পঞ্চসায়র গণধর্ষণ-কাণ্ডে পাঁচ দিন পরে ধৃত এক ট্যাক্সিচালক, মৃত তরুণীর মা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ দিন পরে গ্রেফতার করা হল পঞ্চসায়র গণধর্ষণ কাণ্ডের এক অভিযুক্তকে। পঞ্চসায়র থেকে সোনারপুর পর্যন্ত রাস্তায় লাগানো প্রায় শ’খানেক সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শেষমেশ গাড়িটিকে শনাক্ত করেছিল পুলিশ। তার পরে, সেই সূত্র ধরেই শনিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে উত্তম রায় নামের এক ট্যাক্সিচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে উত্তম স্বীকার করেছে, নিউ গড়িয়া স্টেশনের সামনে ওই তরুণীকে হোম থেকে বেরোতে দেখে সে। ট্যাক্সির ভিতরে বসে মদ খাচ্ছিল সে। তখনই তরুণীর পিছু নেয় উত্তম। দেখে, ওই তরুণী অজয়নগরের কাছে অন্য একটি গাড়িতে ওঠেন। সেই গাড়িকেও অনুসরণ করতে শুরু করে উত্তম। তরুণী হাইল্যান্ড পার্কের কাছে ওই গাড়িটি থেকে নেমে বাইপাসের দিকে হাঁটতে থাকেন। উত্তম ইচ্ছে করেই ট্যাক্সি নিয়ে যুবতীর কাছাকাছি পৌঁছয়। হাত দেখিয়ে ট্যাক্সিটি থামান তরুণী। এর পরেই তাঁকে হোমে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ট্যাক্সিতে তুলে ধর্ষণ করে উত্তম।

    অভিযোগকারিণী তরুণীর দাবি, সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গাড়িতে তুলে, গাড়ির ভিতরেই রাতভর অত্যাচার চালানো হয় তাঁর উপর। দু’জন মিলে করা হয় গণধর্ষণ। মঙ্গলবার ভোরে সোনারপুর স্টেশন এলাকায় তাঁকে ফেলে দিয়ে চলে যায় গাড়িটি। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁকে।  তরুণীর অভিযোগ, বেধড়ক মারধরও করা হয়ে তাঁকে। গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় মাথায় চোটও পান তিনি। অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে, স্থানীয়দের সহায়তায় গড়িয়ায় পৌঁছন তিনি।

    এই অবস্থায়, আগামী ১৯ নভেম্বর আদালতে গোপন জবানবন্দিতে তিনি কী বলেন, তার উপরেই নির্ভর করছে অনেক কিছু।

    মহিলার দাবি, পথচারীদের জিজ্ঞেস করে সোনারপুর স্টেশনে এসে পৌঁছন তিনি। সেখান থেকেই ট্রেনে চড়ে পঞ্চসায়রে ফেরেন নির্যাতিতা। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরে তাঁর পোশাকআশাকগুলি ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হবে। ফরেনসিকে পাঠানো হবে ধৃত গাড়িটিকেও।

    আপাতত চিকিৎসার পরে দক্ষিণ কলকাতারই অন্য একটি হোমে রাখা হয়েছে নির্যাতিতা তরুণীকে। ইতিমধ্যে মেয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় এবং মানসিক আঘাতে আচমকায় মারা যান তরুণীর মা। সে সময়ে পঞ্চসায়রের সেই হোমেই ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রক্তবমি করতে থাকেন। এর পরে শ্বাস বন্ধ হয়ে নিথর হয়ে যান তিনি। বৃদ্ধার বড় মেয়ে হোমে গিয়ে মায়ের মৃত অবস্থায় দেখেন। তিনি  বিষয়টি জানিয়েছেন পঞ্চসায়র থানায়। কী করে মৃত্যু হল, সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

    ঘটনার পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে হোমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে, কী ভাবে তালা খুলে একা বেরিয়ে যেতে পারেন কোনও অসুস্থ আবাসিক! রাতের শহরের সুরক্ষাও প্রশ্নের মুখে। রাস্তা থেকে এক মহিলাকে গাড়িতে তুলে নির্যাতন করতে করতে অত দূর নিয়ে যাওয়া হল, কেউ টের পেল না!

    আরও পড়ুন…

    কলকাতার বুকে গভীর রাতে গাড়িতে তুলে গণধর্ষণ করে ছুড়ে ফেলা হল হোমের আবাসিক তরুণীকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More