জেলে রোজগার লক্ষ টাকা, নির্ভয়ার দোষীদের শেষ ইচ্ছা সামনে আনল তিহাড়

চার অপরাধীর মধ্যে মুকেশ সিং ছাড়া অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও পবন গুপ্ত, তিনজনে মিলে মোট এক লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা রোজগার করেছে জেলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ঠিক কাঁটায় কাঁটায় ভোর সাড়ে পাঁচটায় একসঙ্গে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয় নির্ভয়ার চার অপরাধীকে। ফাঁসির পরে বিধি মেনে ৩০ মিনিট অপেক্ষাও করা হয়। চারজনেরই মৃত্যু নিশ্চিত করেন ডিজিপি (জেল) সন্দীপ গোয়েল।  মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় দীনদয়াল হাসপাতালে।

    মৃত্যুর পরে নিজের দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্ভয়ার অপরাধী মুকেশ সিং। আর এক অপরাধী বিনয় শর্মার শেষ ইচ্ছা ছিল নিজের সমস্ত আঁকা ছবি দান করা। জেলে এই দীর্ঘ সময় তাদের নাকি রোজগারও মন্দ হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই চারজনের মধ্যে মুকেশ সিং ছাড়া অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও পবন গুপ্ত, তিনজনে মিলে মোট এক লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা রোজগার করেছে জেলে।

    তিহাড় জেলসূত্রে খবর, ফাঁসির দুদিন আগে লিখিতভাবে নিজের দেহদানের কথা জানায় মুকেশ সিং। বিনয় শর্মা জেল আধিকারিকদের বলেছিল, তার সমস্ত হাতে আঁকা ছবি সে দান করতে চায়। পাশাপাশি তার সংগ্রহে থাকা হনুমান চালিশা ও বাবাজির ছবি সে দিতে চায় তার পরিবারের লোকজনকে। পবন ও অক্ষয় ঠাকুরের শেষ ইচ্ছা অবশ্য জানা যায়নি।

    ফাঁসির দিন যতই এগিয়ে এসেছে, নির্ভয়ার অপরাধীরা ততই মুখে কুলুপ এঁটেছে। জেল কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছিলেন, আইনি ফাঁকফোঁকর নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা ছাড়া তাদের আর বিশেষ কোনও কাজ ছিল না। আইনি পথ কার্যকরী না হলে জেল কর্তৃপক্ষের উপর দোষ চাপানোই ছিল তাদের কাজ। এতদিন তাদের কোনও শেষ ইচ্ছা জানা যায়নি, এমনকি শেষ ইচ্ছার কথা জানাতেও চায়নি তারা।

    জেলের আধিকারিকরাই বলছেন, ফাঁসির আগে শেষবার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করানো হয় আসামিদের। তাঁরা শেষ ইচ্ছার কথাও জানান। কিন্তু এই চার আসামির কথাবার্তায় তেমন কিছু জানা যায়নি। বরং ফাঁসি কীভাবে পিছনো যায় সেই আলোচনাই শোনা গেছে বারবার। জেলের আধিকারিকদের কথায়, অনেক সময়েই মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের মধ্যে তীব্র মানসিক উত্তেজনা দেখা যায়। অনেকে আত্মহত্যাপ্রবণও হয়ে ওঠে। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় অনেককে। তবে নির্ভয়ার চার দোষীর মধ্যে তেমন কিছু আঁচ করা যায়নি।

    ফাঁসির আগের দিন তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে শেষ ইচ্ছার কথা জেল সুপারকে জানায়। জেলে তাদের কামাইও মন্দ হয়নি। দোষী অক্ষয় ঠাকুর ৬৯ হাজার টাকা রোজগার করেছে গত কয়েক বছরে। পবন গুপ্ত ও বিনয় শর্মার রোজগার ৩৯ হাজার টাকা। তিহাড় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিনয়-পবন-মুকেশের পারিশ্রমিকের টাকা তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে যা ছিল তাও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ফাঁসির সাজা রদ করার জন্য গতকাল রাতে শেষ চেষ্টা করেছিল এই অপরাধী। তাদের তরফে আইনজীবী প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু ভোর রাতে সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। তার পর ভোর চারটে নাগাদ এই চার অপরাধীকে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়। পরিষ্কার জামা কাপড় পরানো হয়। হাত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে। তার পরে ঘড়ি ধরে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয় ভোর সাড়ে পাঁচটায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More