মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

শিশু চুরি! ঘুমন্ত মায়ের বুক থেকে আট মাসের ছেলেকে তুলে নিয়ে গেল মহিলা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাজ্জব পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথা ঢাকা ঘোমটায়। ধীরে ধীরে সে এগোচ্ছে শিকারির মতো। বাস স্ট্যান্ডের বেঞ্চের নীচে মাটিতে কাপড় পেতে একরত্তি ছেলেকে নিয়ে তখন গভীর ঘুমে মা। মহিলার পদক্ষেপ অতি সতর্ক। মায়ের আঁচল সরিয়ে বুক থেকে শিশুকে সে তুলে নিল অভ্যস্ত কায়দায়। যেন কিছুই হয়নি, অনেক দিনের পরিচিত কেউ।  তাই বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয়নি পথচারীদেরও।  উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের গালশাহির বাস স্ট্যান্ডের এই ভিডিও দেখে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

জামশেদপুরের পর এ বার মোরাদাবাদ। ফের শিশু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। বাস স্ট্যান্ডের এই সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। সেখানে দেখা গেছে অপরাধী দু’জন। এক মহিলা এবং এক পুরুষ। দোষীদের শাস্তির দাবি উঠেছে নানা মহলে।

“আগে আমার সঙ্গে ওরা বন্ধুত্ব পাতিয়েছিল। তার পর সুযোগ বুঝে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেল, বুঝতেও পারলাম না,” হাহাকার রানির। গালশাহির বস্তি এলাকাতে থাকেন রানি। জানিয়েছেন, এক মহিলা এসে তাঁর সঙ্গে ভাব জমায়। নানা কথা বলতে বলতে তাঁকে বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে আসে। সেখানে ছিলেন আর একজন যুবক। তিনি ওই মহিলারই পরিচিত।  রানির দাবি, “ওরা দু’জনেই আমাকে টাকা দেয়। একটা কম্বলও দিয়েছিল আর ছেলের জন্য ওষুধ। আমরা তো খুব গরিব তাই সেগুলো নিয়ে নিই। তখন বুঝতে পারিনি ওটা ছিল একটা ফাঁদ।”

কীভাবে এবং কখন বাস স্ট্যান্ডেই ছেলেকে নিয়ে রানি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সেটা পুলিশকে সঠিক বলতে পারেননি। জানিয়েছেন, তিনি তখন গভীর ঘুমে। পাশে কী হচ্ছে বুঝতে পারেননি। এমনকী ছেলের কান্নাও শুনতে পাননি। ঘুম ভাঙলে দেখেন পাশে ছেলে নেই। ওই মহিলা এবং তার সঙ্গীও নেই। গোটা বাস স্ট্যান্ডটা ফাঁকা।

গালশাহির থানার পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক অঙ্কিত মিত্তল জানিয়েছেন, মনে করা হচ্ছে অপরাধীরা রানিকে ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খাইয়ে দিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই মহিলা ও যুবকের খোঁজ শুরু হয়েছে। শিশু পাচারের একটা চক্র সক্রিয় হয়েছে মোরাদাবাদে। গোটা গ্যাংটাকে খুঁজছে পুলিশ।

জামশেদপুরের শিশু চুরির ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে। টাটানগর স্টেশনে এক যুবতীর তিন বছরের মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল দুই দুষ্কৃতী। তাদের সঙ্গে দিয়েছিল যুবতীর প্রেমিকও। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে শিশু চুরির সেই ঘটনা ভাইরালও হয়েছিল। পরে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল স্টেশনের পাশেই একটি ঝোপ থেকে। প্লাস্টিকে জড়ানো ছিল ছিন্নভিন্ন দেহ। ছিঁড়েখুঁড়ে গিয়েছিল যৌনাঙ্গ। ছোট্ট শরীরে মাথাটাই ছিল না। পুলিশ জানিয়েছিল, গণধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করা হয় বছর তিনেকের মেয়টাকে। যুবতীর প্রেমিক-সহ তিনজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

ধিক্কার! ধর্ষণের পর তিনের শিশুর দেহ ছিঁড়েখুঁড়ে মাথা কাটল দুই হত্যাকারী, পুলিশ ও সেনা জওয়ানের ছেলে

Comments are closed.