কিসের এত আস্ফালন? ভারতের সুখোই-৩০ ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তান, ক্ষমতাও তাদের নেই! প্রমাণ করে দিল বায়ুসেনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ ফেব্রুয়ারি। ভারত-পাক আকাশযুদ্ধ চরম সীমায়। পাকিস্তানের এফ-১৬ কে ধাওয়া করে দুরন্ত গতিতে ছুটছে বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের মিগ-২১ বাইসন জেট। অন্যদিকে, ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া বাকি এফ-১৬ গুলোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিচ্ছে ভারতের শক্তিশালী যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০এমকেআই। গোটা আকাশ যখন রণাঙ্গনের চেহারা নিয়েছে, পাকিস্তান হঠাৎই দাবি করে বসে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সুখোই ফাইটার জেটকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাক এফ-১৬। শুধু দাবি নয়, রীতিমতো বুক বাজিয়ে আস্ফালন করতেও দেখা যায় পাক বাহিনীকে। এতদিন পাকিস্তানের দাবি শুধু মুখেই অস্বীকার করে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। আজ ৮ অক্টোবর, বায়ুসেনার প্রতিষ্ঠা দিবসে হাতেনাতে প্রমাণ করে দেখিয়ে দেওয়া হল ভারতের সুখোই যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে তো পারেইনি পাকিস্তানের বায়ুসেনা বরং পাক এফ-১৬ দিয়ে রুশ সুখোই-৩০ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।

আজ বায়ুসেনা দিবসে পুলওয়ামার ক্ষত বারে বারেই ফিরে এসেছে। সেই সঙ্গে  বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক বায়ুসেনার দুরন্ত সাফল্য ও অভিনন্দন বর্তমানের সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া। উত্তরপ্রদেশের লোনি গাজিয়াবাদ এলাকায় হিন্ডন এয়ারবেসে বায়ুসেনার বিভিন্ন বিভাগের নানা প্রদর্শনী হয় এ দিন। আকাশে মহরা দেয় বায়ুসেনার সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মিরাজ ২০০০, সুখোই-৩০এমকেআই, লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট তেজস। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে বায়ুসেনার যে দুটি স্কোয়াড্রন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল সেই ৫১ ও ৯ স্কোয়াড্রনের মহরাও হয় এ দিন। সেখানেই আকাশে ডানা মেলতে দেখা যায় ২৭ ফেব্রুয়ারি আকাশযুদ্ধে অংশ নেওয়া সুখোই-৩০এমকেআই ফাইটার জেটকে।

আকাশে যুদ্ধবিমানের এই প্রদর্শনীর ছবি সামনে এনে বায়ুসেনা জানিয়েছে, যে সুখোই যুদ্ধবিমান ‘অ্যাভেঞ্জার ১’ ধ্বংস করা নিয়ে পাকিস্তান এত আস্ফালন করেছে, সে তো দিব্যি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। মাঝে বায়ুসেনার ৯ স্কোয়াড্রনের (WOLFPACK) তিনটি মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট এবং তাকে ঘিরে দুটি সুখোই-৩০ ‘অ্যাভেঞ্জার ১’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার ২’।   বায়ুসেনার দাবি, আসলে পাকিস্তানের এফ-১৬ ফাইটার জেট গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতের বায়ুসেনা। সেই ক্ষত ঢাকতেই সুখোই উড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল তারা।

সুখোই-৩০এমকেআই ফাইটার জেট

সুখোই-৩০ হাতে থাকায় ভারত অনেকটাই এগিয়ে পাকিস্তানের থেকে

ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে যত রকমের যুদ্ধবিমান রয়েছে, সুখোই-৩০ এমকেআই সেগুলির মধ্যে সেরা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ডাবল ইঞ্জিন মাল্টিরোল এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার জেটগুলির অন্যতম হল এই সুখোই। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা অর্জনের পর থেকে সুখোই ভারতের যে কোনও প্রতিপক্ষের জন্য আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।

সুখোই গোত্রের সব যুদ্ধবিমানই রাশিয়ায় তৈরি। তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী শ্রেণিগুলির অন্যতম হল সুখোই-৩০। এই ফাইটার জেটে রয়েছে ক্যানার্ড নামে অতিরিক্ত দুটি ডানা। এই ক্যানার্ড যুদ্ধবিমানের গতি ও ভারসাম্য পুরোপুরি চালকের নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর থ্রাস্ট-ভেক্টর কন্ট্রোল বিমানের অভিমুখ নিয়ন্ত্রণে খুব দক্ষ। থ্রাস্ট-ভেক্টরিং-এর সুবাদে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এত দ্রুত এগিয়ে যায় সুখোই-৩০ যে তাকে তাড়া করা বা ধ্বংস করার চেষ্টা যে কোনও পুরনো প্রযুক্তির ফাইটার জেটের পক্ষে সম্ভব নয়।

ভারত-রুশ যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইস ব্রহ্মস নিয়ে উড়তে সক্ষম এই সুখোই-৩০এমকেআই। ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) জানিয়েছে, সুখোইকে ব্রক্ষসের বহন ও নিক্ষেপণের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে। আড়াই টন ওজনের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সুখোই-৩০এমকেআই-কে শুধু পাকিস্তান নয়, চিনও সমীহের চোখে দেখে। দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও আকাশ থেকে ব্রহ্মস ছুড়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০এমকেআই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More