অভিনন্দনের পাঁজর ভেঙেছিল পাকিস্তানের জেলে, অমানুষিক অত্যাচারের মধ্যেই স্ত্রীর সঙ্গে মজা করেছিলেন ফোনে

৬০ ঘণ্টা ওই অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করার পরেও ওয়াঘা বর্ডার দিয়ে পায়ে হেঁটে দেশে ফিরেছিলেন অভিনন্দন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের মিগ ২১ বাইসন জেট যুদ্ধবিমানে উড়ে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিলেন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। কিন্তু ফিরে আসার আগেই বিমান ভেঙে ধরা পড়েন পাক সেনার হাতে। জেলে বন্দি হন। ৬০ ঘণ্টা পরে কূটনৈতিক চাপে অভিনন্দনকে ছাড়তে বাধ্য হয় ইমরান খান সরকার। পাক জেলে নাকি অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছিল তাঁর সাথে। মারের চোটে ভেঙেছিল পাঁজর। কিন্তু তারপরেও স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে মজা করেছিলেন উইং কম্যান্ডার। ভেঙে পড়েননি স্ত্রীও।

    সৌদি আরবের নম্বরে ফোন আসে তনভির কাছে 

    সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনার এক আধিকারিকের মাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ পেয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপথনে ওই আধিকারিক পুরো ঘটনাটা খুলে বলেন। গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভেঙে পড়ে অভিনন্দনের মিগ। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে দেখতে পায়। তারপর পাক সেনার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়।

    ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টা পরে ভারতকে সে খবর জানায় পাকিস্তান। পরের দিন জেলের মধ্যে অভিনন্দনের একটা ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে দেখা যায় চায়ের কাপ হাতে পাক সেনা অফিসারের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তিনি। এই ভিডিও তোলার পরেই নাকি অভিনন্দনের বাড়িতে ফোন করা হয় পাক সেনার তরফে।

    অভিনন্দনের স্ত্রী তথা ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন পাইলট তনভি মারওয়া দেখেন, সৌদি আরবের নম্বর থেকে ফোন এসেছে। ফোন তুলেই তিনি শোনেন অভিনন্দনের গলা। কিন্তু স্বামীর গলা শুনে মোটেই নাকি বিচলিত হননি তাঁর স্ত্রী। পাক সেনা চেষ্টা করেছিল, বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলিয়ে ইমোশনাল করে দিয়ে অভিনন্দনের কাছ থেকে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া। কিন্তু তা তো হয়নি, উল্টে স্বামী-স্ত্রীর মজার কথায় অবাক হয়েছিল পাক সেনা।

    পাঁজর ভেঙেছিল জেলের মধ্যেই 

    ভারতীয় বায়ুসেনার ওই আধিকারিক জানান, অভিনন্দন ফেরার পরে আমরা দেখছিলাম ওর পাঁজর ভেঙে গিয়েছে। মুখেও অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন। পাক সেনার তরফে জানানো হয়েছিল, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নামার পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে মার খেয়েই পাঁজর ভেঙেছে অভিনন্দনের। কিন্তু পুরো ঘটনা পরে জানা যায়, অভিনন্দন যখন ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন নাকি এক অফিসার ক্রমাগত তাঁকে ঘুষি মারতে থাকে। তাঁকে চড়ও মারা হয়। এই ঘুষির চোটেই পাঁজর ভাঙে অভিনন্দনের।

    জানা গিয়েছে, ফোনের ওপার থেকে তনভি বুঝতে পারেন তাঁর স্বামীকে মারা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও বিচলিত না হয়ে অভিনন্দনের সঙ্গে মজার যে কথা তিনি বলেছেন সেটাই তুলে ধরেছেন ওই আধিকারিক। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও ফোনের গোটা কথোপকথন রেকর্ড করে নিয়েছিলেন তনভি।

    আসার সময় রেসিপি নিয়ে আসবে 

    প্রথমেই তনভি জিজ্ঞাসা করেন, ছেলেমেয়েদের কী বলবেন? উত্তরে অভিনন্দন বলেন, “ওদের বলবে বাবা জেলে রয়েছে।” তারপরে তনভি জিজ্ঞাসা করেন ভিডিওতে অভিনন্দনকে যে চা খেতে দেখা গিয়েছে সেই চা কেমন ছিল? অভিনন্দন বলেন, “ভাল।” তাতে স্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন তিনি যে চা বানান তার থেকেও ভাল? উত্তরে পাকিস্তানের জেলে বসে অভিনন্দন বলেন, “হ্যাঁ, এটা আরও ভাল।” তখন তনভি হেসে বলেন, “তাহলে আসার সময় রেসিপি নিয়ে এস।”

    একথা বলে বায়ুসেনার ওই আধিকারিক বোঝাতে চেয়েছেন অভিনন্দন ও তাঁর স্ত্রীর মানসিক দৃঢ়তার কথা। ওই পরিস্থিতিতেও ভয় পাননি তাঁরা। স্বাভাবিক কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষকে কোনও তথ্য দেননি। অভিনন্দনের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য তাঁকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারা হয়েছিল। এমনকি প্রথম ২৪ ঘণ্টা উজ্জ্বল আলো ও জোরে মিউজিকের মধ্যে রাখা হয়েছিল তাঁকে। মানসিকভাবে দুর্বল করার সব চেষ্টা করেছিল পাক সেনা। কিন্তু দুর্বল হননি তিনি। ৬০ ঘণ্টা ওই অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করার পরেও ওয়াঘা বর্ডার দিয়ে পায়ে হেঁটে দেশে ফিরেছিলেন অভিনন্দন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More