিয়া? তেমন সম্ভাবনা কি তৈরি হচ্ছে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শঙ্খদীপ দাস

ক’দিন আগে নিট পরীক্ষার সময় নির্বাচন নিয়ে আপত্তি করে বিরোধী দলের নেতা নেত্রীদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। ভার্চুয়াল বৈঠক। দেখা যায়, ওই বৈঠকে কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই ছবি দেখা মাত্র উদ্বেগের স্রোত বইতে শুরু করেছিল রাজ্য কংগ্রেসের বড় অংশের মধ্যে। তবে কি একুশের ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোটে আগ্রহী সনিয়া? তেমন সম্ভাবনা কি তৈরি হচ্ছে!

বিপরীতে বাংলায় শাসক দল তৃণমূলের কিছু নেতা বেশ উৎফুল্ল ছিলেন। তাঁরা ভাবতে শুরু করেছিলেন, বিজেপি-কে ঠেকানোর প্রশ্নে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হতে পারে তাঁদের। এবং তাঁদের মতে, তাতে সুবিধা অনেক। এমনিতে বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটের চোদ্দ আনাই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। দুটি ধর্মনিরপেক্ষ দল জোট বাঁধলে তা ষোল আনাই যাবে তাদের দখলে। তা ছাড়া উদার হিন্দু ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। শুধু তা নয়, লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলে সাফ হয়ে গেছে তৃণমূল। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে পারলে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গে নিরঙ্কুশ আসন পেতে পারে সেই জোট। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে তথা পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ায় কংগ্রেসের ভাল ভোট রয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে পশ্চিমাঞ্চলে হারানো মাটি উদ্ধার করতে পারে তৃণমূল।

কিন্তু কোথায় কী! বুধবার রাতে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল বাংলায় নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীরবাবুর মমতা বিরোধিতা সুবিদিত। সনিয়াও তা ভালই জানেন। এ ব্যাপারে অধীরবাবু যে আপসহীন সে কথাও দশ নম্বর জনপথবাসিনীর অজানা নয়। এবং তা জেনেশুনে যখন তিনি তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করেছেন, তখন ধরে নেওয়া যেতেই পারে একুশের ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোট সম্ভাবনা দূরঅস্ত।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল। অতীতে কংগ্রেস হাইকমান্ড তথা সনিয়াকে ঘিরে কিছু নেতা একটা বলয় তথা প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিলেন। যাঁরা প্রদেশ নেতাদের সনিয়ার ধারে ঘেঁষতে দিতেন না। বা সনিয়ার মতকে কায়েমি স্বার্থ নিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের বর্তমান দুর্দশার সেটা একটা বড় কারণ। ওই নেতারাই তার বীজ বপন করে দিয়েছিলেন। কারণ, রাজ্য নেতারা একরকম চাইতেন। আর তাঁরা সনিয়াকে বুঝিয়ে অন্যরকম কিছু চাপিয়ে দিতেন রাজ্যের উপর।

এই ‘অনিয়মে’ বদলের কান্ডারি অবশ্যই রাহুল গান্ধী। তিনিই সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্য স্তরে জোট নিয়ে শেষ কথা বলবেন রাজ্যের নেতারাই। রাজ্যের সংখ্যাগুরু নেতা এ ব্যাপারে যা চাইবেন তাই হাইকমান্ড মানবে। কোনও মত চাপিয়ে দেবে না। রাহুল এখন সভাপতি পদে নেই। কিন্তু সেই নিয়মের বদল হয়নি। সনিয়াও এখন ঠেকে বুঝেছেন এই নীতি ভ্রান্ত নয়। রাজ্যের আবেগকেই মর্যাদা দিতে হবে।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলায় অধিকাংশ কংগ্রেস নেতা কী চাইছেন? যতদূর জানি, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা গৌরব গগৈ সনিয়া গান্ধীকে স্পষ্টতই জানিয়েছেন, বাংলার অধিকাংশ কংগ্রেস নেতার মত হল, তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই নেই। ষোলো সালে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কংগ্রেসের বিধায়কদের ভাঙাতে নেমে প়ড়ে তৃণমূল। এখনও বহু বিধায়ক রয়েছেন যাঁরা খাতায়কলমে কংগ্রেস বিধায়ক কিন্তু তাঁদের কোনও না কোনওভাবে লুব্ধ করে সামিল করা হয়েছে তৃণমূলে। যে দল কংগ্রেসকে ভাঙার চেষ্টা করেছে তাদের সঙ্গে জোট সম্ভব নয়।

তা হলে সম্ভাবনা কী?

বস্তুত রাজনীতিতে সম্ভাবনার শেষ নেই। তবে এখনও পর্যন্ত যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে বলা যায় যে বামেদের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাই উজ্জ্বল হচ্ছে। অতীতে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালীন সিপিএম তথা বামেদের সঙ্গে জোট জমিতে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন অধীরবাবু। বামেদের কারণেই তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তাতে কংগ্রেসের যা না ক্ষতি হয়েছে, তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বামেদের। সম্ভবত সেটা বুঝেই এখন প্রদেশ কংগ্রেসের দফতরে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও দ্বিধা করেন না বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। অধীরবাবু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর জোট গড়া ও তা মজবুত করার চেষ্টা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনিতে এই দুটি দলই বাংলায় এখন প্রায় অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। জোট করে অন্তত মুর্শিদাবাদ, মালদা, দিনাজপুর, পুরুলিয়া সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কিছু আসন জেতার চেষ্টা যে তাঁরা করবেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More