রক্তের এই উপাদানের বদল দেখেই বলা যাবে করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি কতটা, কীভাবে সারবে রোগী

ভাইরাসের সংক্রমণ রক্ত কণিকাগুলির উপরেও তার প্রভাব খাটাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, শ্বেতকণিকা শুধু নয়, করোনার সংক্রমণ হলে তার প্রভাব পড়ছে লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cells)উপরেও ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রমণ কতটা ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে, রোগীর অবস্থা জটিলতার দিকে যাবে কিনা সবই বলা যাবে রক্তের একটি উপাদানের পরিবর্তন দেখেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিট টেস্টে সংক্রমণ পরীক্ষা করা হচ্ছে ঠিকই, তবে এই টেস্ট বলতে পারে না ভাইরাল লোড কতটা বা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি আছে কিনা। ভাইরাল লোড বেশি হলেই রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ারে দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে, তখন থেরাপিও অন্যরকম হবে। কাজেই আগে থেকে সতর্ক হওয়া গেলে সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীকে বাঁচাবার উপায় বের করা যাবে।

গবেষকরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে রক্তের শ্বেত কণিকা (White Blood Cells) সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।  ফলে একে একে বিকল হতে শুরু করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে শ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, ধীরে ধীরে ঘায়েল হতে থাকে কিডনি, অন্ত্র, লিভার, এমনকি এর ছাপ পড়তে পারে ত্বকেও। করোনার সংক্রমণে আবার হার্টের রোগ এবং খাদ্যনালীর সংক্রমণও দেখা দিয়েছে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই। রক্ত সঞ্চালন কমে যাচ্ছে, হৃদপেশীকে সংক্রামিত করছে ভাইরাস যার কারণে হার্টেও ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যাচ্ছে।

ভাইরাসের সংক্রমণ রক্ত কণিকাগুলির উপরেও তার প্রভাব খাটাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, শ্বেতকণিকা শুধু নয়, করোনার সংক্রমণ হলে তার প্রভাব পড়ছে লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cells) উপরেও। লোহিত কণিকার আকার ও সংখ্যায় বদল আসছে। যার কারণে শরীরে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হতেও দেখা যাচ্ছে।

‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন (JAMA Network Open)’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে লোহিত রক্তকণিকার ঘনত্বে পরিবর্তন আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় রেড সেল ডিসট্রিবিউশন উইধ’ (Red Cell Distribution Width) বা আরডিডব্লিউ তার স্বাভাবিক মাত্রার থেকে বেড়ে যায়। যার কারণে ইনফ্ল্যামেশন হতে শুরু করে রোগীর শরীরে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।

আরডিডব্লিউ টেস্টে হল রক্তে লোহিত রক্তকণিকার ঘনত্ব ও আকার পরিমাপ করা হয়। লোহিত রক্তকণিকার কাজ হল ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেওয়া। এই রক্তকণিকার একটা স্বাভাবিক আকার ও ঘনত্ব আছে। সাধারণত এক একটি লোহিত কণিকার আকার ৬-৮ মাইক্রোমিটার হয়। যদি দেখা যায় লোহিত কণিকা তার স্বাভাবিক আকারের চেয়ে বেড়ে গেছে বা ঘনত্বের ভারসাম্য বদলে গেছে তাহলেই ধরে নিতে হবে রোগীর শরীরে জটিল কোনও সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। রোগ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরডিডব্লিউ-এর মানও বদলে যাবে। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার আরডিডব্লিউ-এর মান হল ১২.২ থেকে ১৬.১, পুরুষদের ক্ষেত্রে ১১.৮ থেকে ১৪.৫। কোভিড সংক্রামিত রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে এই মানই আড়াই গুণের বেশি বেড়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন এমন হলে ঝুঁকির কারণ আছে। যদি দেখা যায় আরডিডব্লিউ তার স্বাভাবিক মানের চেয়ে ২.৭ গুণ বেশি, তাহলে মৃত্যুহারের সম্ভাবনাও ৩১ শতাংশ বেড়ে যাবে।

কোভিড সংক্রামিত রোগীর আরডিডব্লিউ কাউন্ট করলেই বোঝা যাবে ঝুঁকির কারণ কতটা রয়েছে। থেরাপিও হবে সেই মতোই। গবেষকরা বলছেন, রক্ত কণিকার সংখ্যা বা ঘনত্বে বদল এলে শরীরও বিপদ সঙ্কেত দিতে থাকে। সাইটোকাইন প্রোটিন এই বিপদবার্তা পৌঁছে দেয়। তবে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে এই প্রোটিনের ক্ষরণও স্বাভাবিক মাত্রার থেকে বেড়ে যায়। বেশি প্রোটিন নিঃসৃত হলে কোষেরই ক্ষতি হয়। তখন তীব্র প্রদাহ শুরু হয় যাকে সাইটোকাইন স্টর্ম বা সাইটোকাইন ঝড় বলে। করোনা সংক্রমণে বেশিরভাগ রোগীরই এই প্রদাহজনিত রোগে মৃত্যু হচ্ছে বলেই দাবি গবেষকদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More