রবিবার, এপ্রিল ২১

মোদী আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে খুশি হতাম, কিন্তু ওঁর সাহস নেই: শত্রুঘ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূরত্ব তৈরি হয়েছিল গত পাঁচ বছরে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই তাতে সিলমোহর পড়ে যায়। পাটনা সাহিব থেকে বিজেপি শত্রুঘ্ন সিন্‌হার জায়গায় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদকে প্রার্থী করে। সময় নষ্ট না করে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে নিজের কেন্দ্রেই কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়ছেন বর্ষীয়ান এই বলিউড অভিনেতা। দল পাল্টেও নিজের কেন্দ্রে জেতার ব্যাপারে তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী, যে প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শত্রুঘ্ন। বললেন, মোদীর যদি সাহস থাকত, তিনি পাটনা সাহিবে প্রার্থী হতেন। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশ ভালোই লাগত।

সম্প্রতি বিজেপি নেতা সুশীল মোদী পাটনা সাহিবে এক জনসভায় মন্তব্য করেন, দল পাল্টে ভোটে দাঁড়ালেও এ বার আর জিততে পারবেন না শত্রুঘ্ন। তাঁর মন্তব্য, “এখানকার মানুষ মোদীর উপর ভরসা করে শত্রুঘ্নকে চোদ্দর ভোটে জিতিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপির টিকেটে জেতার পর তিনি গত পাঁচ বছরে কী করেছেন, তা সবাই দেখেছে। তাই এ বার আর জিততে পারবেন না তিনি।” বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই বলিউডের বিশ্বনাথ বলেন, “এগুলো সব বাজে কথা। পাটনা সাহিবের মানুষ এ বার দেখিয়ে দেবে আমাকে তাঁরা কতটা ভালোবাসেন। গোটা দেশের মানুষ বিজেপিকে শিক্ষা দেবে।”

তারপরেই প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে তুলে আনেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, “খবর শোনা যাচ্ছিল, বারাণসীর পর দ্বিতীয় কেন্দ্র হিসেবে পাটনা সাহিব থেকে লড়বেন মোদী। সেরকম হলে খুব খুশি হতাম। মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে বেশ ভালোই লাগত। কিন্তু তিনি দাঁড়ালেন না।” এই প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রবিশঙ্কর প্রসাদকেও একহাত নেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, “নিজে না দাঁড়িয়ে এখানে কাকে দাঁড় করালেন মোদী, না যিনি কোনওদিন মিউনিসিপ্যালিটি ভোটেও জিততে পারেননি।” রবিশঙ্কর বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। তারপরেও তাঁকে নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মোদী। এই বিষয়কে নিয়েই কটাক্ষ করেন বিজেপি ছেড়ে সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া এই নেতা।

চোদ্দর ভোটে পাটনা সাহিব থেকে জেতার পরেও মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি শত্রুঘ্নর। তারপর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মোদী ও বিজেপির সমালোচনা করতে থাকেন তিনি। এমনকী ১৯ জানুয়ারি, ব্রিগেডের মঞ্চে বিরোধী দলগুলির সমাবেশেও যোগ দিয়েছিলেন এই নেতা। কিন্তু তারপরেও বিজেপি ছাড়েননি তিনি। বিজেপি তাঁকে বহিষ্কারও করেনি। রবিশঙ্কর প্রসাদকে প্রার্থী ঘোষণার পরেই অবশ্য কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তবে তাঁর কাছে যে আরও অনেক দলের প্রস্তাব ছিল, সে কথাও বলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন বলেছিলেন, “অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মায়াবতী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সবাই আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি দেখি বিজেপির সরাসরি বিরোধিতা করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের আছে। তাই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি আমি।” পাটনা সাহিবে ভোট হওয়ার কথা সপ্তম দফায়, অর্থাৎ ১৯ মে।

আরও পড়ুন

নিজেদের ব্যর্থতা এড়াতেই ‘ইভিএম চুরিতে অভিযুক্তর’ প্রসঙ্গ, কমিশনের চিঠির পাল্টা জবাব চন্দ্রবাবুর

Shares

Comments are closed.