বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

সাত সকালে চিতাবাঘের হানা গ্রামে! মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার, আহত আরও সাত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয় পেয়ে গিয়ে গ্রামের ভিতরে ঢুকে চরম দৌরাত্ম্য চালাল একটি চিতাবাঘ! সোমবারের এই ঘটনায়, চিতাবাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। আহত আরও সাত গ্রামবাসী।

বন দফতর সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার মহেশপুর ব্লকে নসিপুর গ্রামের এই ঘটনার খবর পেয়েই পৌঁছে যান বন দফতরের কর্মীরা। কয়েক ঘণ্টার প্রবল লড়াইয়ের পরে শেষমেশ বাঘটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে জব্দ করতে পারেন তাঁরা। কিন্তু তত ক্ষণে তার হামলায় মারা যান এক মহিলা।

পাকুড়ের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার অনিলকুমার সিং বলেন, “সাত সকালে আচমকাই কোথা থেকে এসে গ্রামে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। এই সময়ে চাষজমিতে মাশরুম তুলতে গিয়েছিলেন ৬৫ বছরের সোনামণি টুডু। আচমকাই তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘটি। ঘাড়ে কামড়ে ধরে, মারা যান বৃদ্ধা।”

এর পরেই লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটিকে ধরে মারার পরিকল্পনা করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। কিন্তু তা করতে গিয়ে পাল্টা জখম হন আরও সাত জন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনকে মহেশপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চল্লিশ বছরের স্টিফেন হাঁসদাকে পাঠানো হয় ধানবাদের হাসপাতালে।

বন দফতরের তরফে মৃত সোনামণি টুডুর পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া করার জন্য। আরও চার লক্ষ টাকা দেওয়া হবে তাঁর পরিবারকে। স্টিফেন হাঁসদার চিকিৎসার জন্যও দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।

অনিলকুমার সিং জানান, ওই গ্রামের ঘরবাড়িগুলি বেশ খানিকটা দূরে দূরে। অনেক চাষজমি আছে। আছে কিছু জঙ্গলও। এই কারণেই চিতাবাঘটিকে ধরা কঠিন হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এলাকায় বাঘের উপদ্রব থাকলেও, এই প্রথম তাঁদের গ্রামের ভিতরে বাঘ ঢুকে গেল এভাবে।

বন দফতরের অনুমান, নিকটবর্তী আগুয়া পাহাড়ের অরণ্যের বাসিন্দা ছিল বাঘটি। সম্প্রতি সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অরণ্য কমতে শুরু করেছে। সেই কারণেই হয়তো খাবারের সন্ধানে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে গ্রামে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি।

Comments are closed.