শনিবার, মার্চ ২৩

পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের কথা উঠতেই চোখে জল যোগী আদিত্যনাথের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের ব্যাপারে কথা উঠতেই দেখা গেল তাঁর চোখে জল। নিঃশব্দে রুমাল বের করে চোখ-নাক মুছলেন। কিন্তু তাঁর উত্তর বুঝিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কতটা উগ্র মনোভাব তাঁর। উপস্থিত জনতা হাততালি দিয়ে প্রশংসাও করলেন। উত্তরপ্রদেশের আম জনতার সামনে কিছুটা অন্য রূপ দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।

শুক্রবার লখনৌতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের সঙ্গে ‘যুবা কে মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখছিলেন যোগী। সেই সময় এক পড়ুয়া তাঁকে প্রশ্ন করেন, “জঙ্গি হামলা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি। তারপর আবার সব আগের মতো হয়ে যাচ্ছে। পুরোটাই যেন একটা চেনের মতো। আপনার সরকার এই সমস্যা সমাধানের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে?”

এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে এই প্রশ্নের জন্য ওই পড়ুয়াকে ধন্যবাদ দেন। তারপর বলেন, “কাশ্মীরে যেটা হচ্ছে, সেটা আসলে প্রদীপ নিভে যাওয়ার ঠিক আগের অবস্থা। প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, সেরকমই জঙ্গিদের শেষ সময় এসে গিয়েছে। এই সন্ত্রাসবাদ শেষ করতে মোদী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তারপরেই যোগী বলেন, পুলওয়ামার জামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ও অন্য জঙ্গিদের খতম করেছে ভারতীয় সেনা। এই ব্যাপারে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গও তুলে আনেন তিনি। বলেন, “আমরাও এ রাজ্যে একটা অপারেশন করেছি। পুলওয়ামার হামলার সঙ্গে যুক্ত কিছু লিঙ্ক আমরা পেয়েছিলাম। সেই ব্যাপারেই একটা অপারেশন করা হয়েছে।” যোগীর এই উত্তরের পর হাততালিতে ভরে যায় সভাকক্ষ।

তারপরেই পরের প্রশ্নের আগে যোগী আদত্যনাথকে দেখা যায়, পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ-নাক মুছছেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলওয়ামার হামলায় যে ৪০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবথেকে বেশি উত্তরপ্রদেশের ( ১২ জন )। এই জঙ্গি হামলায় সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে এই রাজ্যের। সবথেকে বেশি রক্ত ঝড়েছে এই রাজ্যের। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও আর পাঁচটা মানুষের মতোই নিজের ইমোশনকে আটকে রাখতে পারলেন না যোগী। তাই সভার মাঝেই তাঁর চোখে দেখা গেল জল।

আরও পড়ুন

গ্রেফতার ডজনখানেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, উত্তেজনা এড়াতে কাশ্মীর উড়ে গেল ১০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী

Shares

Comments are closed.