শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন শিলং যাত্রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে বলেছে এই প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ? রাস্তায় নেমে চলছে না চলবে না, জবাব চাই জবাব দাও করার সময়-সুযোগ না থাকলেও রাজনীতি কিন্তু রয়েছে বহালতবিয়তে। কার্টুন, ছড়া সবই রয়েছে ভরপুর। তবে তা চুন করা দেওয়ালে ভুসো কালি বা রেডঅক্সাইড দিয়ে আঁকা বা লেখা নয়। সবটাই হচ্ছে অ্যাপের জাদুতে। চুনকাম করা দেওয়ালে নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে।

বাংলার ওয়াল এখন রাজীব কুমারময়। ছড়া থেকে মিম-এ ছেয়ে গিয়েছে ফেসবুক। হোয়াটসঅ্যাপেও উপচে পড়ছে সে সব মিম।

কেউ কেউ লালবাজার থেকে শিলং পর্যন্ত নতুন বাসরুট চালু করে দিয়েছেন। কেউ আবার দুই পাহাড়ি শহরকে গেঁথে দিয়েছেন এক সুতোয়। সেখানে আবার রবীন্দ্রনাথও রয়েছেন। নৈহাটির এক যুবক লিখেছেন, ‘ডেলো পাহাড়ে শুরু (কালিম্পং), শিলং-এ কি তবে শেষের কবিতা?’

কলকাতার পুলিশ কমিশনার চিটফান্ড কাণ্ডে হাজিরা দিতে গিয়েছেন শিলং-এ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকশো প্রশ্নের মালা গেঁথে তৈরি হয়েছে সিবিআই। নগরপালকে চোখাচোখা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে অনুমান করেই এক যুবক মিম পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। যেখানে পরামর্শের সুরে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে যে প্রকাশনী দাবি করে তাদের সহায়িকা পড়লেই পরীক্ষায় সব প্রশ্ন কমন পড়বে, নগরপাল যেন সেই সহায়িকাই ফলো করেন।

গত রবিবার লাউডন স্ট্রিটে সিবিআই-কলকাতা পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিল। যা নিয়ে মেট্রো চ্যানেলে ধর্ণা পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই বিজয় মালিয়াকে ভারতে ফেরানোর ব্যাপারে বিলেতের আদালত সবুজ সংকেত দিয়েছে। বাংলার যুব সমাজের অনেকেরই আক্ষেপ ঝরে পড়েছে, ‘ইস! যদি বিজয় মালিয়া কলকাতায় আশ্রয় নিতেন, তাহলে কেউ তাঁকে ধরতে পারত না।” বাদ যাননি জটায়ুও। সন্তোষ দত্তর ছবি দিয়ে অনেকে আবার পোস্টার করেছেন ‘শিলং-এ শিহরণ।’

অনেকেই বলেন এই পনেরো-বিশ বছর আগেও রাজনীতিতে আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে একটা শালীনতা ছিল। রাজনৈতিক প্রচারেও চোখে পড়ত বুদ্ধিদীপ্ত স্লোগান, কার্টুন, ছড়া। কিন্তু ইদানীং সেসবের বালাই নেই। বোমা মারা থেকে কাগজে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালাগাল, কিছুই বাদ যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে রাজনীতির সেই পরিবেশটা আর নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা দেখাচ্ছেন আক্রমণ করতে অশ্লীল শব্দবন্ধের দরকার হয় না। হিউমার দিয়েই আক্রমণ করা যায় সপাটে। কিন্তু নেতারা কি শিখবেন?

Shares

Comments are closed.