রবিবার, অক্টোবর ২০

মোদী-দিদি সংঘাতের খেসারত? বাংলার পাঁচ জেলার উন্নয়নে কোপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্র রাজ্য সংঘাতে ফের বাধা পড়ল উন্নয়নে! কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে পিছিয়ে পড়া পাঁচটি জেলার সার্বিক উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করেনি পশ্চিমবঙ্গ। রাজনৈতিক ভাবে বিরোধ থাকলেও দেশের অন্য আর কোনও রাজ্য এমন অবস্থান নেয়নি।

নীতি আয়োগ সূত্রে বলা হচ্ছে, বাংলার ওই পাঁচ জেলা হল ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ার।
বাংলার এই পাঁচ জেলা-সহ গোটা দেশের ১১৭ টা জেলাকে বেছে নিয়েছিল নীতি আয়োগ। আর্থ সামাজিক ভাবে যে জেলাগুলি একেবারে পিছিয়ে পড়া। অর্থাৎ যে সব জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল, প্রসব কালে মৃত্যুর হার বেশি, শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে, স্কুল ছুটের হার বেশি, বাড়িতে টয়লেট নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ সর্বত্র পৌঁছয়নি, পানীয় জলের সংকট রয়েছে বা পানীয় জল থাকলেও তাতে দূষণের মাত্রা বেশি ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে।

কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি আয়োগের প্রস্তাব ছিল, এই জেলাগুলিকে পৃথক অনুদান দেবে কেন্দ্র। তা কেন্দ্র থেকে সরাসরি জেলা শাসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তার পর সংশ্লিষ্ট জেলার উন্নয়নের নকশা তৈরি করে সেই মতো প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবেন জেলা শাসক। এবং এই জেলাগুলি পরস্পরের সঙ্গে উন্নয়নের মাপকাঠিতে প্রতিযোগিতাও করবে। যে জেলা গুলি এগিয়ে থাকবে বছরে দশ থেকে কুড়ি কোটি টাকা বাড়তি অনুদান পাবে।

শুধু খাতায় কলমে প্রকল্পের খসড়া রচনা করেই বসে থাকেনি নীতি আয়োগ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে, এই জেলাগুলিতে একেবারে কম বয়সী জেলা শাসক পাঠাতে হবে। যাঁরা সদ্য পাশ করে এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। উন্নয়নের জন্য একটা জেদ নিয়ে যাতে কাজ হয়। একই ভাবে প্রতিটি জেলার জন্য দিল্লিতে এক জন যুগ্ম সচিব পদের অফিসারকে প্রভারী করে দেওয়া হয়েছে। যিনি এই প্রকল্পের আওতায় তাঁর দায়িত্বে থাকা জেলার কাজ কর্মের উপর প্রতি দিন নজর রাখবেন।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ প্রকল্পের সুবিধা না নেওয়ায় আপাতত দেশের ১১২ টি জেলায় তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
কেন এই প্রকল্প থেকে বাংলাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা নবান্ন সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে শাসক দলের এক নেতা বলেন, নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পকেও রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছেন। আদৌ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে কি হবে না ঠিক নেই, শুধু মোদীর ছবি সাঁটা হবে।

কেন্দ্রেরও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। নীতি আয়োগের এক অফিসারের কথায়, কেন্দ্রের অনুদানে চলা প্রকল্পগুলি রাজ্য সরকার বহাল তবিয়তে নিজেদের বলে চালায়। ফলে এ সব কোনও যুক্ত নয়। আসল বিষয় হল, রাজ্যের পাঁচ জেলা বঞ্চিত হল।
প্রসঙ্গত, বাংলার যে পাঁচ জেলা নীতি আয়োগ বেছে নিয়েছিল সেখানকার সবকটি আসনেই এ বার বিজেপি জিতেছে। দিল্লিতে রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের মতে, এভাবে পিছিয়ে পড়া জেলা বেছে নেওয়ার মধ্যেও মোদীর দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী এই জেলাগুলিতে উন্নয়নের মাধ্যমে মোদী সরকার যদি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, এবং সেখানকার অধিকাংশ আসনে জিততে পারে, তা হলে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে বিজেপি। বড় কথা হল, এই ১১২ টি জেলার উন্নয়নে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে তা শহরের পরিকাঠামো নির্মাণের খরচের তুলনায় অনেক কম।

Comments are closed.