লন্ডনে পাক বিক্ষোভকারীদের অসভ্য আচরণ ব্রিটিশ মহিলার সঙ্গে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ আরও একবার আছড়ে পড়ল ব্রিটেনে। দীপাবলির সকাল থেকেই তেতে উঠল লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাস চত্বর।  কাশ্মীর নিয়ে ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের প্রতিবাদ ফের কুৎসিত চেহারা নিল।  নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হল ব্রিটিশ মহিলা কেটি হপকিনসকে। শারীরিক হেনস্থারও শিকার হলেন তিনি।

    রবিবার সকালে ভারতীয় দূতাবাস চত্বরে বিক্ষোভের লাইভ করছিলেন কেটি। প্রথমে তাঁকে ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য হুমকি দেন বিক্ষোভকারীরা। মানতে না চাইলে সাউন্ডবক্স দিয়ে আঘাত করা হয় তাঁর মাথায়। গোটা ঘটনার ভিডিও নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন কেটি। বলেছেন, ‘‘দীপাবলির অনুষ্ঠান পুরোপুরি ভেস্তে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে কুৎসিত ভাষায় তারা আক্রমণ করছিল ভারতীয়দের।  আমাকে বেশ্যা বলে গালিগালাজ করে তারা। মেট্রোপলিটন পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।’’

    https://twitter.com/KTHopkins/status/1188469843521146885

    রবিবার সকালে একদল ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের আয়োজিত ‘কাশ্মীর ফ্রিডম মার্চ’ ডাউনিং স্ট্রিট হয়ে হাইকমিশনের দিকে যায়। হাতে প্ল্যাকার্ড দিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলে, ‘কাশ্মীর ফিরিয়ে দাও, আজাদি চাই।’ দূতাবাস লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইট ছুড়তে থাকে। দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, আরও একটি সহিংস প্রতিবাদের ঘটনা ঘটল লন্ডনে। এই প্রতিবাদের জেরে দূতাবাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের অ্যাসিস্টান্ট ডেপুটি কমিশনার ম্যাট টুইস্ট।

    গোটা ঘটনার নিন্দা করেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত। প্রতিবাদীদের আচরণের তীব্র নিন্দা করছি। ব্রিটেনের পুলিশকে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি অনুরোধ করেছি।’’

    লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘‘বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও খালিস্তানের পতাকা। প্রতিবাদ মিছিলের জন্য আগেও তারা আবেদন করেছিল। সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেলে হিংসাত্মক পদ্ধতিতে আন্দোলনে নামে তারা। ইচ্ছাকৃতভাবেই বেছে নেওয়া হয় দীপাবলির সকাল, যাতে লন্ডনে ভারতীয়দের আনন্দ-অনুষ্ঠানে ছেদ পড়ে। ধর্মের ধ্বজা উড়িয়ে ব্রিটেনে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে তারা।’’

    রবিবারের আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ধর্মযাজক লর্ড নাজির আহমেদ। প্ল্যাকার্ড নিয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা গিয়েছিল তাঁকেই। অ্যাসিস্টান্ট ডেপুটি কমিশনার ম্যাট টুইস্ট বলেছেন, প্রায় শতাধিক সংগঠন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। যাদের মধ্যে ছিল মুসলিম অ্যাকশন ফোরাম, ওয়ার্ল্ড মুসলিম ফেডারেশন, পাকিস্তান প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট, ওভারসিজ পাকিস্তান ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পাঁচ থেকে দশ হাজার বিক্ষোভকারী।

    কাশ্মীর ইস্যুতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রতিবাদ হল ভারতীয় দূতাবাসের বাইরে। প্রতিবাদীরা প্রথম জমায়েত করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনে। হাই কমিশন বিল্ডিংয়ে সেই বারও ডিম, পাথর ছোড়ে বিক্ষুব্ধ প্রবাসী ভারতীয়রা। পুলিশ চার জনকে আটক করেছিল সেই ঘটনায়।

    কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর থেকেই উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে লন্ডনের পথঘাটে। কাশ্মীরে মানবাধিকার ফেরানোর দাবিতে ট্রাফালগার স্কোয়ারে মিছিল হয়েছে একাধিকবার। সেখানেও শান্তিপূর্ণ পথে যাঁরা হাঁটছিলেন, তাঁদের উপরে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানি এবং খলিস্তানিদের বিরুদ্ধে। বার্মিংহ্যামে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বয়কট করার ডাক দিয়েছেন ব্রিটিশ পাকিস্তানিরা।

    শয্যা উত্তোলন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More