বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

হিমবাহে ঢাকা পড়েছিল ৫১টা বছর, হিমাচল সীমান্তে মিলল ফৌজি বিমানের ধ্বংসাবশেষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফের মধ্যে থেকে উঁকি দিচ্ছিল প্রপেলারের কিছুটা অংশ। আরও কাছে গিয়ে বায়ুসেনারা নিশ্চিত হন এয়ার প্রপেলারই বটে! বরফ সরাতেই বেরিয়ে পড়ে একটা এয়ারক্রাফ্টের আস্ত কঙ্কাল। ভাঙাচোরা ইঞ্জিন, ইলেকট্রিক সার্কিট, জ্বালানি ট্যাঙ্ক, ককপিটের ভাঙা দরজা। ভেতরে কোনও দেহ নেই। হিমাচলপ্রদেশের লাহুল-স্পিতি জেলায় ঢাকা হিমবাহের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে পড়ে রয়েছে এয়ারক্রাফ্টের এই কঙ্কাল। ৫১ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এএন-১২বিএল-৫৩৪।

১৯৬৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়েছিল বায়ুসেনার এই বিমান। ক্রু মেম্বার, সেনা অফিসার মিলিয়ে যাত্রী ছিলেন ১০০ জন। উড়ানের কিছু পরেই দুর্যোগের মুখে পড়ে বিমান। মুখ ঘুরিয়ে চণ্ডীগড়ের দিকে ফিরে আসছিলেন পাইলট। রোটাং পাসের কাছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এয়ারক্রাফ্টটির। তার পর থেকে আর খোঁজ মেলেনি বিমানের। বড়সড় দুর্ঘটনা যে একটা ঘটেছিল, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন সকলেই। তবে বিমানের ভেঙে পড়া অংশের খোঁজ মেলেনি।

২০০৩ সালে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের একদল অভিযাত্রী প্রথম এক সেনার দেহ খুঁজে পায়। বরফে চাপা পড়ে থাকায় দেহের পচন ধরেনি। পরনের পোশাকও ছিল ঠিক একই রকম। দেহ সনাক্ত করে জানা যায়, সেটি ছিল সেপাই বেলি রামের দেহ। বাকি দেহগুলির খোঁজে তল্লাশি জোরদার হয়। বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড। ২০০৭ সালের, ৯ অগস্ট। রোটাং পাসের কাছেই বরফের স্তর সরিয়ে উদ্ধার হয় আরও তিনটি দেহ। ওই তিনজনই ছিলেন এএন-১২বিএল-৫৩৪ বায়ুসেনার কম্যান্ডার। ২০১৮ সালের, ১ জুলাই ফের এক সেনার দেহ উদ্ধার হয়। সেই দেহটির খোঁজ পেয়েছিলেন কয়েকজন পর্বতারোহী।

বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকা হিমবাহে তল্লাশি শুরু হয় গত ২৬ জুলাই থেকে। ৫২৪০ মিটার উচ্চতার এই হিমবাহের নানা জায়গায় বিমানের ভেঙে পড়া টুকরো পাওয়া যায়। উদ্ধার করে ডোগরা স্কাউট। গত ক’দিনের মধ্যে এয়ারক্রাফ্টের সবটাই উদ্ধার হয়েছে।

Comments are closed.