কোন্নগরের যুবক ছিলেন কেরলের টুকরো হওয়া প্লেনে, অনেককে উদ্ধার করে আহত তিনিও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: শুক্রবার রাতে ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে কেরলের কোঝিকোড় বিমানবন্দরে। অবতরণের সময় পিছলে গিয়ে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমান আইএক্স-১৩৪৪। এখনও পর্যন্ত ওই দুর্ঘটনায় এক পাইলট-সহ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭৩ জন। আর ওই অভিশপ্ত বিমানে ছিলেন হুগলির কোন্নগরের বাসিন্দা তথা এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানের কেবিন ক্রু অভীক বিশ্বাস। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের অনেককে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তিনিও।

তবে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি তাঁর। আর এতেই যেন উৎকণ্ঠামুক্ত হয়েছে কোন্নগরের সিদ্ধেশ্বরী তলার বিশ্বাস পরিবার। অনেক রাতে নিজেই বাবা-মাকে ফোন করেছিলেন অভীক। তিনি জানিয়েছেন, প্লেনের যাত্রীদের উদ্ধার করতে গিয়েই তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে তা গুরুতর নয়। নিজে মুখে জানিয়েছেন, তিনি ভাল আছেন।

অভীকের বাবা অজয় বিশ্বাস বলেন, “যখন সংবাদমাধ্যমে দুবাই থেকে কোঝিকোড়গামী বিমানের দুর্ঘটনার খবর পাই তখনই মনের মধ্যে উথালাপাথাল শুরু হয়ে গিয়েছিল। তারপর অনেক রাতে ছেলের ফোন আসে। ওর গলা শুনেই শান্তি পাই!” মা ভারতী বিশ্বাসের সঙ্গেও কথা বলেছেন অভীক। ভারতীদেবী বলেন, “ছেলেটা বড় বিপদ থেকে বেঁচে ফিরেছে। ও কথা বলেছে, ওর গলা শুনেছি। এটাই আমার শান্তি!”

বছর তিনেক আগে ইন্ডিগোতে কেবিন ক্রু হিসেবে যোগ দেন অভীক। পরে ইন্ডিগোর চাকরি ছেড়ে এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগ দেন কোন্নগরের এই ঝকঝকে চেহারার তরুণ।

অবতরণের জন্য বেশ কিছুক্ষণ ধরে কেরলের কোঝিকোড় বিমানবন্দরের আকাশে ঘুরছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমান আইএক্স-১৩৪৪। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির জেরে খারাপ আবহাওয়া থাকায় সেটি অবতরণ করতে পারছিল না। এমনকি দু’বার অবতরণের চেষ্টাও করে বোয়িং ৭৩৭ এনজি। কিন্তু বিফল হয়। তৃতীয়বারের চেষ্টাতেই দুর্ঘটনা। র‍্যাডারে এমনটাই ধরা পড়েছে।

কোঝিকোড়ের বিমানবন্দর টেবিলটপ বিমানবন্দর। কোনও মালভূমি বা পাহাড়ের মাথায় কোনও বিমানবন্দর তৈরি হলে তাকে টেবিলটপ বিমানবন্দর বলে। অর্থাৎ এই ধরনের বিমানবন্দরের চারদিকেই থাকে খাদ। তাই এই ধরনের বিমানবন্দরে অবতরণের সময় খুবই সতর্ক থাকতে হয় পাইলটদের। ঝুঁকিও থাকে অবতরণে। দৃশ্যমানতা কম হলে এই ধরনের বিমানবন্দরে অবতরণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তার উপর আবহাওয়াও অনুকূল ছিল না। শুক্রবার ল্যান্ডিংয়ের সময় বিমানটির চাকা পিছলে যাওয়াতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তা রানওয়ে ছাড়িয়ে পাশের প্রায় ৩৫ ফুট নিচু খাদে পড়ে যায়। তারপরেই দু’টুকরো হয়ে যায় বিমানটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More