ভাইরাল প্রোটিন ধ্বংস করবে ‘করোনা-মাইনাস’, হুগলির কারখানায় এমন যন্ত্র বানালেন বাংলার বিজ্ঞানীরা

চিন, জাপান, তাইওয়ান, ভিয়েতনামে এমন ডিভাইস রয়েছে। এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন যন্ত্র এল বাংলার ঘরে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখবে। স্যানিটাইজ করতে পারবে একটা বড় এলাকা। ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে ধুয়েমুছে দেবে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে। স্টেরিলাইজ করতে পারবে চারপাশের পরিবেশ। এমনই আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস বানালেন বাংলার বিজ্ঞানী-গবেষকরা। চিন, জাপান, তাইওয়ান, ভিয়েতনামে এমন ডিভাইস রয়েছে। এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন যন্ত্র এল বাংলার ঘরে।

    হুগলির পোলবার সুগন্ধায় এই ডিভাইস তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের গবেষক ড. শশী রঞ্জন, খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তনী ও আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দেবায়ন সাহা, খড়্গপুর আইআইটির ইঞ্জিনিয়ার অঙ্কিত মিনারা বানিয়েছেন এমন যন্ত্র। খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তনী দেবায়ন সাহা বলেছেন, সুগন্ধার একটি কারখানাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল এই ডিভাইস তৈরির জন্য। ওই কারখানার মালিক শান্তনু ঘোষ নানা রকং টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছেন। আইআইটি ছাড়াও বাংলার অনেক সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম থেকে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন আনিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় উপায় বানানো হয়েছে এই যন্ত্র। দেখতে অনেকটা রোবটের মতো, ইলেকট্রো ওয়াটার স্প্রে (EWS)পদ্ধতি হাইলি-চার্জড ওয়াটার ড্রপলেট ছড়িয়ে এই যন্ত্র ভাইরাস ড্রপলেটগুলোকে নষ্ট করতে পারে।

    কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি উচ্চক্ষমতাযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এর কাজ হল বিদ্যুৎশক্তির সাহায্যে চার্জড ওয়াটার ড্রপলেট ছড়িয়ে দেওয়া। বিজ্ঞানী দেবায়ন বলছেন, এই জলের কণাগুলো আয়োনাইজড। অর্থাৎ হাই-ভোল্টেজ আয়োনাইজড ওয়াটার ড্রপলেট ছড়িয়ে ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে মেরে ফেলার চেষ্টা হবে।

    সংক্রামিত এলাকায়, যে কোনও সারফেসে, বা বড় কোনও এলাকা স্যানিটাইজ করতে হলে এই ডিভাইস কাজে লাগবে। এর মূল কাজ হল স্টেরিলাইজড করা। ওয়াটার স্পে-র মাধ্যমে যে জলের কণা বেরিয়ে আসবে তারা আযোনাইজড, এদের কাজ ভাইরাল প্রোটিনের লেয়ারটাকে ভেঙে ফেলা। পরিবেশে যদি মিশে থাকে ভাইরাস তাহলে এই চার্জড ওয়াটার ড্রপলেট সেই ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে অক্সিডাইজ করবে বা প্রোটিনের স্তরটাকে ভেঙে দেবে। এইভাবে ভাইরাসমুক্ত হবে এলাকা। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে।

    হাসপাতাল, বাড়ি, রেল স্টেশন, দোকান-বাজার, অফিস, কারখানা, যে কোনও বড় জায়গাকে স্যানিটাইজ করতে এই ডিভাইস কাজে দেবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এয়ার ড্রপলেটে বেশ কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন। কাঠ, প্লাস্টিক বা এমন কোনও সারফেসে তিন-চারদিন অবধিও বেঁচে থাকতে পারে ভাইরাল স্ট্রেন। সুতরাং এই ডিভাইস দিয়ে যে কোনও জায়গা স্টেরিলাইজ করা যেতে পারে।

    শুধু চার্জড ওয়াটার ড্রপলেট নয়, প্রয়োজনে জলের সঙ্গে জীবাণুনাশক রাসায়নিক মিশিয়েও স্প্রে করা যেতে পারে, বলেছেন বিজ্ঞানীরা। এর জন্য কাজ চলছে। এই ডিভাইসকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

    শান্তনু ঘোষ বলেছেন, “দেশীয় প্রযুক্তিতে ভাইরাস মোকাবিলার এই চেষ্টা আলো দেখাবে বাংলাকে। আরও বেশি সংস্থা, বিজ্ঞানীরা এগিয়ে আসুন। এই ডিভাইসকে ছড়িয়ে দেওয়া হোক দেশের সর্বত্র। মারণ ভাইরাসকে রুখতে সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”

    বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যে কেউ এই ডিভাইস ব্যবহার করতে চাইলে বা বানাতে চাইলে তার ফর্মুলা বলা হবে। এই মুহূর্ত থেকেই যত বেশিবার যতটা বেশি পরিমাণ এলাকা স্যানিটাইজ করা হবে, সংক্রমণ ততটাই কম ছড়াবে। তবে এই ডিভাইসের মিনি-ভার্সনও খুব তাড়াতাড়ি বাজারে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More